| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

মোঃ জালাল হোসেন, পানছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ খাগড়াছড়ির সম্ভাবনাময় উপজেলা।পাহাড়ের সবুজ হাতছানি, মেঘের আনাগোনা, স্বচ্ছ জলরাশি, ঘন অরণ্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অপূর্ব সমাহার—প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ এ জনপদ। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে দেশের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পানছড়ি।

পানছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ মায়াবিনী লেক। উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের কংচাইরী পাড়ায় পাহাড়বেষ্টিত এই লেকটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। চারপাশের সবুজ পাহাড়, শান্ত জলরাশি, ছোট ছোট দ্বীপ এবং নৌভ্রমণের সুযোগ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

পানছড়ির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ শান্তিপুর অরণ্য কুটির। প্রায় ১৮০ একর পাহাড়ি বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিলনস্থল। ঘন সবুজ অরণ্যের মাঝে অবস্থিত বিশাল বুদ্ধমূর্তি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এখানে প্রকৃতির নীরবতার পাশাপাশি পাওয়া যায় মানসিক প্রশান্তির আবহ।

এ ছাড়া পানছড়ির মায়াকানন, পানছড়ি রাবার ড্যাম, চেঙ্গী নদীর তীর, পাহাড়ি পথ, সবুজ বনভূমি ও গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্য পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বর্ষায় পাহাড়ের সবুজ রূপ, শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি এবং বিকেলের সোনালি আলোয় পাহাড়ের দৃশ্য এ অঞ্চলকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।

শুধু প্রকৃতিই নয়, পানছড়ি শিক্ষা বিস্তারেও নিজস্ব পরিচয় বহন করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বনামধন্য কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়,পানছড়ি সরকারি কলেজ, ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, পূজগাঙ মুখ উচ্চ বিদ্যালয়, লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এ জনপদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও পানছড়ি সমৃদ্ধ। শান্তিপুর অরণ্য কুটির ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়। উপলছড়ি বৌদ্ধ বিহার, নালকাটা আম্রকানন জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদ এ অঞ্চলের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাসে পানছড়ি হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক জনপদ। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। প্রকৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনধারার এই সমন্বয় পর্যটকদের কাছে পানছড়িকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে পানছড়িতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, পাহাড়ি ভিউপয়েন্ট, ইকো-ট্যুরিজম, স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন এবং গ্রামীণ পর্যটনের ব্যাপক বিকাশ সম্ভব। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

পানছড়ির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষ। পাহাড়ের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সৌন্দর্য, মায়াবিনী লেকের শান্ত জলরাশি, অরণ্য কুটিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞানচর্চা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার সহাবস্থান—সব মিলিয়ে পানছড়ি যেন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের জনপদ।

যথাযথ পরিকল্পনা, প্রচার ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পানছড়ির এই সম্ভাবনাগুলো বিকশিত হলে একদিন এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে পানছড়ি এগিয়ে যাক সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির পথে।

গোবিন্দগঞ্জে জাল নথি তৈরি করে মিথ্যা মামলা করায় বাদীর কারাদন্ড

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল নথি তৈরি করে একযুবকে বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী মোছাঃ নুরহাত জাহান লিজা (১৮) কে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে.এম গালিব হাসান এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইড় আমবাড়ি গ্রামের হামিদুর হক সরকারের মেয়ে নুরহাত জাহান লিজা ভূয়া জন্ম নিবন্ধন এবং ভূয়া কাবিননামা তৈরি করে তৌফিক হাসান সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানিকালে জন্ম নিবন্ধন, কাবিননামা ভূয়া প্রমাণিত হয়। কাবিননামারে ১৫নং কলামে তাৎক্ষণিক দেনমোহর অংকে ২হাজার টাকা এবং কথায় ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও কাবিননামায় বিতর্কিত কথা উল্লেখ থাকায় এবং কাজীর স্বাক্ষর না থাকায় দাখিলকৃত সমস্ত প্রমাণাদি ভূয়া প্রমাণিত হয়। ফলে মামলাটি বাতিল করে আসামী তৌফিক হাসান (২১), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং মোছাঃ টপি বেগম (৪৫) কে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। তাদের সকলের বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখাল বুরুজ মিয়াপাড়া গ্রামে।

জাল নথি তৈরি করে যৌতুক নিরোধ আইনে প্রতারণামূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী মোছাঃ নুরহাত জাহান লিজা (১৮) কে ৭ দিনের বিনা শ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও বাদী পক্ষের আইনজীবি ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সহকারী এপিপি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ ধরণের প্রতারণামূলক মামলা অন্যকে হয়ারানী করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এটা বিজ্ঞ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এই ধরণের মামলায় বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট ন্যায় বিচার করেছেন।

সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির উদ্যােগের উন্নয়ন কার্যক্রম

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

বিশেষ প্রতিনিধি: 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি) দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় তাদের সাম্প্রতিক ও চলমান প্রধান ইতিবাচক কার

সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের ফলে এই দুর্গম পাহাড় ও বনাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ সহজ হয়েছে, যা সশস্ত্র অপরাধী চক্রের আধিপত্য দূর করে সরকারি পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে।

