| ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

 

‎আনোয়ার হোসেন, ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের আওতাধীন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‎

‎বুধবার (১৭ জুন) সকালে ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজক সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে সাজেক ও রুপকারী ইউনিয়নেও এ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হবে। ‎২৪ পদাতিক ডিভিশন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে বছরব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় তিন লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। ‎‎বৃক্ষরোপণ অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

‎এ সময় বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ ভূমিধস প্রতিরোধ, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‎তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। ‎কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়— “একটি গাছ একটি প্রাণ, সবুজ হোক বাংলাদেশের প্রতিটি স্থান।” ‎

‎সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ‎

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন সম্পন্ন

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাপ্তাই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন (১১ আর ই)-এর ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনসাধারণের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। ​

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী চলা এই মেডিকেল কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ​১১ আর ই ব্যাটালিয়নের অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার এবং একদল দক্ষ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্প পরিচালিত হয়। ক্যাম্পে আগত রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ প্রদান করা হয়।

এছাড়া বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টির চাহিদা এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে স্থানীয়দের বিশেষ সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। ​সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেলেন।

স্থানীয় সুবিধাভোগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এমন উদ্যোগ পাহাড়ে সম্প্রীতি ও আস্থার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক কল্যাণে রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ​

 

ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জনসাধারণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।

জনগণের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবে স্থানীয় গণমাধ্যম

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঘাটতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যম মাঠপর্যায়ের মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে।

২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) খাগড়াছড়ির গুইমারায় ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গুইমারা উপজেলা প্রশাসন ও রামগড় তথ্য অফিস যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা বাপ্পী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না। সভা সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের তথ্য কর্মকর্তা জি এম সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, রামগড় তথ্য অফিসের তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপ্পী চক্রবর্তী। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের করণীয় এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক শ্যামল রুদ্র, নিজাম উদ্দিন লাভলু, মোশাররফ হোসেন, জসিম উদ্দিন জয়নাল, আবদুল আলী, মীর বাবলু, সাইফুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।]

এসময় সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিয়মিত মাঠে কাজ করেন। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, মানুষের ভোগান্তি ও প্রত্যাশা তাঁদের প্রতিবেদনে সহজে উঠে আসে। এসব তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছালে ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়। বক্তারা আরো বলেন, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

মতবিনিময় সভায় রামগড়, গুইমারা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ওসি মানস বড়ুয়ার বিদায় মুহূর্তে সাক্ষাৎ রুমা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সদস্যরা

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়ার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রুমা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রুমা থানায় এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবনির্বাচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওসি মানস বড়ুয়া সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য সংবাদ করলে হবে না। এমন সংবাদ করতে হবে, যা মানুষের উপকারে আসে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে এবং সব সময় ন্যায় ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রুমা প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন ওসি মানস বড়ুয়া। তিনি প্রেসক্লাবের কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন এবং আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রুমায় একটি কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি ও বৈষম্য পরিহার করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই হাতে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা থাকলেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব, নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া সাংবাদিকতায় আসা উচিত নয়। বিদায়ী বক্তব্যে রুমার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, রুমা উপজেলার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর ভালো লেগেছে। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি রুমার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা তিনি সবসময় মনে রাখবেন।

সাক্ষাৎকালে রুমা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

×