দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন
রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।
অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার
স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

| ২ নভেম্বর ২০২৬









