শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক সাচিং মারমা, বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রত্যাশী
রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩ নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক সাচিং মারমা।
তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সাচিং মারমা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার বাবা থোয়াইঅংগ্য মারমার দেখানো পথে সততা, ন্যায় ও স্বচ্ছতাকে ধারণ করে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করছি। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের মতামত, সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাচিং মারমা দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
সাচিং মারমার পিতা থোয়াইঅংগ্য মারমা প্রয়াত। তাঁর বাড়ি রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ডাকবাংলা বিহারপাড়ায়। স্থানীয়ভাবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সাচিং মারমা বলেন, “বাঙ্গালহালিয়ার মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণকে সামনে রেখে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। অনেক জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমার কাছে চেয়ারম্যানের পদ কোনো ক্ষমতার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার একটি দায়িত্ব। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন ইউনিয়ন পরিষদে এসে নিজের কথা বলতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পান—সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”
এদিকে সাচিং মারমার প্রার্থিতাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ।
এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন, সেটি নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং এলাকার মানুষের জন্য তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। তবে সাচিং মারমা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন এবং মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন—এ বিষয়টি তাঁর সমর্থকেরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
সাচিং মারমা বলেন, “আমি বাঙ্গালহালিয়ার প্রতিটি মানুষের দোয়া ও সমর্থন চাই। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ, প্রবীণ নাগরিক, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। নির্বাচনে জনগণ যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “বাঙ্গালহালিয়ার উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য দল-মত ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩ নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষের দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন সাচিং মারমা। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং ভোটারদের সমর্থন তাঁর প্রার্থিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাচিং মারমার প্রত্যাশা—শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে জনগণের পাশে থেকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নকে উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জনসেবার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।

| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬










