| ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি:

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ব্যক্তিদের আত্মার সদগতি কামনা এবং বিশ্বশান্তি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পরিবেশে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় মোতাবেক এই মধু পুর্ণিমা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোর সকাল থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্ভীরা বিহারে সমবেত হয়ে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান,মহা সংঘদান অনুষ্টানত অনুষ্টিত হয়। অনুষ্টান প্রধান ধর্ম আলোচক হিসেবে উপস্তুিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহা স্থবির ভান্তে, অনুষ্টানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন।  অনুষ্টান উদযাপন কমিটির সভাপতি বিধর্ব রজ্ঞন চাকমা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের আত্মার সদগতি কামনা করা হয়। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গত মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্ভীরা ভিক্ষু সংঘকে মধু ও বিভিন্ন দানসামগ্রী প্রদান করেন। ধর্মীয় আলোচনায় মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য এবং বৌদ্ধ ধর্মের দান, শীল ও মানবকল্যাণের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের সদস্য, স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্ম আলোচক নন্দপাল মহা স্থবির ভান্তে বলেন, মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় দিন। এদিন দান ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

অনুষ্ঠান শেষে নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি, আহতদের সুস্থতা এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এবং বিকেলে মাসব্যাপি পটঠান পাঠ শত্রু সমাপনী অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়।

রামগড়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি’র মতবিনিময়

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রামগড় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুর রব রাজা, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মতবিনিময় সভায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। সভায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্রেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

 

রাজস্থলী  (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে আয়োজিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জমজমাট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ট্রাইবেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে ৭-৬ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে বাঙ্গালহালিয়াসহ রাজস্থলী, কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। খেলাকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের আমেজে।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রাজস্থলী বাজার একাদশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৭-৬ গোলে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সাচিংমং মারমা ও মিজানুর রহমান প্রিন্সের যৌথ সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২৯৯ আসনের এমপি প্রতিনিধি দিলদার হোসেন, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এমপি প্রতিনিধি আবুল হাসেম মেম্বার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞো মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ রুবেল, সদস্য সচিব উজ্জ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জিকু কুমার দে, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোনায়েদ হোসেন, সাদেক হোসেন ও সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, “খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং এলাকার মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিলদার হোসেন বলেন, “আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে ধরে রেখে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন।”

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখা এবং স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

খেলা শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রানার্সআপ রাজস্থলী বাজার একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। একই সঙ্গে আয়োজক ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গোবিন্দগঞ্জে দুইটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক তিন

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ভারতে পাচারের প্রস্তুতিকালে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পালিয়ে গেছে আরও ৮-১০ জন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাখাহার ইউনিয়নের জিড়াই গ্রামের কোগারিয়া-জিড়াই পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, এনামুল হক (৫০), আলিপ হোসেন (২২) ও সরজিনা আক্তার (৩০)।

এ সময় তাদের ফেলে যাওয়া দুটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিষ্ণু মূর্তি, যার ওজন ১৬ দশমিক ৮৭ কেজি ও মূল্য ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

অপরটি কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তু, যার ওজন ১১৯ কেজি ও মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

বিজিবির দাবি, মূর্তি দুটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ২০ বিজিবির জেসিও-১০৯২৭ মোঃ সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ পলাতক ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

×