| ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

তামাক চাষ বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ

তামাক চাষ বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ রাঙামাটি থেকে ফিরে :

তামাক চাষের জন্য বন ও পাহাড় উজাড় করা হচ্ছে। তামাককে না বলি, নিরাপদ সমাজ গড়ি। “তামাক চাষ বন্ধ চাই-নিরাপদ সমাজ চাই” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পার্বত্য ছাত্র ফোরাম রাঙ্গামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তামাক চাষ বন্ধের বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ’২৫ খ্রিঃ বিকেলে রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ করে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করে ছাত্র ফোরাম।

সচেতন ছাত্র সমাজকে নিয়ে মাদক এর বিরুদ্ধে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই পার্বত্য ছাত্র ফোরাম এর মুল লক্ষ্য। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম, মিনহাজ মুরশিদ, পার্বত্য ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য ছাত্র ফোরামের রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলমগীর, পারভেজ মোশাররফ হোসেন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে তামাক চাষের কারণে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কারণ এটি মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয় এবং মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে। তামাক চাষের জন্য বন উজাড় করে জমি পরিষ্কার করা হয়, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এছাড়াও, তামাক চাষের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং উর্বর কৃষি জমি কমে যায়। তামাক গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে, যার ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং তা অনুর্বর হয়ে পড়ে। তামাক চাষে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মাটির স্বাভাবিক গঠন ও রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধন করে। তামাক চাষে ঘন ঘন জমি চাষ করা হয়। এবং বন উজাড় করা হয়, যা মাটি ক্ষয়কে বাড়িয়ে তোলে।

বক্তারা আরও বলেন, তামাক চাষের জন্য বন ও পাহাড় উজাড় করা হয়, যার ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে এবং অনেক প্রাণী তাদের বাসস্থান হারায়। খাদ্য শস্য চাষের জমি তামাক চাষে ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্য শস্যের উৎপাদন কমে যায়, যা স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি করে। তামাক শুকানোর জন্য বিপুল পরিমাণে কাঠ পোড়ানো হয়, যা বায়ুদূষণ ও বন উজাড়ের জন্য দায়ী।

একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, পৃথিবীর ২-৩% বন ধ্বংসের জন্য তামাক চাষ দায়ী। পার্বত্য চট্টগ্রামে তামাক চাষ বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অন্যথায় আরো ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়ে নেতৃবৃন্দরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুমিতে তামাক চাষ সহ পরিবেশ ক্ষতিকারক কোন চাষাবাদ যেন করা না হয়। এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আইন করে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

রামগড়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি’র মতবিনিময়

তামাক চাষ বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রামগড় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুর রব রাজা, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মতবিনিময় সভায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। সভায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্রেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ

তামাক চাষ বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

 

রাজস্থলী  (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে আয়োজিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জমজমাট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ট্রাইবেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে ৭-৬ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে বাঙ্গালহালিয়াসহ রাজস্থলী, কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। খেলাকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের আমেজে।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রাজস্থলী বাজার একাদশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৭-৬ গোলে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সাচিংমং মারমা ও মিজানুর রহমান প্রিন্সের যৌথ সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২৯৯ আসনের এমপি প্রতিনিধি দিলদার হোসেন, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এমপি প্রতিনিধি আবুল হাসেম মেম্বার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞো মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ রুবেল, সদস্য সচিব উজ্জ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জিকু কুমার দে, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোনায়েদ হোসেন, সাদেক হোসেন ও সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, “খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং এলাকার মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিলদার হোসেন বলেন, “আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে ধরে রেখে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন।”

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখা এবং স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

খেলা শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রানার্সআপ রাজস্থলী বাজার একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। একই সঙ্গে আয়োজক ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গোবিন্দগঞ্জে দুইটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক তিন

তামাক চাষ বন্ধের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য ছাত্র ফোরামের বিক্ষোভ

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ভারতে পাচারের প্রস্তুতিকালে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পালিয়ে গেছে আরও ৮-১০ জন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাখাহার ইউনিয়নের জিড়াই গ্রামের কোগারিয়া-জিড়াই পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, এনামুল হক (৫০), আলিপ হোসেন (২২) ও সরজিনা আক্তার (৩০)।

এ সময় তাদের ফেলে যাওয়া দুটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিষ্ণু মূর্তি, যার ওজন ১৬ দশমিক ৮৭ কেজি ও মূল্য ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

অপরটি কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তু, যার ওজন ১১৯ কেজি ও মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

বিজিবির দাবি, মূর্তি দুটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ২০ বিজিবির জেসিও-১০৯২৭ মোঃ সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ পলাতক ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

×