সড়কগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান সহজ করছে।

২৬ ইসিবি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত ও দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং দেশীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি-বিলাইছড়ির মতো প্রত্যন্ত এলাকায় সীমান্ত সড়ক ও ক্যাম্পের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারা সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করছে।

সামগ্রিকভাবে, ২৬ ইসিবি শুধুমাত্র একটি প্রকৌশল ব্যাটালিয়ন হিসেবেই নয়, বরং অপরাধপ্রবণ ও পিছিয়ে পড়া জনপদকে মূল ধারার উন্নয়নের সাথে যুক্ত করতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ তা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) কর্তৃক ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধমে ০৩ জুলাই ২০১৯ তারিখে সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি সাইচল-বড়খলি-থেগামুখ) নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দূর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি প্রতিকূল আবহাওয়া, ভূমিধস ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল সদস্যরা এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন।

জনকল্যানমূলক কাজের অংশ হিসেবে ৩টি যাত্রী ছাউনি ০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন স্থানে ০৯টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭০৬৮০ টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে।

এই ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৬ ইসিবি কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কার ও সংস্করণের কাজের জন্য মোট আট বান টিন অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্প্রীতির অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

শিক্ষার আলো যাতে দূর্গম পাহাড়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, সেই উদ্দেশ্যে থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাকে আরও আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে পারছে এবং একই সাধে দুজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার যাবতীয় দায়িত্ব ২৬ ইসিবি কর্তৃক গ্রহণ করা হয়েছে।

থুমপাড়াতে পূর্বে কোনো খেলার মাঠ ছিল না। মাঠ না থাকার কারণে এলাকার কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। পরবর্তীতে ২৬ ইসিবির উদ্দোগের মাধ্যমে ঘুমপাড়াতে খেলার মাঠ তৈরী করা হয়েছে, যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা তাদের মনকে প্রফুল্ল রাখতে পারে।

থুমপাড়া কার্বারী বলেন, আমরা আগে কোন দিন রাজস্থলী চন্দ্রঘোনা, চট্রগ্রাম যেতে পারিনি, বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মহাযজ্ঞ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করে আমাদের যাতায়াত ও উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা, বিভিন্ন প্রকার পণ্য চট্রগ্রাম ও রাঙ্গুনিয়াতে সরবরাহ করে থাকি। অপর দিকে আমার এলাকায় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিল। তার বিষয়ে আমরা সাইসল ক্যাম্প অধিনায়ক কে বিষয়টি জানানোর পর তিনি ২৬ ইসিবির জোন কমান্ডারের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিপ্যাড করে ঢাকা সি এম এস হাসপাতালে ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লে, কর্ণেল আবদুল্লাহ আল মাসুদ এর  নির্দেশে  চিকিৎসা, ঔষধ পত্র বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করে সুস্থ হওয়ার পর আজ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে পরিবার পরিজন নিয়ে।

অপরদিকে ২৬ ইসিবির সহযোগিতায় বিহার নির্মাণের জন্য টেউটিন বিতরণ করা হয়। যাতে বৌদ্ধ ধর্মীয় যে কোন আচর অনুষ্টান রীতিনীতি পালন করতে পারে।

অপর দিকে বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলে ২৬ ইসিবি কর্তৃক সোলার প্যানেল স্থাপন, ৪ টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে এবং আরামদায়কভাবে করা সম্ভব হয়। এরই পাশাপাশি মাঠ তৈরী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে জার্সি বিতরণসহ নানা ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, এ দুর্গম পাবর্ত্য অঞ্চলে কোন স্কুল খেলার মাঠ, ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছিলনা। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের মাঝে শিক্ষা প্রতিষ্টান সূপীয় পানির ব্যবস্থা সোলার সিস্টেম ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের কে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এ ধরণের ইতিবাচক কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে অদুর ভবিষৎ এ দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল একটি সমৃদ্ধি বাংলাদেশ রুপান্তর হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দুর্গম থুমপাড়ায় নারী পুরুষ শিশুদের  চিকিৎসা সেবা ও ত্রান বিতরণ অব্যাহত আছে।

সীমান্ত প্রকল্পের আওতায় (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া- থাচ্চি-লইতংপাড়া থেগামুখ) শীর্ষক প্রকল্প ১৩০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১ম পর্যায়ে ইতিমধ্যে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ২য় পর্যায়ে বগাখালী হতে করল্লা ছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিঃ মিঃ কাজ চলমান রয়েছে। ৩য় পর্যায়ে করল্লাছড়ি হতে যেসামুখ পর্যন্ত ২৬ কিঃমিঃ এবং অদয়াবাব হতে থালিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিঃমিঃ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এই রাস্তা তৈরীর ফলে একটি নিরবিচ্ছিন্ন রোড কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপিত করা হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐতিহাসিক চেতনায় কাপ্তাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১০টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষ ‘কিন্নরী’-তে এই সভা আয়োজিত হয়। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রায়হানুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরনাহার বেগম, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।​ সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দিনটি ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া, জাতীয় জীবনে এই দিবসের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।সভা শেষে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সভার সভাপতি।

×