| ৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা মাহেন্দ্র সমিতি।

সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার ৫ জুলাই থেকে দীঘিনালা হইতে বাঘাইহাট বাজার মাহিন্দ্র যানবাহনের ভাড়া ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির সাধারন সম্পাদক মো; রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাড়া কমানোর ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তারা এ মানবিক উদ্যোগের জন্য মাহিন্দ্র সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাহিন্দ্র সমিতির লাইমেন্স বাবুধন চাকমা বলেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সমিতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি এলাকায় সরকারি লিজকৃত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে মালিক সেজে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ‘স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

দুদকের রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিলছড়ি গ্রামে অবস্থিত স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে সরকারি জমি লিজ নেওয়ার কোনো বৈধ রেকর্ডপত্র নেই। অথচ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খান প্রকৃত তথ্য গোপন করে ও নথিপত্র জালিয়াতি করে নিজেকে ভূমির মালিক দাবি করেন।

​২০১৫ সালে আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য ওই এলাকা থেকে ২২ দশমিক ১৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসন ৮ দশমিক ০৯ একর জমির জন্য ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালের ২ জুলাই হাসান মাহমুদ খান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানাটি গঠিত হলেও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন মালিকরা দেশত্যাগ করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে মরহুমা আছিয়া খানম নিজেকে কারখানার মালিক দাবি করে কারখানার জমি ‘শেল অয়েল কোম্পানি’কে সাব-লিজ দিয়ে অবৈধ অর্থ আয় শুরু করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯১ সালে আছিয়া খানমের মৃত্যুর পর তার পুত্র হাসান মাহমুদ খান কারখানার সব যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও মালামাল বিক্রি করে দেন এবং কারখানাকে অস্তিত্বহীন করে তোলেন। তবুও তিনি নিজেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করেন।

শিলছড়ির বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিনু মারমা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাফর আহমদ স্বপন জানান, ওই এলাকায় ১১৪টি ভূমিহীন পরিবার ৪০ থেকে ৬০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের বসতভিটা, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও খেলার মাঠসহ নাগরিক সুবিধা রয়েছে। হাসান মাহমুদ খান ভুয়া মালিকানা দাবি করে এসব পরিবারের ওপর উচ্ছেদ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।​ভুক্তভোগী ১১৪টি পরিবার তাদের বসতভিটা রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেছেন এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সিভিল স্যুট (নং-৮৮/১৯) চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আদালত হাসান মাহমুদ খানের মামলা খারিজের আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে তিনি সিভিল আপিল (নং-২০/২০২৫) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।ভুক্তভোগীদের আইনজীবিদের তথ্যমতে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালিয়েও স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ দাখিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে কারখানাটির কোনো অস্তিত্বই নেই, সেখানে মালিক সেজে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রের সাথে চরম প্রতারণা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দুদকের মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২০১, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ খানকে কোনো প্রকার সরকারি অর্থ যেন প্রদান করা না হয়। রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিলছড়িবাসী।

আলীকদমে টানা বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান)প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানে আলীকদমে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর থেকে লামা-আলীকদম সড়কের তিনটি স্থান ডুবে গেছে। ফলে সকাল থেকে লামার সঙ্গে আলীকদমের এবং আলীকদমের সঙ্গে লামা ও চকরিয়া যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি এখনো অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানান আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনজুর আলম। ‎ ‎

এদিকে আলীকদম ও লামার লোকজন জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার থেকে আলীকদম ও লামা উপজেলায় ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বেড়ে যায়। এতে আজ দুপুরে আলীকদম লামা সড়কের সিলেরতুয়া ও শীবাতলী এলাকা, রেপারপাড়ি বাজার, কাঁকড়া ঝিড়ি, দপ্রু ঝিরি এলাকা ডুবে যায়। যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় লোকজন সেখানে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়ে যাতায়াত করছেন। ‎ ‎

আলীকদমের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের রেপারপাড়া বাজার এলাকার ইউপি সদস্য মো. বাদশা মেম্বার জানিয়েছেন, রেপারপাড়া ও সিলেরতুয়ার, শীবাতলী নিচু এলাকায় শুধু সড়ক ডুবে যায়নি, দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়িও তলিয়ে গেছে। প্রায় ৫০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বৃষ্টি না কমায় আরও অনেক বাড়িঘর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‎ ‎

আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনজুর আলম বলেন, দুপুর থেকে আলীকদম লামা সড়ক প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানতে পেরেছি। ফলে যানবাহন বন্ধ থাকায় সড়কের উপর দিয়ে লোকজন নৌকায় করে চলাচল করছে। টানা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকা ডোবার আশঙ্কায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার জন্য লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা কন্ট্রোল রুম ও ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে।

রামগড়ে পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, গাছের চারা বিতরণ এবং ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবিএম কামরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, এনসিপির সভাপতি মো. হারুনুর রশীদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেন, রামগড় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোশারফ হোসেন মিলন এবং রামগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু।

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক মো. হানিফ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য এবং উপকারভোগীরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়নে পল্লী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে সমবায়ীদের মাঝে গাছের চারা এবং ঋণ বিতরণ করা হয়।।

×