| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

 

মথি ত্রিপুরা , রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ৪ নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ার একমাত্র সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

থানচি- প্রধান সড়ক থেকে রুইফ পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি সম্ভবত ২০০২ সালে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রো জানান, অতীতেও তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটির সংস্কার সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে আমরা নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রুইফ পাড়ার বাসিন্দারা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের কৃষিপণ্য, জুমের ফসল ও বাগানের ফলমূল প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে চরম কষ্ট করতে হয়। যানবাহন পাড়ার নিচ পর্যন্ত যেতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে মালামাল বহন করতে হয়।এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি সংস্কার করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “চাংক্রান পয় মেলা” রুইফ পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বান্দরবানের সাতটি উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ মেলায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে দর্শনার্থীদের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে, একই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এলাকার শিক্ষার্থীরা। এক ছাত্রী জানায়, বর্ষাকালে সড়কটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে স্কুলে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রুইফ পাড়ার বাসিন্দারা। তাদের আশা, সড়কটির উন্নয়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রামগড়ে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি প্রকাশ

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা ও পৌর শাখার ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু। অন্যদিকে, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. বাহার উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. সেফায়েত উল্লাহ।
কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূইয়া।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেফায়েত উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আগপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা ভবনে এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সুপার আলেয়া নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও সহকারী শিক্ষক হাছেন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং কমিটির নব নির্বাচিত সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক যোবায়েরুল ইসলাম, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহেল, বিশিষ্ট সমাজ সেবক লুৎফর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম সহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় সূধীবৃন্দ।

দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার

স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

×