| ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

 

সুজন কুমার,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য অঞ্চলে গ্রামাঞ্চল ও বাজার এলাকায় জমে উঠেছে শীতের ভাপা পিঠা-পুলির বিক্রির ধূম। এদেশের পাহাড়েরও বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে নানান জাতের পিঠাপুলি তৈরী হয়ে থাকে। বিশেষ করে,শীত মৌসুমে গ্রামগঞ্জে পিঠা তৈরীর ধুম পড়ে যায়। পিঠা শুধু লোকজ খাবার নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজজীবন থেকে পিঠা তৈরির আয়োজন কমে যাচ্ছে। তবে এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একশ্রেণির মৌসুমী নারী-পুরুষ ব্যবসায়ী৷ অনেক খাবারে আকৃষ্ট হয়ে ছুটে আসে পাহাড়ীদেরঐতিহ্য নানা পিঠা খেতে ছুটে আসে। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠা শীতের আমেজকে রাঙিয়ে তুলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলাইছড়ি বাজার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ধূপ্যাচর, দীঘলছড়ি, বহলতলী, তক্তানালা, ফারুয়া বাজার সহ অলি-গলিতে রাস্তার ফুটপাতে চলছে বাহারী পিঠা বিক্রির ধুম। প্রতিটি ভাপা পিঠার দোকানেই ক্রেতার সংখ্যা বেশি। ধোঁয়া ওঠা গরম পিঠায় আড্ডা জমে উঠে পিঠার দোকানে। গ্রামাঞ্চলের মৌসুমি পিঠার ভ্রাম্য দোকানগুলোর অধিকাংশই পরিচালিত হয় নারীদের মাধ্যমে রয়েছে পুরুষরাও। সংসারে পুরুষের পাশাপাশি উপার্জনে বাড়তি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য দিন দিন বেড়েছে নারীদের এই পিঠার দোকান। এতে করে সংসারে কিছুটা বাড়তি উপার্জন হচ্ছে।

অনেক দোকানে ভাপা পিঠার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে (স্থানীয় ভাষায়) সান্যপিদা,কলা পিদা,বরাপিদা, বিনিহগা অন্যান্য পিঠাও। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। এসব পিঠার স্বাদ পেতে পথিক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, ছুটির দিনে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পিঠার দোকানে ভিড় করছে। আবার কেউ কেউ বাড়িতে পরিবারের জন্যও পিঠা কিনে নিয়ে যান। এসব পিঠার মধ্যে ভাপা ১০ টাকায় বিক্রি হয়। পিঠা কিনতে আসা কয়েকজন জানান, ভাপা পিঠা খেতে ভালো লাগে। এটা গরমের সময় ততটা খাওয়া যায় না। সাত সকালের সময় পিঠার জন্য দোকানে সিরিয়াল দেওয়া লাগে। দুই একজন ভাপা পিঠা খেতে আসা ব্যক্তি বলেন, বান্ধুবীদের সঙ্গে ভাপা পিঠা খেতে এসেছি ৷বিনি চালের গুড়া, নারিকেল আর গুড়ের ভাপা পিঠা ছাড়া শীত জমে না। পিঠা বিক্রেতা মো: বাচ্চু মিয়া  তিনি জানান, শীতকালে সঙ্গে ভাপা পিঠাও প্রচুর বিক্রি হয়। শীতের দিনে গরমের যন্ত্রণা থাকে না। লোকজন শান্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে খেতে পারে। এ কারণে শীতে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে পিঠা বিক্রি দুই থেকে তিনগুণ বাড়ে। শুধু ভাপা পিঠা বিক্রি করে সংসার চলে।

আরেক পিঠা বিক্রিদাতা জানান, শীত আসতেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। পিঠা বানানো থেকে সবকিছু করতে হয়। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার হয়। তিনি ২টি চুলায় পিঠা তৈরি করেন। প্রতিদিন সকালে বিক্রি করি বিকালেও মাঝে বিক্রি করি। এধরনের পিঠা সংসার ভরণ পোষণ চালিয়ে যেতে দেখা যায়। রাস্তা ধারে কোনায় খোলা আকাশের নিচে পাহাড়ি নারীরাও এসব শীতের পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে দৃশামান। অন্যদিকে পাহাড়ের জীবিকা নির্বাহ এক সংগ্রাম অবিচল জীবন জনগোষ্ঠীর বসবাস করছি। পিঠা বিক্রেতারা জানান, বছরের এই সময়টা শীতকালীন পিঠার বেচা-বিক্রি বেশি হয়। তাইতো এই সময়ে দোকানিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারেন। শীত যত বাড়বে তাদের পিঠা বিক্রিও ততো বাড়বে। তাদের পিঠা বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ যোগান দেন বলে তারা জানান।

রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লীগে চ্যাম্পিয়ন অর্জনে বিলাইছড়ি ফুটবল দলকে সেনা জোনের সংবর্ধনা

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লীগ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দলকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বিলাইছড়ি সেনা জোন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা মিলনায়তনে ‘উদ্যমী উনত্রিশ, বিলাইছড়ি জোন, রাঙামাটি রিজিয়ন’-এর সৌজন্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন জোন কমান্ডার বিএ- ৭৭৭৩ লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী পিএসসি (অধিনায়ক, ২৯ বীর)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জনকারী বিলাইছড়ি উপজেলা দলের খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও উদ্দীপনা বাড়াতে সেনা জোনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় জোনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, প্রথাগত নেতা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টে বিলাইছড়ি দলের সোহাগ বাবু মার্মা সেরা গোলদাতা, জনি মার্মা সেরা গোলকিপার এবং অজান্ত চাকমা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দল। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাঙামাটি সদরকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দল।

রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। অংশ নেওয়া উপজেলাগুলো হলো— রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু।

শিক্ষার আলো ছড়াতে কাপ্তাইয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী উপহার দিল ১১ আর ই ব্যাটালিয়ন

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কাপ্তাই ১১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের (১১ আর ই) উদ্যোগে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পাহাড়ি ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এসময় কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অর্জনের মাধ্যমেই সঠিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর এমন সময়োপযোগী উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত।

তারা জানান, এই ধরনের সহায়তা পিছিয়ে পড়া এলাকার কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চৌমুহনী কলেজ রোডের বায়তুশ শরফ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হাসান আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন বাবু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম জাবেদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কবির আহমেদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন কার্যালয়টি বাঘাইছড়ির সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সত্য, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা এবং সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ হাসান আলী অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

×