পাহাড়কে আরও সবুজ শ্যামল ও সুন্দর পরিবেশে বেষ্টিত রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ লংগদু শাখার উদ্যোগে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সোনাই ৫নম্বর ব্লক বাজার প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়।
এসময় চারা বিতরণকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর এ কর্মসূচি পালন করে আসছি। পিসিসিপি সর্বদা পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া নির্যাতিত মানুষের কথা বলে এবং মানবিক কাজগুলো করে থাকে। পিসিসিপি শিক্ষা বৃত্তি সহ আবাসন ব্যবস্থা, ফ্রি পড়াশুনা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করে।
কর্মসূচিটি পিসিসিপি লংগদু শাখার সভাপতি সুমন তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের তত্বাবধানে উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে সোনাই এলাকার শতাধিক মানুষের মাঝে এসব চারা বিতরণ করা হয়েছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার টিএনটি কলোনি মোড়সংলগ্ন মারাত্মক পাহাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি)।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের সহকারী পরিচালক (এডি) হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি ভারতীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং শতাধিক কার্টন অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করেন।
অভিযানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে ছিলেন ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোন কমান্ডার বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান, অস্ত্র পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুরুষ—শব্দটি শুনতে খুব সাধারণ। কিন্তু এই একটি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য গল্প, অগণিত ত্যাগ, না-বলা কষ্ট আর হাজারো দায়িত্বের ভার।
একজন পুরুষ আসলে কার জন্য বেঁচে থাকে?
নিজের জন্য, নাকি পরিবারের জন্য?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেক পুরুষের কাছেই স্পষ্ট নয়। কারণ জীবনের একটা সময় পার হওয়ার পর একজন পুরুষ নিজের স্বপ্নের চেয়ে পরিবারের স্বপ্নকে বড় করে দেখতে শেখে। নিজের চাওয়া-পাওয়াকে একপাশে রেখে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ছুটে বেড়ায়।
তার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে না। আজ এক শহরে, কাল অন্য শহরে। কখনো পাহাড়ে, কখনো সমতলে। কখনো নির্মাণশ্রমিক, কখনো দিনমজুর, কখনো চালক, কখনো ব্যবসায়ী, কখনো চাকরিজীবী। কেউ জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমায়, কেউ আবার নিজের বাড়ি থেকে বহু দূরের কোনো অচেনা জনপদে গিয়ে জীবন কাটায়। তার একটাই উদ্দেশ্য—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।
কিন্তু এই হাসি ফোটাতে গিয়ে কত পুরুষ যে নিজের জীবনের হাসিটুকুই হারিয়ে ফেলে, তার হিসাব কে রাখে? প্রতিদিন আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাই—কেউ কর্মস্থলে মারা গেছে, কেউ সড়ক দুর্ঘটনায়, কেউ পাহাড়ি পথে, কেউ অচেনা এলাকায়, কেউ আবার সন্ত্রাস, ডাকাতি, অপহরণ কিংবা নানা ধরনের বিপদের শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। তাদের অনেকের শেষ ঠিকানাটাও হয়তো পরিবার জানত না।
যে মানুষটি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, সে হয়তো আর কোনোদিন ফিরে আসেনি। যে সন্তান বাবার ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল, সেই অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হয়নি। এভাবেই একজন পুরুষ কখনো কখনো পরিবারের জন্য যাযাবর হয়ে যায়। তার নিজের কোনো ঠিকানা থাকে না; পরিবারের ঠিকানাটাই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা।
পুরুষকে কখনো কখনো অভিনেতাও হতে হয় জীবনের পথ সবসময় মসৃণ নয়। কখনো কখনো একজন পুরুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে নিজের ভয় প্রকাশ করার সুযোগও থাকে না।
বিপদের সময় তাকে সাহসী হতে হয়। ভয়ের সময় তাকে নির্ভীক সাজতে হয়। চোখে পানি থাকলেও মুখে হাসি রাখতে হয়। নিজের ভেতরের আতঙ্ক লুকিয়ে রেখে অন্যদের সামনে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতে হয়।
কখনো কখনো বেঁচে থাকার জন্য সত্যিই একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে হয় তাকে।
কারণ সে জানে—সে ভেঙে পড়লে তার পরিবারও ভেঙে পড়বে। তাই সে হাসে। মানুষ ভাবে, লোকটা খুব সুখে আছে। কেউ জানে না—সেই হাসির আড়ালে কত রাতের কান্না জমে আছে। পুরুষের কান্নারও একটি ঠিকানা আছে। একজন পুরুষকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়—‘পুরুষ মানুষ কাঁদে না।’
কিন্তু কে বলেছে পুরুষের চোখে পানি আসে না?
