| ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্য

ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্য

 

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী ভাইয়ের লাশ ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে)২৬খ্রিঃ ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন—-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাশেদ, মোঃ শাহেদ, মোঃ সিরাজ ও মোঃ শহিদ। তারা সবাই আবদুল মজিদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই ওমানে থাকতেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫মে দেশে ফেরার কথা ছিল।

দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তারা মারা যেতে পারেন। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে, একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তারা মারা যেতে পারেন। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে, একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

রুমার দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’

ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্য

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সুবিধার্থে ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁদের গাড়ি (জিপ) প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর রুমা জোন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া ও হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম জনপদের বাসিন্দারা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে রুমা থেকে মুননুয়াম পাড়া সড়কে নিয়মিত যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয়দের কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এসব প্রয়োজন মেটাতে হতো তাঁদের। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তি বাড়ত।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের এসব সমস্যা নিরসন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে গাড়িটি প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটি মূলত মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি আশপাশের আরও ১০টি পাড়ার মানুষও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহন সুবিধা নিতে পারবেন। এতে মোট ১৪টি পাড়ার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমে আসবে। ফলে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাড়িটির সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে, যাতে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এদিকে, স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। জনকল্যাণমূলক এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

​হারুবিল বনবিহারে ৩২তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত: পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্য

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ও বৃক্ষের ছায়াতলে ঘেরা পানছড়ির লোগাং নদীর নিকটবর্তী চেমী ইউনিয়নে অবস্থিত হারুবিল বনবিহারে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ৩২তম কঠিন চীবর দান। সাম্য, মৈত্রী, করুণা, অহিংসা ও বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ-শান্তি ও মঙ্গলার্থে মহাশ্রাবক মহামৌদগল্যায়ন কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যবাহী এই দানোৎসব ঘিরে পুণ্যার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

​মহাসমারোহে ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা গত ৩ ও ৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি: ১৮ ও ১৯ কার্তিক ১৪০০ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এই দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে পুণ্য দান করেন পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের শিষ্যসংঘের প্রধান ও রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান পরম প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো মহোদয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হারুবিল বনবিহার প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন:

​স্বাগত বক্তব্য: সাবেক চেয়ারম্যান চন্দ্র দেব চাকমা।
​শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন রঞ্জিতা চাকমা। দেশক মণ্ডলী, পূর্ণ মিত্র স্থবির, অধ্যক্ষ আদি কল্যাণ ভান্তে, মহামিত্র ভান্তে; ব্রহ্মদণ্ড ভান্তে এবং প্রজ্ঞালংকার ভান্তে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, আনন্দ জয় চাকমা চেয়ারম্যান, ২নং চেমী ইউনিয়ন পরিষদ, শান্তিজীবন চাকমা সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, পানছড়ি।

​পুণ্যার্থীদের আত্মিক প্রশান্তি দুই দিনব্যাপী এই মহতী পুণ্যানুষ্ঠানে বুদ্ধ পূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান ও প্রদীপ পূজাসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এবং সকল প্রাণীর সুখ ও মুক্তি তথা নির্বাণ লাভের হেতু প্রার্থনা করার মধ্য দিয়ে এই পবিত্র দানোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

দিঘীনালায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

ওমানে গাড়ির ভেতর রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের ৪ প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্য

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের গেলে ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী অপুর্ব বড়ুয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের নিয়মিত লেখাপড়া হচ্ছেনা সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবী পুরন না হলে অবিভাবকদের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত কম শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×