| ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে মুঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা ইউনিয়নের ফ্রেশ বাজার এলাকায় দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল আমিন পিএসসি নির্দেশনায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।

এতে তিন শতাধিক অসহায় পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে অনেক সময় অর্থ ও যাতায়াতের সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বাড়ির কাছাকাছি বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

দীঘিনালা জোনের ক্যাপ্টেন মু: শায়খউদ্দীন সাকলাইন বলেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রামগড়ে অসহাদের মাঝে ৪৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক অনুদান, শিক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রামগড় জোন সদরে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি-উপস্থিত থেকে এ সহায়তা বিতরণ করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪৩ বিজিবি,র সহকারী পরিচালক)(এডি) শামছুল আলম সহ, বিজিবি,র পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রমের আওতায় রামগড় উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রামগড় ৪৩ বিজিবি, র জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৪৩ বিজিবি। এবং এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও অবাঙালি সকল জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সকল সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মারমাদের প্রবারণা পূর্ণিমা ফানুস উড়ানোর মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙালহালিয়া ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা বা মারমাদের ওয়াগ্যাই ফানুস উড়িয়ে ২দিন ব্যাপী সম্পন্ন করা হয়েছে। ২৭ তারিখ সকাল ৯ টায় দায়ক দায়িকারা ছোট বড় নর নারী বৌদ্ধ মারমা সম্প্রসম্প্রদায়ের বিহারে দলবল হাতে টিফিন কেরি নিয়ে ফলফ্রুট মিষ্টি জাতীয় জিনিস সহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আদোমং মারমা সহধর্মিণী ক্রানুবাই চৌধুরাণী বিহার পরিচালনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যচিং মারমা ৩২০ নং কাকড়াছড়ি মৌজা প্রতিনিধি আর্ন্তজার্তিক পিচ এ্যাম্বেসেডর চাইথোয়াইমং মারমা সম্পাদক বিচার পরিচালনা কমিটি মংসাথোয়াই মারমা সাবেক সম্পাদক বিহার কমিটি উচিমং চৌধুরী প্রবীণ মাষ্টার মংহলাঅং সাবেক বিহার পরিচালনা কমিটি ঞোমং মারমা দায়ক উষাবাই মারমা মিনু মারমা প্রমূখ।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ৩ মাস বর্ষাবাস শ্রামণ ভিক্ষুগণ পালন করছে, পাশাপাশি সন্ন্যাসী উপাসক উপাসিকাসহ নিরামিষ খাবার খেতে দেখা যায়। মাছ মাংস খাবার হতে বিরত থাকে গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হিসাবে ৩ মাস ওয়া বা বর্ষবাস পালনীয়। প্রতিটি পাড়া হতে যুবক যুবতী প্রতি বছর ন্যায় এবছরও প্রবারণা উৎসব সারারাত বিভিন্ন মারমা পিঠা তৈরি করছে। এরপর সকাল বেলায় পাড়াতে গিয়ে এসব তৈরি পিঠা মানুষের কাছে বিতরণ করা হয়েছে।

দুপুরে পিন্ড দান, পানীয় জলের দান, টাকা পয়সা দান, ফলমূল দান, মিষ্টি জাতীয় দান, ছোয়াইং দান সহ দুপুরে আহার ভোজন করা হয়। বিকাল ৪টায় বিহার মহাথেরো উ: ঞানাওয়াইসা ভিক্ষু ধর্মের দেশনায় বৌদ্ধ জাতক পঞ্চশীল অস্টশীল গ্রহণ করেন। মোমবাতি প্রজ্জলীন পানীয় দান সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোর হয়।

×