তারও তো কষ্ট হয়। অপমান হয়। অভিমান হয়। ভালোবাসা পাওয়ার ইচ্ছা হয়। কখনো কখনো সে একা হয়ে যায়। কখনো নিজের কাছেই নিজেকে অপরিচিত মনে হয়।
জনসম্মুখে অপমানিত হওয়ার পরও তাকে মাথা উঁচু করে হাঁটতে হয়। কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পরও পরদিন আবার কাজে যেতে হয়। অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেও সন্তানদের সামনে বলতে হয়—‘সব ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু সত্যিই কি সব ঠিক থাকে? সবসময় নয়।
অনেক পুরুষ নিজের কষ্টের কথা পরিবারের কাছেও বলে না। কারণ সে ভয় পায়—তার দুর্বলতা প্রকাশ পেলে পরিবার হয়তো আরও দুশ্চিন্তায় পড়বে।
তাই নিজের কষ্ট নিজের বুকের ভেতরেই চাপা দিয়ে রাখে। হাসে। কাজ করে। সংসার চালায়। আর ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দে ভেঙে পড়ে।
লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী
দিনের শেষে পুরুষেরও একটি ঘর দরকার একজন পুরুষ সারাদিন পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করে। জীবিকার জন্য যুদ্ধ করে। মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। অপমান সহ্য করে। ব্যর্থতার সঙ্গে লড়াই করে। দিন শেষে সে যখন ঘরে ফেরে, তখন সে যুদ্ধ নয়—শান্তি চায়। সে চায়, কেউ তাকে বলুক—
‘অনেক কষ্ট হয়েছে? একটু বিশ্রাম নাও।’ সে চায়, কেউ তার ক্লান্ত মুখটা বুঝুক। কিন্তু কখনো কখনো ঘরে ফিরেও সে অভিযোগ, অভিমান, চাওয়া-পাওয়া কিংবা নানা অশান্তির মুখোমুখি হয়। তখন সে কোথায় যাবে? বাইরের পৃথিবী তাকে গ্রহণ করে না, ঘরের ভেতরেও যদি শান্তি না থাকে—তাহলে একজন মানুষ দাঁড়াবে কোথায়? হাজার মানুষের ভিড়েও তখন সে একা হয়ে যায়। এই একাকিত্ব খুব ভয়ংকর।
সম্পর্কের মধ্যে সম্মান থাকুক। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। অভিমান থাকবে, রাগ থাকবে, ভুল বোঝাবুঝিও থাকবে। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা উচিত সম্মান, বিশ্বাস ও ভালোবাসা। একজন স্ত্রী যেমন স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন, তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রীর কাছ থেকে সম্মান, বিশ্বাস ও মানসিক আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখেন।
স্বামীকে শুধু সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তারও একটি মন আছে। তারও ক্লান্তি আছে। তারও কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন আছে। তারও প্রয়োজন— একজন মানুষ, যার কাছে সে নিজের সব কষ্ট খুলে বলতে পারে।
আর প্রিয় পুরুষ, তুমিও মনে রেখো—তোমার স্ত্রীও একজন মানুষ। তারও কষ্ট আছে, তারও প্রত্যাশা আছে। সংসার সুন্দর করতে হলে শুধু এক পক্ষের ত্যাগ যথেষ্ট নয়; দুজনকেই একে অপরকে বুঝতে হবে। অবহেলা নয়, হোক বোঝাপড়া। কোনো সম্পর্ক একদিনে ভেঙে যায় না। ছোট ছোট অবহেলা, না-বলা কথা, ভুল বোঝাবুঝি, অসম্মান আর জমে থাকা অভিমান একসময় সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।
তাই সম্পর্ক ভাঙার আগে কথা বলুন। অভিমান জমিয়ে রাখার আগে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। রাগের সময় সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটু সময় নিন। কারণ কখনো কখনো একটি সম্পর্ক বাঁচিয়ে দিতে পারে মাত্র একটি আন্তরিক কথা— ‘আমি তোমাকে বুঝতে চেষ্টা করছি।’ পুরুষও মানুষ।
সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই— পুরুষ কোনো যন্ত্র নয়। সে শুধু টাকা উপার্জনের মেশিন নয়। সে পরিবারের দায়িত্ব বহন করে ঠিকই, কিন্তু তারও অনুভূতি আছে। সে কাঁদে, তবে অনেক সময় লুকিয়ে কাঁদে। সে কষ্ট পায়, তবে অনেক সময় প্রকাশ করে না। সে ভেঙে পড়ে, তবে আবার নিজেকেই জোড়া লাগিয়ে পরদিন কাজে বেরিয়ে যায়। এই কারণেই হয়তো পুরুষকে কখনো পাগল, কখনো অভিনেতা, আবার কখনো যাযাবর মনে হয়।
সে পাগল—কারণ পরিবারের সুখের জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেয়। সে অভিনেতা—কারণ নিজের কষ্ট লুকিয়ে অন্যদের সামনে হাসতে জানে। সে যাযাবর—কারণ পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় ছুটে বেড়ায়। তবু দিন শেষে সেই পুরুষেরও একটি আশ্রয় দরকার। একটি ঘর দরকার। একজন আপন মানুষ দরকার।
যার কাছে সে কোনো অভিনয় করবে না। যার সামনে সে শক্ত পুরুষ হওয়ার মুখোশ খুলে রাখতে পারবে।
যার কাঁধে মাথা রেখে বলতে পারবে— ‘আমি ক্লান্ত।’
আর সেই মানুষটি যেন উত্তর দেয়— ‘এসো, এবার একটু বিশ্রাম নাও। আমি আছি।’ হয়তো একজন পুরুষের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু নেই।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবৈধ মাদক-কিশোর গ্যাং বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে থানা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে আড্ডারত,অহেতুক ঘোরাঘুরি ও ক্যারাম খেলাসহ বিভিন্ন কারণে ১৯ কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে সদাচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চম্পটপাড়া, প্রভাত কারবারি পাড়া, হাফিজের দোকান, আলীর বাজার, চিনারী বাজার এলাকা,আবাসিক, রেফারপাড়া বাজার, চৈক্ষ্যং রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশ পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন, এসআই উপেন বড়ুয়া, এসআই নিশাত বড়ুয়া, এসআই আবু সাইদ, এসআই জহিরুল ইসলাম, এসআই মিয়েল চাকমা, এএসআই রাজিব, এএসআই মফিজ, এ এস আই মাহফুজসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, ঘোরাঘুরি ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজরদারি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা ও বিভিন্ন অভিযোগে ১৯ কিশোরকে সতর্কতামূলক ভাবে আটক করা হয়। পরে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দও থানায় উপস্থিত ছিলেন।
থানায় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন, ওসি মো. শাহেদ পারভেজ। তিনি কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভাবে নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিত ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে উপস্থিত অভিভাবকেরা পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, “কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এ ধরনের অভিযানের মূল লক্ষ্য। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কিশোরদের প্রতি আইনগত ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে তাদের ও অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আটক কিশোরদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সদাচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী এ ধরনের বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।