| ৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ সভা রবিবার (৪ অক্টোবর)২৬ খ্রিঃ বিকেল ৪ঃ০০ ঘটিকায় সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ, সহকারী পুলিশ সুপারগণ, সার্কেল কর্মকর্তাগণ, কোর্ট ইন্সপেক্টর, ডিআইও-১, অফিসার ইনচার্জ (গোয়েন্দা শাখা), পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন), ট্রাফিক বিভাগ এবং সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সেপ্টেম্বর মাসে জেলার বিভিন্ন থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন মামলাসহ সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি অপরাধ সংঘটনের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, বিট পুলিশিং, টহল ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কিশোর গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং কিশোরদের আড্ডাস্থলে বিশেষ নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে মাদক কারবারি, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মাদকের উৎস ও সরবরাহের চ্যানেল চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

এছাড়া চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদার, চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন এবং দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তিতে মামলাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও জনগণের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিজ নিজ এলাকার অপরাধের ধরন ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান হয়।

বিশ্ব শিক্ষা দিবস উপলক্ষে দীঘিনালায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি :

বিশ্ব শিক্ষা দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ৫ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ সেমিনার কক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি ড্রিগী কলেজের সহকারি অধ্যাপক যোগ সাধন চাকমা, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার অংত্রুাচিং মারমা, দীঘিনালা সাবেক প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: সোহেল রানাসহ স্থানীয় গণমাধ্যেমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে ৪২জন শিক্ষক শিক্ষিকা উপস্তিত ছিলেন।

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে দুই শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার ৪ অক্টোবর সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৪নং রুপাকারি ইউনিয়নের রুপালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৬৪ জন পাহাড়ি বাঙ্গালিদের মাঝে বিনামুল্যে চিকিৎসাসেবাও প্রয়োজনীয় ঔষুধ প্রদান করেন। বাঘাইহাট জোনের রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো: হাবিবুল্লাহ হাবিব।

এছাড়াও বাঘাইহাট জোনের আওতাধীন ভুয়াছড়ি, মাচালং ,১৪ কিলো, গঙ্গারাম, ক্ষেত্রপুরসহ কয়েকটি স্থানে পৃথক পৃথক ভাবে ঔষুধ বিতরন করা হয়।

এসময় ক্যাপ্টেন মো: হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন,
পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে প্রয়োজন অনুযায়ী তারা ভবিষ্যতেও পাশে থাকার কথা জানান।

​শরতের কেংড়াছড়ি : মাঠপর্যায়ের কাজের ফাঁকে শুভ্র কাশের মেলা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​শরতের নীল আকাশ আর শান্ত জলের বুকে ডানা মেলেছে শুভ্র কাশফুল। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় আর জলাভূমির মায়াবী টানে প্রকৃতিপ্রেমীরা যেখানে বারবার ছুটে যান, তেমনই এক অনবদ্য সৌন্দর্যের ক্যানভাস এখন রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি (কেরংছড়ি) ইউনিয়ন।

​হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (HDRC)-এর পরিচালনাধীন ‘PRLC প্রজেক্ট’-এর শেষ ধাপের মূল্যায়নে (Endline Evaluation of PRLC Project) এনিউমারেটর হিসেবে বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকায় তথ্য সংগ্রহের কাজে দায়িত্ব পালন করছেন ছন্দ সেন চাকমা। মাঠপর্যায়ের এই কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজের ফাঁকেই তিনি সাক্ষী হলেন শরতের এক অপরূপ সৌন্দর্যের।
​কাজের ক্লান্তি মেটায় শুভ্রতার স্পর্শ পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর দুর্গম ছড়া পার হয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ মোটেও সহজ নয়। তবে কেংড়াছড়ির ছড়ার ধার ঘেঁষে হেঁটে যাওয়ার সময় চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য যেন নিমেষেই সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। ছড়ার শান্ত জলে আকাশের নীল আর কূলে ফুটে থাকা দুধসাদা কাশফুলের দোলা এক অপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করে।

​গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি প্রকৃতিকে এমন নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করা এবং ক্যামেরাবন্দি করা ছন্দ সেন চাকমার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মাঠকর্মীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও প্রেরণার বিষয়।

​পাহাড়, জল আর শুভ্রতার মেলবন্ধন শরতের এই সময়ে পাহাড়ের রূপ বদলে যায় একদম অন্যরকমভাবে। কেংড়াছড়ির চারপাশের সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলাধারের তীরে সাদা কাশফুলের সমারোহ রূপকথার দৃশ্যের মতো মনে হয়। জলাধারের শান্ত জলে যখন কাশফুলের সাদা নদীর মতো ছায়া পড়ে, তখন মনে হয় পাহাড় আর জল যেন শুভ্রতাকে নিজেদের আয়নায় বন্দি করে রেখেছে।

​নৌকায় করে শান্ত জলাধারের ওপর দিয়ে ধীরগতিতে যাওয়ার সময় দু’পাশের ঘন সবুজ গাছপালা আর কূল ঘেঁষে ফুটে থাকা কাশবনের সৌন্দর্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।

​কঠিন মেহনতের মাঝে স্নিগ্ধ প্রশান্তি এইচডিআরসি (HDRC)-র গবেষক ও এনিউমারেটরদের নিষ্ঠাপূর্ণ কাজের মধ্য দিয়েই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক মানুষ ও তাদের জীবনের সঠিক চিত্র উঠে আসে। ছন্দ সেন চাকমার এই সরেজমিন অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল কাজ যেমন গবেষণা প্রকল্পের সফলতা আনবে, তেমনি প্রকৃতির এই রূপময় মুহূর্তগুলো পাহাড়ি জনপদের সৌন্দর্যকে এক নতুন আলোয় তুলে ধরেছে।

×