| ৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বিষু মেলা’ উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদমে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ‎‎সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার পানবাজারস্থ মালিপ্রু পাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে ঘিলা খেলার ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা সম্প্রীতির মিলন-মেলায় পরিণত হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনাজোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি,পিএসসি। ‎এছাড়াও বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শান্তিমনি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক দীপু তঞ্চঙ্গ্যা, বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ইয়ংলোক ম্রোসহ কারবারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

‎উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’। জোন কমান্ডার আগ্রহভরে এই লোকজ খেলা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎তিনি বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। সকল সম্প্রদায়ের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” ‎ ‎উৎসবকে কেন্দ্র করে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল ও সতর্ক উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

‎এছাড়া উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এলাকায় এক আনন্দঘন ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ‎ ‎

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই দুর্গম এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে এমন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর এ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচে বরণ, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার যাজক অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নপূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার যাজক অভিষেক উপলক্ষে শুরু হয়েছে নানা ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচ, ফুলের মালা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।

এদিন থানচি উপজেলার শান্তিরাজ ক্যাথলিক ধর্মপল্লী থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বলিপাড়া ক্যাথলিক মিশনের নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচ ও ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি, বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের যাজক, সিস্টার ও ব্রাদারগণ, বিভিন্ন এলাকার কর্মরত ধর্ম প্রচারক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত কারবারি, সাধুমণির মা-বাবা, ভাই-বোনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আগত গণ্যমান্য অতিথি ও ব্যক্তিবর্গকে সুগন্ধি তেল ও পবিত্র পানি দিয়ে পা ধুয়ে-মুছে পবিত্রতা, বিনয় ও সম্মানের প্রতীকী অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর পবিত্র আরাধনা, ধর্মীয় শোভাযাত্রা এবং ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ধর্মযাজক, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একে একে তাঁর কাছে এসে আশীর্বাদ প্রদান করেন। প্রিয়জনদের ভালোবাসা, আবেগ ও আনন্দে পুরো আয়োজনজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি সমাপনী বক্তব্য ও আশীর্বাদ প্রদান করেন। এর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

আগামীকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার মূল যাজক অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

এদিকে সাধুমণি ত্রিপুরার বড় ভাই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকেই সাধুমণিকে অনেক প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে। তাঁদের বাবা মারা যাওয়ার সময় সাধুমণি ছিলেন অনেক ছোট। নানা কষ্টের মধ্যেও তাঁর এই পর্যায়ে পৌঁছানো পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, সে জীবনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সে শুধু নিজের জন্য যাজক হয়নি, পুরো জাতি ও মণ্ডলীর সেবার জন্য ফাদার হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই তার জন্য প্রার্থনা করব, যেন সে মানুষের সেবা ও ধর্মীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারে।

উল্লেখ্য, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার এই যাজক অভিষেককে ঘিরে ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই অভিষেক পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অঙ্গনে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ে ৬০ বননির্ভর পরিবারের মাঝে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের নগদ অর্থ বিতরণ

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাইয়ে ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়ার বননির্ভর হতদরিদ্র ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত পাহাড়ি-বাঙালি ৬০ জন নারী সদস্যের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ইইআরডি-সিএইচটি (EERD-CHT) প্রকল্পের সাব-প্রকল্প “জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প”-এর আওতায় এই নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ​অনুষ্ঠানে বকুল তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউএনডিপি প্রতিনিধি চম্পা চাকমা। এ সময় রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তা কামনাশীষ খীসা, পাড়ার কার্বারী সুইহলাচিং মারমা, বিসিজি-এর সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিপন মারমা এবং স্থানীয় থুইসাই মারমাসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের “কাপ্তাই-রাঙামাটি সদর হাতি করিডোর যৌথ বিসিজি”-এর ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়া ও মুসলিম পাড়ার ৬০ জন নারী সদস্য এবং স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা বক্তব্য বলেন, বননির্ভর হতদরিদ্র ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত মোট ৬০টি পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে উপকারভোগী নারীরা শাকসবজি চাষাবাদ এবং হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় নারীরা নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও সুদৃঢ় করতে পারবেন বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিরা।

রুমার দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সুবিধার্থে ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁদের গাড়ি (জিপ) প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর রুমা জোন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া ও হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম জনপদের বাসিন্দারা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে রুমা থেকে মুননুয়াম পাড়া সড়কে নিয়মিত যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয়দের কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এসব প্রয়োজন মেটাতে হতো তাঁদের। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তি বাড়ত।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের এসব সমস্যা নিরসন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে গাড়িটি প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটি মূলত মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি আশপাশের আরও ১০টি পাড়ার মানুষও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহন সুবিধা নিতে পারবেন। এতে মোট ১৪টি পাড়ার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমে আসবে। ফলে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাড়িটির সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে, যাতে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এদিকে, স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। জনকল্যাণমূলক এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

×