সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:

বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
0 বার পড়া হয়েছে
বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‎
‎সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি আবদুল মাবুদ।
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল সবুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. জালাল হোসেন।
‎
‎বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হারুন রশীদ।
‎
‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকেই। সন্তানকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মায়েদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎সভাপতির বক্তব্যে এসএমসি সভাপতি আবদুল মাবুদ বলেন, “শিশুর প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা। মায়ের সচেতনতাই একটি শিশুকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।”
‎
‎তিনি সন্তানদের শিক্ষার প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
‎
‎অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক মা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎সমাবেশের শেষপর্বে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের গর্বিত মা-বাবার হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পিএম
বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​”ডিজিটাল যুগে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা: তথ্য বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় তথ্য অধিকারের ভূমিকা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের ‘কিন্নরী’ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা শেষে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বরইছড়ি মূল ফটক ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

কানাডা সরকারের অংশীদারিত্বে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত সিভিক এনগেইজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর আওতায় ‘এম্পাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের সহযোগিতায় এবং আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েটস-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলামের প্রধান অতিথি ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফরহাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন এবং ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরঞ্জীত তঞ্চঙ্গ্যা।এম্পায়ারমেন্ট প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা যতি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সিসিএম (CCM) সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিশৃঙ্খলা বা অপপ্রচার রোধে তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা বিশেষ জোর দেন।

বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযান, দুই পিস্তল ও বিপুল ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

 

আনোয়ার হোসেন,
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে দুটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার টিএনটি কলোনি মোড়সংলগ্ন মারাত্মক পাহাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের সহকারী পরিচালক (এডি) হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি ভারতীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং শতাধিক কার্টন অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করেন।

অভিযানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে ছিলেন ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোন কমান্ডার বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান, অস্ত্র পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুরুষরাই আসলে পাগল, অভিনেতা ও যাযাবর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ এএম
বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ

 

সাহিত্যিক লেখক : মথি ত্রিপুরা

পুরুষ—শব্দটি শুনতে খুব সাধারণ। কিন্তু এই একটি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য গল্প, অগণিত ত্যাগ, না-বলা কষ্ট আর হাজারো দায়িত্বের ভার।
একজন পুরুষ আসলে কার জন্য বেঁচে থাকে?
নিজের জন্য, নাকি পরিবারের জন্য?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেক পুরুষের কাছেই স্পষ্ট নয়। কারণ জীবনের একটা সময় পার হওয়ার পর একজন পুরুষ নিজের স্বপ্নের চেয়ে পরিবারের স্বপ্নকে বড় করে দেখতে শেখে। নিজের চাওয়া-পাওয়াকে একপাশে রেখে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ছুটে বেড়ায়।

তার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে না। আজ এক শহরে, কাল অন্য শহরে। কখনো পাহাড়ে, কখনো সমতলে। কখনো নির্মাণশ্রমিক, কখনো দিনমজুর, কখনো চালক, কখনো ব্যবসায়ী, কখনো চাকরিজীবী। কেউ জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমায়, কেউ আবার নিজের বাড়ি থেকে বহু দূরের কোনো অচেনা জনপদে গিয়ে জীবন কাটায়। তার একটাই উদ্দেশ্য—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

কিন্তু এই হাসি ফোটাতে গিয়ে কত পুরুষ যে নিজের জীবনের হাসিটুকুই হারিয়ে ফেলে, তার হিসাব কে রাখে? প্রতিদিন আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাই—কেউ কর্মস্থলে মারা গেছে, কেউ সড়ক দুর্ঘটনায়, কেউ পাহাড়ি পথে, কেউ অচেনা এলাকায়, কেউ আবার সন্ত্রাস, ডাকাতি, অপহরণ কিংবা নানা ধরনের বিপদের শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। তাদের অনেকের শেষ ঠিকানাটাও হয়তো পরিবার জানত না।

যে মানুষটি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, সে হয়তো আর কোনোদিন ফিরে আসেনি। যে সন্তান বাবার ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল, সেই অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হয়নি। এভাবেই একজন পুরুষ কখনো কখনো পরিবারের জন্য যাযাবর হয়ে যায়। তার নিজের কোনো ঠিকানা থাকে না; পরিবারের ঠিকানাটাই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা।

পুরুষকে কখনো কখনো অভিনেতাও হতে হয় জীবনের পথ সবসময় মসৃণ নয়। কখনো কখনো একজন পুরুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে নিজের ভয় প্রকাশ করার সুযোগও থাকে না।

বিপদের সময় তাকে সাহসী হতে হয়। ভয়ের সময় তাকে নির্ভীক সাজতে হয়। চোখে পানি থাকলেও মুখে হাসি রাখতে হয়। নিজের ভেতরের আতঙ্ক লুকিয়ে রেখে অন্যদের সামনে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতে হয়।

কখনো কখনো বেঁচে থাকার জন্য সত্যিই একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে হয় তাকে।
কারণ সে জানে—সে ভেঙে পড়লে তার পরিবারও ভেঙে পড়বে। তাই সে হাসে। মানুষ ভাবে, লোকটা খুব সুখে আছে। কেউ জানে না—সেই হাসির আড়ালে কত রাতের কান্না জমে আছে। পুরুষের কান্নারও একটি ঠিকানা আছে। একজন পুরুষকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়—‘পুরুষ মানুষ কাঁদে না।’
কিন্তু কে বলেছে পুরুষের চোখে পানি আসে না?
তারও তো কষ্ট হয়। অপমান হয়। অভিমান হয়। ভালোবাসা পাওয়ার ইচ্ছা হয়। কখনো কখনো সে একা হয়ে যায়। কখনো নিজের কাছেই নিজেকে অপরিচিত মনে হয়।

জনসম্মুখে অপমানিত হওয়ার পরও তাকে মাথা উঁচু করে হাঁটতে হয়। কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পরও পরদিন আবার কাজে যেতে হয়। অর্থনৈতিক সংকটে পড়লেও সন্তানদের সামনে বলতে হয়—‘সব ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু সত্যিই কি সব ঠিক থাকে? সবসময় নয়।

অনেক পুরুষ নিজের কষ্টের কথা পরিবারের কাছেও বলে না। কারণ সে ভয় পায়—তার দুর্বলতা প্রকাশ পেলে পরিবার হয়তো আরও দুশ্চিন্তায় পড়বে।
তাই নিজের কষ্ট নিজের বুকের ভেতরেই চাপা দিয়ে রাখে। হাসে। কাজ করে। সংসার চালায়। আর ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দে ভেঙে পড়ে।

               লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী

দিনের শেষে পুরুষেরও একটি ঘর দরকার একজন পুরুষ সারাদিন পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করে। জীবিকার জন্য যুদ্ধ করে। মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। অপমান সহ্য করে। ব্যর্থতার সঙ্গে লড়াই করে। দিন শেষে সে যখন ঘরে ফেরে, তখন সে যুদ্ধ নয়—শান্তি চায়। সে চায়, কেউ তাকে বলুক—
‘অনেক কষ্ট হয়েছে? একটু বিশ্রাম নাও।’ সে চায়, কেউ তার ক্লান্ত মুখটা বুঝুক। কিন্তু কখনো কখনো ঘরে ফিরেও সে অভিযোগ, অভিমান, চাওয়া-পাওয়া কিংবা নানা অশান্তির মুখোমুখি হয়। তখন সে কোথায় যাবে? বাইরের পৃথিবী তাকে গ্রহণ করে না, ঘরের ভেতরেও যদি শান্তি না থাকে—তাহলে একজন মানুষ দাঁড়াবে কোথায়? হাজার মানুষের ভিড়েও তখন সে একা হয়ে যায়। এই একাকিত্ব খুব ভয়ংকর।

সম্পর্কের মধ্যে সম্মান থাকুক। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। অভিমান থাকবে, রাগ থাকবে, ভুল বোঝাবুঝিও থাকবে। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা উচিত সম্মান, বিশ্বাস ও ভালোবাসা। একজন স্ত্রী যেমন স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন, তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রীর কাছ থেকে সম্মান, বিশ্বাস ও মানসিক আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রাখেন।

স্বামীকে শুধু সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তারও একটি মন আছে। তারও ক্লান্তি আছে। তারও কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন আছে। তারও প্রয়োজন— একজন মানুষ, যার কাছে সে নিজের সব কষ্ট খুলে বলতে পারে।

আর প্রিয় পুরুষ, তুমিও মনে রেখো—তোমার স্ত্রীও একজন মানুষ। তারও কষ্ট আছে, তারও প্রত্যাশা আছে। সংসার সুন্দর করতে হলে শুধু এক পক্ষের ত্যাগ যথেষ্ট নয়; দুজনকেই একে অপরকে বুঝতে হবে। অবহেলা নয়, হোক বোঝাপড়া। কোনো সম্পর্ক একদিনে ভেঙে যায় না। ছোট ছোট অবহেলা, না-বলা কথা, ভুল বোঝাবুঝি, অসম্মান আর জমে থাকা অভিমান একসময় সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।

তাই সম্পর্ক ভাঙার আগে কথা বলুন। অভিমান জমিয়ে রাখার আগে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। রাগের সময় সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটু সময় নিন। কারণ কখনো কখনো একটি সম্পর্ক বাঁচিয়ে দিতে পারে মাত্র একটি আন্তরিক কথা— ‘আমি তোমাকে বুঝতে চেষ্টা করছি।’ পুরুষও মানুষ।

সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই— পুরুষ কোনো যন্ত্র নয়। সে শুধু টাকা উপার্জনের মেশিন নয়। সে পরিবারের দায়িত্ব বহন করে ঠিকই, কিন্তু তারও অনুভূতি আছে। সে কাঁদে, তবে অনেক সময় লুকিয়ে কাঁদে। সে কষ্ট পায়, তবে অনেক সময় প্রকাশ করে না। সে ভেঙে পড়ে, তবে আবার নিজেকেই জোড়া লাগিয়ে পরদিন কাজে বেরিয়ে যায়। এই কারণেই হয়তো পুরুষকে কখনো পাগল, কখনো অভিনেতা, আবার কখনো যাযাবর মনে হয়।

সে পাগল—কারণ পরিবারের সুখের জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেয়। সে অভিনেতা—কারণ নিজের কষ্ট লুকিয়ে অন্যদের সামনে হাসতে জানে। সে যাযাবর—কারণ পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় ছুটে বেড়ায়। তবু দিন শেষে সেই পুরুষেরও একটি আশ্রয় দরকার। একটি ঘর দরকার। একজন আপন মানুষ দরকার।

যার কাছে সে কোনো অভিনয় করবে না। যার সামনে সে শক্ত পুরুষ হওয়ার মুখোশ খুলে রাখতে পারবে।
যার কাঁধে মাথা রেখে বলতে পারবে— ‘আমি ক্লান্ত।’

আর সেই মানুষটি যেন উত্তর দেয়— ‘এসো, এবার একটু বিশ্রাম নাও। আমি আছি।’ হয়তো একজন পুরুষের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু নেই।

×