| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার ‘বুদ্ধ কীর্তন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

বিলাইছড়িতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার ‘বুদ্ধ কীর্তন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার রচিত ‘বুদ্ধ কীর্তন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সকালের পর্বে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের ও প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের। বিকেলের পর্বে অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দান ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহম্মদ, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওসমান গনি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান ও পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার রচিত ‘বুদ্ধ কীর্তন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। পরে প্রয়াত লেখকের ছেলে নিদর্শন বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া ও রেণু বড়ুয়া অতিথিদের হাতে বইটি তুলে দেন। বইটির সূচিপত্রে গৌতম বুদ্ধের শাক্য ও কোলীয় বংশপরিচয়, শাক্যসিংহের জন্মের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থা, পঞ্চকল্যাণ, মহামায়া দেবীর স্বপ্ন, সিদ্ধার্থের জন্ম, নামকরণ, বাল্যকাল, বিদ্যাশিক্ষা, বিবাহ, উদ্যান ভ্রমণ, গোপার স্বপ্ন ও রাহুলের জন্ম, পিতৃবিদায়, গোপার বিদায়, ছন্দকের বিদায় এবং সন্ন্যাস গ্রহণসহ গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্থান পেয়েছে।

গ্রন্থটি প্রয়াত প্রভাত কান্তি বড়ুয়া ও প্রয়াত বিদর্শন বড়ুয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রভাত কান্তি বড়ুয়া ১৯৫১ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বইটিতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম থেকে শুরু করে তাঁর সংসারজীবন, সন্ন্যাস গ্রহণ ও জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার রচিত এ গ্রন্থটি বুদ্ধের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রামগড়ে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি প্রকাশ

বিলাইছড়িতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার ‘বুদ্ধ কীর্তন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা ও পৌর শাখার ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু। অন্যদিকে, রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. বাহার উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. সেফায়েত উল্লাহ।
কমিটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূইয়া।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেফায়েত উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

বিলাইছড়িতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার ‘বুদ্ধ কীর্তন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আগপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা ভবনে এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার সুপার আলেয়া নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ও সহকারী শিক্ষক হাছেন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং কমিটির নব নির্বাচিত সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক যোবায়েরুল ইসলাম, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহেল, বিশিষ্ট সমাজ সেবক লুৎফর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম সহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় সূধীবৃন্দ।

দিঘীনালায় দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ২য় বার্ষিক কঠিন চীবর দান উদযাপন

বিলাইছড়িতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার ‘বুদ্ধ কীর্তন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার দিব্য রাজ কানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২য় তম কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার ২ নভেম্বর উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে দিন ব্যাপি অনুষ্টানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে সকালে বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দানসহ নানা দানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টান পরিচালনা করেন ত্রিদিব দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শান্তি প্রিয় চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য, বিশেয অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: জয়নাল আবেদীন, তরুন কান্তি চাকমা অধ্যক্ষ দিঘীনালা সরকারি ড্রিগ্রী কলেজ, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক উপস্থিত ছিলেন তেজ বংশ মহাথের খাগড়াছড়ি তেতুল তলা অগ্রমৈত্রী নিদর্শন পাবনা কেন্দ্র,বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন চন্দ্র কীর্তি মহাথের সিদ্ধা নন্দ বৌদ্ধ বিহার দিঘীনালা,অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শ্রদ্ধা লংকার মহাথের, উদল বাগান সংঘ রত্ন বৌদ্ধ বিহার

স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তরু কান্তি চাকমা। তিনি বলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, মানবতা ও প্রজ্ঞার শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একইভাবে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে, জীবের প্রতি দয়াশীল হতে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি সচেতন, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তরুন কান্তি চাকমা।

অনুষ্ঠানের সভাপতি লংকার ভান্তে বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরিশেষে ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও মহান কঠিন চীবর দান করে দিনব্যাপি ধর্মীয় অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

×