| ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

দীঘিনালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। অথচ এখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয় এবং পাঠদান ব্যাহত হয়। দুটি কক্ষেই একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে রয়েছে জায়গার সংকট, অন্যদিকে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়

অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। অনেক কষ্টের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি।

দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লীগে চ্যাম্পিয়ন অর্জনে বিলাইছড়ি ফুটবল দলকে সেনা জোনের সংবর্ধনা

দীঘিনালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লীগ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দলকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বিলাইছড়ি সেনা জোন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা মিলনায়তনে ‘উদ্যমী উনত্রিশ, বিলাইছড়ি জোন, রাঙামাটি রিজিয়ন’-এর সৌজন্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন জোন কমান্ডার বিএ- ৭৭৭৩ লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী পিএসসি (অধিনায়ক, ২৯ বীর)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জনকারী বিলাইছড়ি উপজেলা দলের খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও উদ্দীপনা বাড়াতে সেনা জোনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় জোনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, প্রথাগত নেতা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টে বিলাইছড়ি দলের সোহাগ বাবু মার্মা সেরা গোলদাতা, জনি মার্মা সেরা গোলকিপার এবং অজান্ত চাকমা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দল। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাঙামাটি সদরকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দল।

রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। অংশ নেওয়া উপজেলাগুলো হলো— রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু।

শিক্ষার আলো ছড়াতে কাপ্তাইয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী উপহার দিল ১১ আর ই ব্যাটালিয়ন

দীঘিনালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কাপ্তাই ১১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের (১১ আর ই) উদ্যোগে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পাহাড়ি ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এসময় কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অর্জনের মাধ্যমেই সঠিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর এমন সময়োপযোগী উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত।

তারা জানান, এই ধরনের সহায়তা পিছিয়ে পড়া এলাকার কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন

দীঘিনালায় সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চৌমুহনী কলেজ রোডের বায়তুশ শরফ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হাসান আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন বাবু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম জাবেদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কবির আহমেদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন কার্যালয়টি বাঘাইছড়ির সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সত্য, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা এবং সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হাসান আলী অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

×