| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

সাজেকে টায়ার জ্বালিয়ে চতুর্থ দফায় সড়ক বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

সাজেকে টায়ার জ্বালিয়ে চতুর্থ দফায় সড়ক বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চতুর্থ দফায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এক দিনের বিরতির পর রোববার আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি শুরু করে সংগঠন দুটি।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে অবরোধ চলাকালে সাজেক সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেন। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন সাজেকে সড়ক অবরোধ চলে। তবে সাজেকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করে সংগঠন দুটি। শিথিলের সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।

টানা অবরোধের কারণে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও ওই দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠন খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে অবরোধ ডাকায় সাজেক সড়কে কোনো পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে এ সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। তবে মাঝেমধ্যে কয়েকটি অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়। তবে পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন

সাজেকে টায়ার জ্বালিয়ে চতুর্থ দফায় সড়ক বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার

স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

ফারুয়ার উলুছড়িতে পানিতে ডুবে শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

সাজেকে টায়ার জ্বালিয়ে চতুর্থ দফায় সড়ক বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের উলুছড়িতে রাইংখ্যং নদী পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে সুজন তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন তঞ্চঙ্গ্যা উলুছড়ি সদ্ধর্মরত্ন বৌদ্ধ বিহারের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে রওনা হন। পথে রাইংখ্যং নদী পার হওয়ার সময় সাঁতার না জানা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নদীর পানিতে ডুবে যান।

পরে দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজল তঞ্চঙ্গ্যা বিলাইছড়ি থানায় উপস্থিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বিলাইছড়ি থানায় ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অপমৃত্যু মামলা নং-০৪ রুজু করা হয়েছে। থানার এসআই আলাউদ্দীন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।

বাঘাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

সাজেকে টায়ার জ্বালিয়ে চতুর্থ দফায় সড়ক বিপাকে ৩০ হাজার মানুষ

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মীর কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর আলম, বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন বাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কবির আহমেদ এবং বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ও সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা তাদের মননশীলতা, নৈতিকতা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

×