| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব বলে কাপ্তাই ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্ব) ‘২৬ সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কাপ্তাই উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে হলরুমে এমএন লারমা ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা কমিটি বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সভাপতি ও রাইখালী মৌজা হেডম্যান শ্রী উসুয়ে সুয়ে চৌধুরী মিশুক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবর্ত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সম্মানিত সদস্য শ্রী মনুচিং মারমা। সভায় প্রধান আলোক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পাবর্ত্য চটগ্রাম অঞ্চল শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী ইন্টু মনি তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটির পাবর্ত্য জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক শ্রী সাগর ত্রিপুরা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সাবেক ছাত্র নেতা শ্রী অনিল মারমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটি জেলা শাখা সদস্য শ্রী অনুপম খিয়াং, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কাপ্তাই উপজেলা শাখা সভাপতি শ্রী কেতন তঞ্চঙ্গ্যা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই উপজেলা শাখা বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম দপ্তর সম্পাদক মেম্বার শ্রী অংসাচিং মারমা। এমএন লারমা সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা তঞ্চঙ্গ্যা। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কাপ্তাই উপজেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধনঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যা।

আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোকবৃন্দ এমএন লারমা ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এমএন লারমার চিন্তা চেতনা দর্শন নীতি আর্দেশ মাধ্যমে সকল জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর দেখানো পথে অনুসরন করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের আরো অধিকতর সংগতি হওয়া প্রয়োজন। এমএন লারমা জীবন দর্শন বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়। আগামী দিনের কঠিন বাস্তবতা জুম্ম জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমএন লারমা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। কাপ্তাই উপজেলা প্রায় ছয় সাতটি আদিবাসী জাতির বসবাস। তাই এই ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জাতির গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস পুনরুদ্ধারের জন্য সবাই সচেতন হয়ে অস্তিত্ব রক্ষা এগিয়ে আসতে হবে।

এমএন লারমা ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপলব্ধি বিষয় মাত্র ৪৪ বছর বয়সে যে কাজ করে গেছেন তা ইতিহাসে অনন্য রেখে গেছেন। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিয়ে অবগত হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের ও আদিবাসী অধিকার আদায়ের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

রামগড়ে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি প্রকাশ

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা ও পৌর শাখার ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু। অন্যদিকে, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. বাহার উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. সেফায়েত উল্লাহ।
কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূইয়া।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেফায়েত উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আগপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা ভবনে এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সুপার আলেয়া নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও সহকারী শিক্ষক হাছেন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং কমিটির নব নির্বাচিত সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক যোবায়েরুল ইসলাম, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহেল, বিশিষ্ট সমাজ সেবক লুৎফর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম সহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় সূধীবৃন্দ।

দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার

স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

×