| ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলায় রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যের পুরাতন কেন্দ্রীয় হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার ভাবগাম্ভীর্য মধ্যে দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মেরলম্বীদের মারমা সম্প্রদায়ের মধু পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার দিনব্যাপী সকাল ৯ টা হতে শুরু দায়ক দায়িকারা সহ ছোট বড় নারী পুরুষ সহ নতুন পোষাক পরিধান নিজের ঐতিহ্য সংস্কৃতির থামি লুঙ্গি পড়ে হাতে টিফিন কেরি পানিও বিভিন্ন ফলফ্রুট নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় জিনিস নিয়ে দলবল নারী পুরুষ শিশুরাসহ বৌদ্ধ বিহারে যেতে দেখা গেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বিহার কমিটি সাবেক সভাপতি ঞোমং মারমা বিহার কমিটি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ক্যচিং মারমা বিহার কমিটি সম্পাদক মংসাথোয়াই মারমা মংচিং চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক উচিংমং চৌধুরী প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি চাইথোয়াইমং মারমা আন্তজার্তিক মানবাধিকার এম্বাসেডর চেয়ারম্যান সহধর্মিণী ক্রানুবাই মারমা উষাবাই মারমা সাবেক প্রধান শিক্ষক মংহলাঅং মাষ্টার বৌদ্ধ বিহারে যুবক যুবতী প্রধানগণ পাড়া হতে আগত বৌদ্ধ ধর্মপ্রাণ দায়ক দায়িকারা উপাসক উপাসিকা ছোট বড় শিশু সহ নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

আজকে বৌদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে গৌতম বুদ্ধ অরণ্যের নিরব নিস্তব্ধ জঙ্গলে পাহাড় পর্বত ধ্যান সাধনায় করে, এরপর বিভিন্ন প্রাণী বন্য হাতিসহ বানর জঙ্গল হতে মধু আহরণ করে গৌতম বুদ্ধের কাছে মধু দান করেন। এর পর হতে পূণিমা তিথিতে বুদ্ধ ধর্মের লম্নীরা অনুসারী সারা বিশ্ব বৌদ্ধ জাতিরা মধু পূণিমা উদযাপন করি। দুপুরে বিহারে গৌতম বুদ্ধের কাছে পিন্ড দান পানীয় জলের দান, মিষ্টি জাতীয় দান মিশ্রিত জাতীয় ফলফ্রুট দান করেন। এর পর গৌতম বুদ্ধের বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রদীপ জ্বলে পূজা করে পঞ্চশীল অষ্টশীল ছোট বড় শিশুরা সহসকল দায়ক দায়িকারা প্রার্থণা করি। দুপুরে সকলে মিলে ছোটরবড় শিশু নারী পুরুষ দায়িকারা আহার করে থাকে। বিহার প্রধান গুরু ভান্তে কে পিন্ড দানসহ টাকা পয়সা দান করতে দেখা যাচ্ছে।

বিহার অধ্যক্ষ ঞানাওয়াইসা মহাথের সকলে উদ্দেশ্য বুদ্ধের ত্রিপিটক জাতক পাঠ মধু পূর্ণিমা বিষয়ে কাহিনি তুলে ধরেন এবং ধর্মের আলোকপাত করেন। আজকের দিনে পূর্ণিমা তিথিতে মধু পূর্ণিমা শান্তি শৃঙ্খলা পরিবেশের উদযাপন করা হয়েছে বলে জানান। প্রতিবছরে ন্যায় এবছরে হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারসহ রাজস্থলী উপজেলাতে দুর দুরান্ত বিভিন্ন বিহারে এক সাথে ভাবগাম্ভীর্যের মধু পূর্ণিমা উদযাপিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। শেষান্তে সব্বে স ত্তা সুখীতা হোন্ত জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, চট্টগ্রাম :

মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার এই প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: মাসুদ আলম ( বিপিএম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম,( বিপিএম) বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

রামগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা দিলেন এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া

বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ঢেউটিন ও ৩ হাজার টাকা করে চেক তুলে দেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম।

এ সময় প্রধান অতিথি,র বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করা জরুরি। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মালেক মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের সদগতি কামনায় দীঘিনালা বন বিহারে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন

বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি:

নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত ব্যক্তিদের আত্মার সদগতি কামনা এবং বিশ্বশান্তি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পরিবেশে মহাসংঘদান ও মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় মোতাবেক এই মধু পুর্ণিমা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোর সকাল থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্ভীরা বিহারে সমবেত হয়ে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান,মহা সংঘদান অনুষ্টানত অনুষ্টিত হয়। অনুষ্টান প্রধান ধর্ম আলোচক হিসেবে উপস্তুিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহা স্থবির ভান্তে, অনুষ্টানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন।  অনুষ্টান উদযাপন কমিটির সভাপতি বিধর্ব রজ্ঞন চাকমা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের আত্মার সদগতি কামনা করা হয়। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গত মানুষের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্ভীরা ভিক্ষু সংঘকে মধু ও বিভিন্ন দানসামগ্রী প্রদান করেন। ধর্মীয় আলোচনায় মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য এবং বৌদ্ধ ধর্মের দান, শীল ও মানবকল্যাণের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের সদস্য, স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্ম আলোচক নন্দপাল মহা স্থবির ভান্তে বলেন, মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় দিন। এদিন দান ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

অনুষ্ঠান শেষে নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার সদগতি, আহতদের সুস্থতা এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এবং বিকেলে মাসব্যাপি পটঠান পাঠ শত্রু সমাপনী অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়।

×