| ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ের উন্নয়নে মানবসম্পদ গঠনে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

পাহাড়ের উন্নয়নে মানবসম্পদ গঠনে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী দর্শন ও চিন্তাভাবনা ধারণ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছিলেন মহাণ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার মূল্য লক্ষ্য ছিলো বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠিদের নিয়ে একটি রংধনু জাতি গঠন। তারই জনকল্যাণমুখী দর্শন ও চিন্তাভাবনা ধারণ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এমপি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে দর্শন নিয়ে দেশের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই দর্শন আমরা যেন হারিয়ে না ফেলি। তাঁর চিন্তাভাবনার অন্যতম বিষয় ছিল মানুষের কথা বলা, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং উন্নয়ন। রংধনুর প্রতিটি রঙ আলাদা আলাদা ভাবে সুন্দর, কিন্তু যখন এই সাতটি রঙের সংমিশ্রণ হয়, তখন অপূর্ব সুন্দর রংধনু তৈরি হয়। তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী মিলে একটি রংধনু জাতি গঠনের পাশাপাশি সকলে মিলে এই পার্বত্যঞ্চলকে সমৃদ্ধ করবো।

রবিবার (২৩ আগস্ট)২৬ খ্রিঃ দুপুরে রাঙ্গামাটি’তে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়িত বিভিন্ন স্কিমের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়’ও তিনি বক্তব্য দেন।

তিনি আরো বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমেই একটি জাতি পরিপূর্ণ সমৃদ্ধ হয়। যেকোন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানবসম্পদ উন্নয়ন হয় অপরদিকে উদ্যেক্তাও তৈরি হয়। নতুন উদ্যেক্তা তৈরির জন্য নিত্য নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের আহবান জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, পুলিশ সুপার মোঃআব্দুর রকিব, বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (বাস্তবায়ন) জাহিদ ইকবাল প্রমুখ।

এই স্কিমের আওতায় গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অডিও ভিডিও এডিটিং সহ বিভিন্ন আইসিটি বিষয়ে তিন পার্বত্য জেলার মোট ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণত্তোর সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নের সুফল কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। এ অঞ্চলের যেসব মানুষ সুবিধাবঞ্চিত, যাদের জীবনমানের উন্নয়ন প্রয়োজন, তাদের জন্য কাজ করাই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আমরা চাই এই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হোক। তাদের জীবন আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর হোক। এলাকার উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

জিয়াউর রহমানের দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার মেইনুল হেলালউদ্দিন বলেন, এই দেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছে এই দেশের জনগণ। আমরা জনগণের সেবক। জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক-এই মনোভাব নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠা, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি, ভাইস চেয়ারম্যান আবু সালে, বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি’র পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

পরে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পরিচালিত রাঙ্গামাটি পার্কে উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।

দীঘিনালায় ১ তম স্কাউট লিডার কোর্সের মহা তাঁবু জলসা সমাপনী অনুষ্টান সম্পন্ন

পাহাড়ের উন্নয়নে মানবসম্পদ গঠনে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাংলাদেশ স্কাউটসের উদ্যোগে ১ তম স্কাউট লিডার কোর্স-২০২৬-এর মহা তাঁবু জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলার ২২টি বিদ্যালয়ের মোট ৪০ জন স্কাউট লিডার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুন্দর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস আলী এবং উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার মো. এ কে এম বদিউজ্জামাল।

আয়োজকরা জানান, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তিন দিনব্যাপী লিডার কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও স্কাউটিংয়ের মৌলিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্কাউট লিডাররা বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বিদ্যালয়ে স্কাউটিং কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

চট্টগ্রামে সফল চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরেছেন ১৭ রোগী

পাহাড়ের উন্নয়নে মানবসম্পদ গঠনে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটির জেলার সাজেক এলাকায় সেনা জোনের মানবিক সহায়তা ও উদ্যোগে চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন সম্পন্ন করা ১৭ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী সফল চিকিৎসা শেষে সাজেকে ফিরে এসেছেন।

সাজেকের দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনা জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনা জোনের নিজস্ব অর্থায়নে, চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে গমনাগমন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চক্ষু অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

চিকিৎসা শেষে রোগীরা সুস্থ ও নিরাপদে সাজেকে ফিরে আসেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করায় সেনা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাজেক সেনা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ

পাহাড়ের উন্নয়নে মানবসম্পদ গঠনে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম (অ.দা.), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বিভীষণ চাকমা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিরালা কান্তি চাকমা এবং থানা পুলিশের এসআই (ভা.) সিরাজুল ইসলাম।

×