| ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

থানচিতে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে জীবনমান উন্নয়ন ও বিজিবির সীমান্ত রক্ষায় এবং ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এমপি। তিনি বলেছেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তারা জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করতে পারবে। খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি এলাকার সুনাম ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে তারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে থানচি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি ও সম্প্রীতির বান্দরবান কাপ-এ টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া থানচি নারী ফুটবল দলের ১৯ খেলোয়াড় ও ৩ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মেয়েরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত গৌরবের। জেলা পর্যায়ে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদের দক্ষতা, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের প্রমাণ। এই অর্জন শুধু একটি দলের বিজয় নয়, বরং পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনারও প্রতিফলন।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বিজিবির এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

থানচির সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উপজেলাটির মানুষের জীবনযাত্রায় নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট স্থানীয় মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মৌলিক সেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম ক্ষেত্র। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে ৩৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মেজর মো: জাকির হোসেন সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, লে: কর্নেল মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল আল ফয়সার, থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার প্রমূখ। এছাড়াও ৩৮ বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও মন্ত্রী স্থানীয় প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা, উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি খামলাই ম্রো:সহ নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবি ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বাঙ্গালহালিয়াতে ধানখেতে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজা, ফসলের সমৃদ্ধি কামনায় (‘অবংমা ছোঁয়া’)

থানচিতে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়ায় পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ধানখেতে লক্ষ্মীপূজা (অবংমা ছোঁয়া) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের ধানজমিতে এ পূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজাটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মংথুইপ্রু মারমা একজন মঘা শাস্ত্রীয় জ্যোতিষবিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁর পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজায় ধানখেতের ফসলের সমৃদ্ধি, ভালো ফলন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করা হয়। পূজার অংশ হিসেবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ডদান করা হয়। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ভিক্ষুদের দান প্রদান এবং পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষি, প্রকৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ধানচাষ পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবিকা ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ধানখেতে ভালো ফলন, ফসলের সুরক্ষা এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় এ ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

পরিবারটির আয়োজনে প্রতিবছর এ পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।

মংথুইপ্রু মারমা বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমাদের পরিবারের ধানজমিতে লক্ষ্মীপূজা বা অবংমা ছোঁয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। আমরা ধানখেতের ভালো ফলন, ফসলের সমৃদ্ধি এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পূজার পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘদের পিণ্ডদান করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দান ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে চলে আসা ঐতিহ্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও টিকে থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্য তাঁদের জীবনযাপন, বিশ্বাস ও সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে পালিত বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজস্থলীর হেডম্যান পাড়ায় মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের ধানখেতে আয়োজিত লক্ষ্মীপূজা (অবংমা ছোঁয়া) এবং ভিক্ষুদের পিণ্ডদান সেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্য চর্চারই একটি দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁরা ধর্মীয় রীতিনীতি পালন এবং নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন।

বিলাইছড়িতে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান শুরু ২৮ অক্টোবর, চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত

থানচিতে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ, বিলাইছড়ি উপজেলা শাখা এবং ত্রিরত্ন ভিক্ষু এসোসিয়েশন এঁর অধীনে  ২০২৬ সালের দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে পৃথক তারিখে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে পর্যায়ক্রমে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বিহারগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বুদ্ধপূজা, সংঘদান ও চীবর দানের আয়োজন করা হবে।

কঠিন চীবর দানের সময়সূচি :

১. ২৮ অক্টোবর, বুধবার: রোয়াপাড়াছড়া নির্বাণসুখ বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া, বিলাইছড়ি।

২. ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার: হরিণছড়া বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার, কাপ্তাই।

৩. ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার: কুতুবদিয়া সদ্ধর্মোদয় বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

৪. ৩১ অক্টোবর, শনিবার: তিনকোনিয়া ত্রিরত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

৫. ১ নভেম্বর, রবিবার: ওরাছড়ি জেতবন বৌদ্ধ বিহার, ওরাছড়ি পূর্বপাড়া, ফারুয়া।

৬. ২ নভেম্বর, সোমবার: উলুছড়ি সদ্ধর্মরত্ন বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

৭. ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার: পৌছড়া পঞ্চবুদ্ধ বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

৮. ৪ নভেম্বর, বুধবার: তক্তানালা নির্বাণসুখ বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

৯. ৬ নভেম্বর, শুক্রবার: উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, দীঘলছড়ি, বিলাইছড়ি।

১০. ৭ নভেম্বর, শনিবার: মালুম্যা জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

১১. ৮ নভেম্বর, রবিবার: কেরনছড়ি দশবল বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

১২. ১১ নভেম্বর, বুধবার: বাঙ্গালকাটা বহুমুখী বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

১৩. ১২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার: ধুপ্যাছড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

১৪. ১৩ নভেম্বর, শুক্রবার: ঢেবাছড়া শীলকানন বৌদ্ধ বিহার, বিলাইছড়ি।

১৫. ১৪ নভেম্বর, শনিবার: বরকলক শান্তিদান বৌদ্ধ বিহার, জুরাছড়ি।

১৬. ১৫ নভেম্বর, রবিবার: ফারুয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

১৭. ১৬ নভেম্বর, সোমবার: আমকাটাছড়া শীলকানন বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

১৮. ১৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার: তাংকুইতাং ত্রিরত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

১৯. ১৮ নভেম্বর, বুধবার: এগুজ্যাছড়া আর্যমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া এবং বালুছড়া জ্ঞানদয় বৌদ্ধ বিহার, জুরাছড়ি।

২০. ১৯ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার: ওরাছড়ি জ্ঞানদয় বৌদ্ধ বিহার, ওরাছড়ি পশ্চিমপাড়া, ফারুয়া।

২১. ২০ নভেম্বর, শুক্রবার: গন্ডাছড়া আলোদয় বৌদ্ধ বিহার, জুরাছড়ি।

২২. ২১ নভেম্বর, শনিবার: বগাখালী ধর্মদর্শন বৌদ্ধ বিহার, জুরাছড়ি।

২৩. ২২ নভেম্বর, রবিবার: সংহ্যাছড়ি ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

২৪. ২৩ নভেম্বর, সোমবার: মন্দিরছড়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া।

আরো উল্লেখ থাকে ১ নভেম্বর বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, বন বিহারগুলোতে চীবরদান অনুষ্ঠিত  হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ টি বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দানোত্তম কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, চীবর দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। মাসব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​রাঙামাটির কুতুকছড়িতে নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্রে ২৮তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত

থানচিতে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে নতুন আশার সঞ্চার হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটির কুতুকছড়িতে অবস্থিত নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্রে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ২৮তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান ও মহাস্থবির বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ২০২৬ খ্রি:, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ) দিনব্যাপী আয়োজিত এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান ও পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দানোৎসব সম্পন্ন হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাঘাইছড়ি উপজেলা সারোয়াতলী রত্নদ্বয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শীলা জ্যোতি স্থবির মহোদয়ের ‘মহাস্থবির বরণ’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

​নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিসার মহাথেরর নিজ বিহারে এই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। তাঁকে কঠিন চীবরটি দান করেন রাঙামাটি ১৯৯ নম্বর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
​অনুষ্ঠানে প্রধান ভান্তে হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ভদন্ত ড. জিনবোধি মহাথের। এ ছাড়া রাজবন বিহার, রাঙামাটির আবাসিক প্রধান ও শিষ্য সংঘের প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথেরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি জনাব সুভাষ চন্দ্র চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

​দিনভর চলা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাঙামাটিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশ নেন। তাঁরা পবিত্র চীবর দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পুণ্য অর্জন করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।

×