| ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাঙ্গামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, এসইউপি, পিবিজিএম, পিএসসি।​

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থলে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এ সময় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর একটি চৌকষ ও সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদা হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। বিউগলের করুণ ও অন্তিম সুরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম বলেন, “২৬ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় দিন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই লাল-সবুজের পতাকা।”তিনি আরও বলেন, “আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি এই বাহিনীর দুই বীরশ্রেষ্ঠ—শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফকে। সেই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৮১৭ জন বিজিবি সদস্যসহ সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যাঁদের ত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন।”স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি।

উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল নানিয়ারচরের বুড়িঘাট এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থানে থাকাকালীন মুন্সী আব্দুর রউফ একাই পাক হানাদার বাহিনীর দুটি লঞ্চ ও একটি স্পিডবোট ধ্বংস করেন। তাঁর অসীম সাহসিকতায় শত্রু বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। সেই সম্মুখ সমরেই মর্টারের আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।অনুষ্ঠানে

কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের (৪১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস্, বিজিবির অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মী  উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বীরশ্রেষ্ঠের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

​হারুবিল বনবিহারে ৩২তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত: পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ও বৃক্ষের ছায়াতলে ঘেরা পানছড়ির লোগাং নদীর নিকটবর্তী চেমী ইউনিয়নে অবস্থিত হারুবিল বনবিহারে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ৩২তম কঠিন চীবর দান। সাম্য, মৈত্রী, করুণা, অহিংসা ও বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ-শান্তি ও মঙ্গলার্থে মহাশ্রাবক মহামৌদগল্যায়ন কর্তৃক প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যবাহী এই দানোৎসব ঘিরে পুণ্যার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

​মহাসমারোহে ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা গত ৩ ও ৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি: ১৮ ও ১৯ কার্তিক ১৪০০ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এই দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে পুণ্য দান করেন পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের শিষ্যসংঘের প্রধান ও রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান পরম প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো মহোদয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হারুবিল বনবিহার প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন:

​স্বাগত বক্তব্য: সাবেক চেয়ারম্যান চন্দ্র দেব চাকমা।
​শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন রঞ্জিতা চাকমা। দেশক মণ্ডলী, পূর্ণ মিত্র স্থবির, অধ্যক্ষ আদি কল্যাণ ভান্তে, মহামিত্র ভান্তে; ব্রহ্মদণ্ড ভান্তে এবং প্রজ্ঞালংকার ভান্তে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, আনন্দ জয় চাকমা চেয়ারম্যান, ২নং চেমী ইউনিয়ন পরিষদ, শান্তিজীবন চাকমা সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, পানছড়ি।

​পুণ্যার্থীদের আত্মিক প্রশান্তি দুই দিনব্যাপী এই মহতী পুণ্যানুষ্ঠানে বুদ্ধ পূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান ও প্রদীপ পূজাসহ বিভিন্ন মাঙ্গলিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এবং সকল প্রাণীর সুখ ও মুক্তি তথা নির্বাণ লাভের হেতু প্রার্থনা করার মধ্য দিয়ে এই পবিত্র দানোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

দিঘীনালায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের গেলে ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী অপুর্ব বড়ুয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের নিয়মিত লেখাপড়া হচ্ছেনা সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবী পুরন না হলে অবিভাবকদের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত কম শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।​ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার ও জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার সার্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়াশোনার পরিবেশ সুগম করতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

×