| ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

​তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের, রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ

​তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের, রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ

 

কাপ্তাই প্রতিনিধি :

রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্বশত্রুতার জেরে স্বপন চাকমা (২৫) নামের এক যুবকের চুরিকাঘাতে রিপন চাকমা (১২) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের গণধোলাইয়ের ভয়ে ঘাতক নিজেই কাপ্তাই সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দপ্তরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

গত সোমবার  (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যান পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ​নিহত কিশোর রিপন চাকমা কাপ্তাই থানাধীন হরিণছড়া গ্রামের লক্ষচ চাকমার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে গত প্রায় তিন বছর ধরে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে জীবতলী হেডম্যান পাড়ায় তার খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বপন চাকমা জীবতলী হেডম্যান পাড়ার রিময় লাল চাকমা ও মেন্ডী চাকমা  ছেলে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপনের সঙ্গে অভিযুক্ত স্বপনের বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। আসামির পোষা দুটি কুকুরের চোখ নষ্ট করে দেওয়া এবং আসামির মাছ ধরার জাল কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পোষণ করতেন স্বপন চাকমা। ​ঘটনার দিন বিকেলে আসামির পিতা নদীতে মাছ ধরতে যান এবং মাতা চা পান করতে স্থানীয় দোকানে গেলে স্বপন বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় রিপন চাকমা আসামির বসতঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দোকান থেকে খাবার সামগ্রী এনে দেওয়ার কথা বলে কৌশল করেন ঘরের ভেতরে ডেকে নেন স্বপন। পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘরে থাকা চাকু দিয়ে রিপনের গলায় মারাত্মক আঘাত করেন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। ​হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বপন চাকমা নিহতের মরদেহ নিজ ঘরে রেখে এলাকায় গণপিটুনির শিকার হওয়ার ভয়ে পালিয়ে বাঁচতে এবং আইনগত সহায়তা পেতে সরাসরি কাপ্তাই সার্কেল অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, “গতকাল যে কিশোরকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে,  এলাকায় গণধোলাইয়ের ভয়ে সেই ঘাতক নিজে কাপ্তাই সার্কেল অফিসে এসে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি কাপ্তাই থানাকে অবগত করি এবং থানা থেকে পুলিশ ফোর্স এর মাধ্যমে আসামিকে কাপ্তাই থানার হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুড়িসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।” ​

তিনি আরও জানান, “সে কেন এই নৃশংস পথ বেছে নিয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কারও কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, তা পুলিশ  নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।” ​বর্তমানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা এই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রামগড়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি’র মতবিনিময়

​তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের, রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রামগড় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুর রব রাজা, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মতবিনিময় সভায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। সভায় উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্রেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ

​তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের, রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

 

রাজস্থলী  (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে আয়োজিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জমজমাট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ট্রাইবেকারে রাজস্থলী বাজার একাদশকে ৭-৬ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে বাঙ্গালহালিয়াসহ রাজস্থলী, কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। খেলাকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের আমেজে।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রাজস্থলী বাজার একাদশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৭-৬ গোলে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ।

খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সাচিংমং মারমা ও মিজানুর রহমান প্রিন্সের যৌথ সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২৯৯ আসনের এমপি প্রতিনিধি দিলদার হোসেন, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এমপি প্রতিনিধি আবুল হাসেম মেম্বার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞো মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ রুবেল, সদস্য সচিব উজ্জ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জিকু কুমার দে, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোনায়েদ হোসেন, সাদেক হোসেন ও সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, “খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং এলাকার মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিলদার হোসেন বলেন, “আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে ধরে রেখে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন।”

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখা এবং স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

খেলা শেষে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা কেএফসি একাদশ ও রানার্সআপ রাজস্থলী বাজার একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। একই সঙ্গে আয়োজক ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গোবিন্দগঞ্জে দুইটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক তিন

​তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের, রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ভারতে পাচারের প্রস্তুতিকালে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পালিয়ে গেছে আরও ৮-১০ জন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাখাহার ইউনিয়নের জিড়াই গ্রামের কোগারিয়া-জিড়াই পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, এনামুল হক (৫০), আলিপ হোসেন (২২) ও সরজিনা আক্তার (৩০)।

এ সময় তাদের ফেলে যাওয়া দুটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিষ্ণু মূর্তি, যার ওজন ১৬ দশমিক ৮৭ কেজি ও মূল্য ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

অপরটি কষ্টিপাথর সদৃশ বস্তু, যার ওজন ১১৯ কেজি ও মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

বিজিবির দাবি, মূর্তি দুটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ২০ বিজিবির জেসিও-১০৯২৭ মোঃ সেকেন্দার আলী বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ পলাতক ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

×