দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় জীবনমান উন্নয়নে রুমা জোনের নানা উদ্যোগ
মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন পাড়ায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সরঞ্জাম, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রুমা উপজেলার বিভিন্ন পাড়ায় এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কারবারি, সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার ও ৩৬ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি।
জানা গেছে, আরথাহ পাড়ায় একটি ২০ কেভিএ জেনারেটর, ১০ কেভিএ ডায়নামো, ৩ হর্স পাওয়ারের সাবমার্সিবল পাম্প এবং কমিউনিটি সেন্টারের জন্য একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল দেওয়া হয়েছে। এতে পাড়াবাসীর বিদ্যুৎ ও পানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা হবে। সালেম পাড়ায় ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক এবং চায়রাগ্রা পাড়ায় ৩ হর্সপাওয়ারের সাবমার্সিবল পাম্প ও ৫ হাজার লিটারের পানির ট্যাংক দেওয়া হয়েছে। হ্যাপীলহিল পাড়ায় দেওয়া হয়েছে ২ হাজার লিটারের পানির ট্যাংক ও একটি সাউন্ড সিস্টেম।
এ ছাড়া শুক্রমনি পাড়ায় ২ হাজার লিটারের পানির ট্যাংক, ৭০০ ফুট পানির পাইপ, একটি সাউন্ড সিস্টেম ও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল প্রদান করা হয়। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বাসাত্লং পাড়ায় একটি ভলিবল ও একটি ভলিবল নেট, পার্বা পাড়ায় একটি ভলিবল ও দুটি ফুটবল এবং নিয়াংখিয়াং পাড়ায় একটি ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।
সামগ্রী বিতরণকালে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, ক্রীড়া ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি এ সময় বিভিন্ন পাড়ার কারবারি, সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় যুবসমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন।
এদিকে মিজোরামে অবস্থানরত বম জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ পাড়ায় নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতেও রুমা জোন কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশে ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী, ঘর নির্মাণের ঢেউটিন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ খামার নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রুমা জোনের এসব কার্যক্রম দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে।

| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬










