| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

 

বিশেষ প্রতিবেদক :

পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১১টি প্রধান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী— চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, লুসাই, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি ও চাক—প্রকৃতি, জুম চাষ ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে বাঁধা এক অনন্য জীবনপ্রবাহের অধিকারী।

​জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি :

জুম চাষ (লেঙবা/ঝুম) : পাহাড়ের ঢালে পাড় কেটে ধান, মারফা, তুলা, তিল ও শাকসবজি ফলানো ঐতিহ্যবাহী ও যৌথ কৃষি ব্যবস্থা।

​মাচাং ঘর : বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাটির ওপর উঁচুতে তৈরি ঘর, যা আর্দ্রতা ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে এবং নিচের অংশে গবাদি পশু বা জুমের সরঞ্জাম থাকে।

​পানি ও ঝিরি নির্ভরতা : পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝিরি-ঝরনা হলো সুপেয় পানি ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রধান উৎস।

​নির্বাচিত জাতিগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার বৈশিষ্ট্য ও রূপরেখা জাতিগোষ্ঠী প্রধান বসতি/অঞ্চল বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও জীবন-জীবিকা তুলে ধরা হলো-

চাকমা : রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি

সমতলের কাছাকাছি বসবাসকারী : স্থায়ী কৃষি ও তাঁতশিল্পে দক্ষ। সাংগ্রাই ও বিজু উৎসবে মুখর।

মারমা : বান্দরবান, খাগড়াছড়ি

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সাংগ্রাই উৎসব ও জলকেলি তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।

ত্রিপুরা : খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি

বৈসুক উৎসব ও গড়াইয়া নৃত্য প্রসিদ্ধ : জুম ও মিশ্র চাষে পারদর্শী।

তঞ্চঙ্গ্যা : রাঙ্গামাটি (কাপ্তাই, রাজস্থলী) ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক (পিনোন-হাদি) ও গহনার বিশেষ কারুকাজ জুম ও মাছ শিকার নির্ভর।

ম্রো : বান্দরবান (রুমা ও থানচি)

প্রকৃতিপূজারি ; বাঁশের তৈরি সুউচ্চ মাচাং ঘর এবং ‘জিয়াং’ বা মুড়ং বাদ্যযন্ত্র ও রিবাং নৃত্য অনন্য।

লুসাই: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান

ঐতিহ্যবাহী সুতি কাপড়ের বুনন ও পাহাড়ি ফলমূল সংগ্রহ; তুলনামূলক বিচ্ছিন্ন ও নিজস্ব কমিউনিটি আইনপ্রিয়।

বম : বান্দরবান

খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বেশি; কোরাস গান, বাঁশশিল্প ও পাহাড়ি জুমচাষে সুসংগঠিত।

পাংখোয়া : রাঙ্গামাটি (বিলাইছড়ি)

ঝরনাপারের অতি দুর্গম এলাকায় বাস; ঝুড়ি ও বাঁশের কারুকাজে সিদ্ধহস্ত।

খিয়াং : বান্দরবান

ছোট পরিসরের জনগোষ্ঠী; মারমা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রভাবযুক্ত মিশ্র জীবনধারা।

খুমি : বান্দরবান (থানচি, রুমা)

অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি চূড়ায় বসবাস; চুল বাঁধার ভিন্ন শৈলী এবং কঠোর জুমনির্ভর আত্মনির্ভরশীলতা।

চাক : বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি)

নিজস্ব ভাষা ও বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির বাহক; সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতিতে জুম ও পাহাড়ি বনজ সম্পদ সংগ্রহজীবী।
বেঁচে থাকার অন্তহীন কাহিনি (সংগ্রাম ও রূপান্তর)
​প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও সহাবস্থান: খরা, জুম ফলন বিপর্যয় বা পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস মোকাবিলা করে তারা প্রতি বছর নতুন করে জুমের বীজ বোনে। এই জীবনপ্রবাহ কেবল অর্থনীতি নয়, এটি এক ধরনের পরিবেশগত দর্শন।

​সংস্কৃতির সংরক্ষণ বনাম আধুনিকায়ন: কাপ্তাই বাঁধের প্লাবনভূমি থেকে শুরু করে আধুনিক বাজার অর্থনীতির ধাক্কা—পাহাড়ের মানুষ আজ একদিকে ঐতিহ্যবাহী জুম ও বনজ অধিকার রক্ষার লড়াই করছে, অন্যদিকে শিক্ষা ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন গন্তব্য খুঁজছে।

​নারীর অবদান: জুমের খেত পরিচর্যা থেকে শুরু করে তাঁতের কাপড় বোনা—পাহাড়ি নারীর শ্রম ও দক্ষড়াই মূলত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে।

​পাহাড়ের প্রতিটি সূর্যোদয় তাদের কাছে এক নতুন সংগ্রাম—যেখানে বাঁশ, জুমের ছাই, ঝিরির পনির ঠান্ডা জল আর মাচাংয়ের রাত মিলে তৈরি হয় এক অদম্য টিকে থাকার মহাকাব্য।

রামগড়ে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি প্রকাশ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা ও পৌর শাখার ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু। অন্যদিকে, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. বাহার উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. সেফায়েত উল্লাহ।
কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূইয়া।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেফায়েত উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আগপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা ভবনে এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সুপার আলেয়া নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও সহকারী শিক্ষক হাছেন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং কমিটির নব নির্বাচিত সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক যোবায়েরুল ইসলাম, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহেল, বিশিষ্ট সমাজ সেবক লুৎফর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম সহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় সূধীবৃন্দ।

দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার

স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

×