| ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় জুমচাষ আজও তাদের জীবিকা নির্বাহের মূল চালিকাশক্তি ও অবিনাশী ঐতিহ্য। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়গুলোতে এখন চলছে জুমের সোনালি ধান কাটার ধুম ও ধান মাড়াইসহ উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বহুমুখী প্রতিকূলতা ও নানা সংগ্রামের মধ্যেও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে জুমিয়াদের মুখে যেমন সোনালি হাসির ঝিলিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম জামাইছড়ি, সীতাপাহাড়, চাকুয়াপাড়া, মৈদং, আড়াছড়ি, কাপ্তাই হরিণছড়া, ব্যাঙছড়ি, ওয়াগ্গা রামপাহাড় এবং মইংপাড়াসহ পাহাড়জুড়ে এখন জুমচাষের এক নান্দনিক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিৎমরমের জামাইছড়ি প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে মারমা সম্প্রদায়ের জুমিয়ারা বংশপরম্পরায় এই প্রাচীন চাষাবাদ চালিয়ে আসছেন।
​চলতি মৌসুমে কাপ্তাই উপজেলায় মোট ৩৩৬ হেক্টর জমিতে জুমচাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি জাতের বিভিন্ন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। জুমচাষকৃত ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে তুর্কি ধান, গ্যালন ধান, দুলি ধান, মাংসাই ধান, বাসমতি ধান, বাঁশ ধান, পাত্তিকী ধান, বিন্নি ধান (সাদা ও লালসহ) এবং কবরকসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি জাত।

ধানের পাশাপাশি জুমের বহুমুখী ফসলের তালিকায় রয়েছে— কলা, হলুদ, আদা, পেঁপে, পাহাড়ি আলু, তিল-তিষী, পাহাড়ি মরিচ, বেগুন, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, শিম, ভুট্টাসহ হরেক রকমের শাকসবজি।

পাহাড়ে জুমচাষ করা মুখের কথা নয়। তীব্র রোদ, বৃষ্টি আর বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট মাচাং ঘর তৈরি করে রাত পাহারা দেন জুমচাষিরা। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাহাড় পরিষ্কার করে জুমের উপযোগী করার পর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বীজ রোপণ করা হয়। এরপর তিন মাস পর ভাদ্র মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব ফসল ঘরে তোলেন জুমিয়ারা। বর্ষার বৃষ্টির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে পরিচালিত এই চাষাবাদে জুমিয়াদের প্রচুর শারীরিক শ্রম দিতে হয়।

জুমিয়াদের তথ্যমতে, জুমচাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও উপযুক্ত আবহাওয়া ও ভালো ফলন পেলে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। তবে এবারে ফলন নিয়ে কিছু হতাশার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। সময়মতো কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছু ধান ও নানাবিধ ফসল পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জুমিয়া সুইহ্লামং মারমা ও উসুইসিং মারমা আক্ষেপ করে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি সময়মতো নিয়মিত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পেতেন, তবে তাঁরা আরও অনেক বেশি লাভবান হতে পারতেন। এছাড়া পানির তীব্র সংকট কৃষকদের উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সেচ বা পানির ব্যবস্থা করলে তাঁরা আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করতে পারতেন বলে আশা প্রকাশ করেন মৈদং ও ব্যাঙছড়ি পাহাড়ের জুমচাষি সাইংসুই ও স্বপ্না মারমা।

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি জমিতে নিয়মিত জুমচাষ হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. আহসান হাবীব জানান, পাহাড়ের মানুষের কাছে জুমচাষ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। জুমচাষের ফলে পাহাড়ি মাটির কিছু ক্ষতি হলেও প্রতিবছর স্থান পরিবর্তন করে চাষ করার কারণে বড় ধরনের ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
​কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ জুম নির্ভর। জুমের ফলন ভালো হলে পাহাড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যদি জুমচাষ করা যায় এবং উন্নত জাতের বীজ ও সার সহজলভ্য হয়, তবে ফলন দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে। এতে জুমিয়ারা কেবল নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল বিক্রি করতে পারবেন এবং একই জমিতে সারা বছর চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হলে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে বেঁচে থাকা কাপ্তাইয়ের এই পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জুমচাষ কেবল জীবিকার তাগিদ নয়, এটি তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও টিকে থাকার এক অনন্য সংগ্রামের গল্প।

দীঘিনালায় ১ তম স্কাউট লিডার কোর্সের মহা তাঁবু জলসা সমাপনী অনুষ্টান সম্পন্ন

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাংলাদেশ স্কাউটসের উদ্যোগে ১ তম স্কাউট লিডার কোর্স-২০২৬-এর মহা তাঁবু জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলার ২২টি বিদ্যালয়ের মোট ৪০ জন স্কাউট লিডার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুন্দর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস আলী এবং উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার মো. এ কে এম বদিউজ্জামাল।

আয়োজকরা জানান, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। তিন দিনব্যাপী লিডার কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন ব্যবহারিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও স্কাউটিংয়ের মৌলিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্কাউট লিডাররা বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বিদ্যালয়ে স্কাউটিং কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

চট্টগ্রামে সফল চক্ষু অপারেশন শেষে সাজেকে ফিরেছেন ১৭ রোগী

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটির জেলার সাজেক এলাকায় সেনা জোনের মানবিক সহায়তা ও উদ্যোগে চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন সম্পন্ন করা ১৭ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী সফল চিকিৎসা শেষে সাজেকে ফিরে এসেছেন।

সাজেকের দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনা জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনা জোনের নিজস্ব অর্থায়নে, চট্টগ্রামের লায়ন্স হসপিটালে গমনাগমন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চক্ষু অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

চিকিৎসা শেষে রোগীরা সুস্থ ও নিরাপদে সাজেকে ফিরে আসেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করায় সেনা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাজেক সেনা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব : জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা, রয়েছে কিছু আক্ষেপও

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম (অ.দা.), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বিভীষণ চাকমা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিরালা কান্তি চাকমা এবং থানা পুলিশের এসআই (ভা.) সিরাজুল ইসলাম।

×