| ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী অনুষ্টিত হয়েছে। কর্মসূচিতে সাধারণ সম্পাদক পারভিন আক্তার মুক্তার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন আলোর ফুল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শহিদুল ইসলাম (ভুট্টো)। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন আলোর ফুল এর সিনিয়র সহ-সভাপতি অধিরাম চাকমা, আলোর ফুলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিরব হাসান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আসিফ, শ্রমিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব খোকন মিয়া।

কামাল উদ্দিন সাংগঠনিক সম্পাদক বনরুপা ব্যবসায়িক সমিতি তামিন শাহরিয়ার সংগঠক কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, হিল টুরিস্ট গাইডের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম। আলোর ফুলের সদস্য শাহেদ রোমান, সদস্য রাশেদা আক্তার, আলোর ফুল ছাত্র উপ-কমিটির সদস্য কাশপিয়া খুশবু ও সদস্য লিজা আক্তার।

বক্তারা সমাজে মাদক, অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

দুমদুমিয়া নারীদের মানব ঢাল বানিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী ছিনতাই !

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় নারীদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কাপ্তাই ওয়াগ্গাছড়া জোন ৪১  (বিজিবি) আওতাধীন দুমদুমিয়া বিজিবি টহল দলের হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিলাইছড়ি উপজেলার দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিজিবি প্রেস নোটের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়,গত ২৭ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধীন দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল দুমদুমিয়া চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মালামালসহ সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের অধিকতর তদন্তের জন্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দেড় শতাধিক মানুষের একটি সংঘবদ্ধ দল বিজিবি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা নারীদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিজিবির হেফাজত থেকে ওই দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় আটক এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস গণমাধ্যমকে জানান, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধ পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান দমনে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবির এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রুমায় রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রিজিয়ন পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরম্ভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর ) থেকে বান্দরবান রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় এবং পারদর্শী ৩৮ ইবির পরিচালনায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আগত কৃষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ ইবি, রুমা গ্যারিসনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ, রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল হাসির গজনফর আলী, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী এবং স্থানীয় নার্সারি মালিক কেউসিং মারমা। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থী, রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং কৃষি বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। একজন সাধারণ কৃষক যেন ধীরে ধীরে একজন সফল ও স্বাবলম্বী কৃষক এবং ভবিষ্যতে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগের তুলনায় কৃষিতে আরও বেশি স্বাবলম্বী হওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।

রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক বলেন, কৃষি বিষয়ে আরও ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে এবং কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে নিজেদের উদ্যোগ নিয়েই কাজ করতে হবে। উদ্যোগ নিজের ভেতর থেকে আসতে হবে। আমরা কৃষকদের পাশে আছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে যাব। বর্তমান সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে কৃষিকাজ পরিচালনা করা জরুরি। এর মাধ্যমে কৃষকরা আরও উন্নতি করতে পারবেন।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী বলেন, রুমা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা দুর্গম এলাকায় কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকার কৃষকদের একত্র করে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষকরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ তাদের কৃষি বিষয়ে নতুন জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

প্রশিক্ষণার্থীরা ৩৮ ইবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফসহ প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, দুর্গম এলাকার কৃষকদের জন্য নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‎
‎সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি আবদুল মাবুদ।
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল সবুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. জালাল হোসেন।
‎
‎বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হারুন রশীদ।
‎
‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকেই। সন্তানকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মায়েদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎সভাপতির বক্তব্যে এসএমসি সভাপতি আবদুল মাবুদ বলেন, “শিশুর প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা। মায়ের সচেতনতাই একটি শিশুকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।”
‎
‎তিনি সন্তানদের শিক্ষার প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
‎
‎অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক মা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎সমাবেশের শেষপর্বে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের গর্বিত মা-বাবার হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

×