রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
5 বার পড়া হয়েছে
কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রিতিনিধ :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ঘনিয়াখোলা গ্রামের গ্রামে অবস্থানরত কুখ্যাত মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম এবং তার প্রধান সহকারী নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। এলাকার যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে কুখ্যাত মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম ও তার প্রধান সহযোগী নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘনিয়াখোলা মূল ফটকে সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন।

মাদকের বিস্তার ও ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় অবাধে মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, কক্সবাজার ও বান্দরবান হয়ে কাপ্তাইয়ের রাইখালী ও ঘনিয়াখোলায় মাদক নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে শুঁটকির সাথে ইয়াবা, গাঁজা ও মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশংকা করছে

এলাকার সচেতন মহল। উক্ত ব্যক্তিদের মাদক সরবরাহ চলতে থাকায়  সাধারণ মানুষ সবসময় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন, তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. জয়নাল আবেদীন, শাহানাস বেগম এবং মো. ইয়াকুব হোসেন মাসুম প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম ও নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক বেচাকেনা বন্ধে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন তারা।

বিলাইছড়িতে ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ একজন আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ পিএম
কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২৯ বীর বিলাইছড়ি সেনা জোনের অধীনে ফারুয়া আর্মি ক্যাম্পের টহল দলের অভিযানে ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিলাইছড়ি থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আটক ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিলাইছড়ি থানাধীন ফারুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে অভিযান চালায় ২৯ বীর বিলাইছড়ি জোনের ফারুয়া আর্মি ক্যাম্পের টহল দল। এ সময় চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানান্তরের সময় ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম কার্তিক তঞ্চঙ্গ্যা (২৬)। পিতা: অন্দ লার তঞ্চঙ্গ্যা, মাতা: সূর্যো দেবী তঞ্চঙ্গ্যা,স্ত্রী ঃ অঞ্জন চনা তঞ্চঙ্গ্যা,সাং- তিনি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুমিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বগাখালী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সাইচল রাস্তা এলাকার বাসিন্দা।দুর্গম এলাকা এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ না থাকায় এ বিষয়ে আটক ব্যক্তি, তার পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের ঝুঁকছে চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ পিএম
কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে জুমচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পাহাড়ের ঢালু জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে জুমের ধানের পাশাপাশি চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষও করছেন তারা। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ সবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জুমের জমিতে ধান, মরিচ, হলুদ, সাদা কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল একসঙ্গে চাষ করা হয়। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া চাষে বাড়তি শ্রম ও বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটিকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কম খরচে লাভবান হওয়ায় মিষ্টি কুমড়া চাষের ঝুঁকছে চাষিরাও।

জানা গেছে, পাথুরে-বালুময় পাহাড়ি জমি, যেখানে চাষাবাদই ছিল কঠিন—সেখানেই এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া। উঁচু-নিচু ও অনুর্বর জমিতে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও ভালো ফলন ও বাজারদরে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষে তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১৩৯ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উঁচু-নিচু ও ঢালু পাহাড়ের জমিতে এ আবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু সড়ক, তুমা-তুঙ্গী সড়ক ও থানচি-বলীপাড়া সড়ক এবং ডিম পাহাড় এলাকায় আশপাশে পাহাড়ের উঁচু-নিচু জমিতে এখন চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। চিট্টাসহ বিভিন্ন জাতের কুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। এসব জমিতে কোথাও ফলন ভালো, আবার কোথাও মিলছে কম ফলন।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মণের মিষ্টি কুমড়া সাড়ে ৮শত থেকে ৯শত টাকা দরে কিনছেন। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম সড়কে পরিবহন খরচই হয়ে উঠছে বড় বোঝা। কুমড়া সংগ্রহের পর বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে তাদের। গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ভালো হলে পরিবহন খরচ কমবে, লাভবান হবে চাষিরাও।

স্থানীয় চাষির রাইলং ম্রো, চাইসিংউ মারমা ও ষ্টিফেন ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, মিষ্টি কুমড়া চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে চাষীদের। স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় ক্ষুদ্র চাষিদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, মানসম্মত বীজ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত কুমড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। জুমের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়িয়ে পরিবারের আয় আরও বাড়াতে চান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ওয়ালিদ হোসেন জানান, কম খরচে বেশি লাভ—মিষ্টি কুমড়া চাষে এটাই কৃষকদের প্রধান আকর্ষণ। সম্ভাবনাময় এ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পাহাড়ে উঁচুনিচু ও ঢালু জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর এ আবাদ বাড়ছে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, চট্টগ্রাম :

মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার এই প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: মাসুদ আলম ( বিপিএম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম,( বিপিএম) বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

×