| ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

মোঃ জালাল হোসেন, পানছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ খাগড়াছড়ির সম্ভাবনাময় উপজেলা।পাহাড়ের সবুজ হাতছানি, মেঘের আনাগোনা, স্বচ্ছ জলরাশি, ঘন অরণ্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অপূর্ব সমাহার—প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ এ জনপদ। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে দেশের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পানছড়ি।

পানছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ মায়াবিনী লেক। উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের কংচাইরী পাড়ায় পাহাড়বেষ্টিত এই লেকটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। চারপাশের সবুজ পাহাড়, শান্ত জলরাশি, ছোট ছোট দ্বীপ এবং নৌভ্রমণের সুযোগ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

পানছড়ির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ শান্তিপুর অরণ্য কুটির। প্রায় ১৮০ একর পাহাড়ি বনভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিলনস্থল। ঘন সবুজ অরণ্যের মাঝে অবস্থিত বিশাল বুদ্ধমূর্তি, নিরিবিলি পরিবেশ এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এখানে প্রকৃতির নীরবতার পাশাপাশি পাওয়া যায় মানসিক প্রশান্তির আবহ।

এ ছাড়া পানছড়ির মায়াকানন, পানছড়ি রাবার ড্যাম, চেঙ্গী নদীর তীর, পাহাড়ি পথ, সবুজ বনভূমি ও গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্য পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বর্ষায় পাহাড়ের সবুজ রূপ, শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি এবং বিকেলের সোনালি আলোয় পাহাড়ের দৃশ্য এ অঞ্চলকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।

শুধু প্রকৃতিই নয়, পানছড়ি শিক্ষা বিস্তারেও নিজস্ব পরিচয় বহন করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বনামধন্য কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়,পানছড়ি সরকারি কলেজ, ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, পূজগাঙ মুখ উচ্চ বিদ্যালয়, লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এ জনপদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও পানছড়ি সমৃদ্ধ। শান্তিপুর অরণ্য কুটির ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়। উপলছড়ি বৌদ্ধ বিহার, নালকাটা আম্রকানন জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পানছড়ি বাজার কেন্দ্রীয় দেবালয়, বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদ এ অঞ্চলের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাসে পানছড়ি হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক জনপদ। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। প্রকৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনধারার এই সমন্বয় পর্যটকদের কাছে পানছড়িকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে পানছড়িতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, পাহাড়ি ভিউপয়েন্ট, ইকো-ট্যুরিজম, স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন এবং গ্রামীণ পর্যটনের ব্যাপক বিকাশ সম্ভব। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

পানছড়ির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষ। পাহাড়ের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সৌন্দর্য, মায়াবিনী লেকের শান্ত জলরাশি, অরণ্য কুটিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞানচর্চা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার সহাবস্থান—সব মিলিয়ে পানছড়ি যেন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের জনপদ।

যথাযথ পরিকল্পনা, প্রচার ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পানছড়ির এই সম্ভাবনাগুলো বিকশিত হলে একদিন এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে পানছড়ি এগিয়ে যাক সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির পথে।

দিঘীনালায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের গেলে ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী অপুর্ব বড়ুয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের নিয়মিত লেখাপড়া হচ্ছেনা সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবী পুরন না হলে অবিভাবকদের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত কম শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।​ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার ও জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার সার্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়াশোনার পরিবেশ সুগম করতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

পাহাড়, লেক, অরণ্য আর সম্প্রীতির জনপদ খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অপপ্রচার ও তাকে মাদ্রাসার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবীতে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মাদরাসা মাঠে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।

এসময় তাঁরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের নিন্দা জানান। তারা অবিলম্বে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে পূণ:বহালের দাবী জানান। তারা আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে হাইকোট থেকে তাকে পুণঃরায় দায়িত্ব বুঝে দেয়ার নির্দেশ দিলেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে নানা ধরণের গড়িমসি করে আসছে। তারা অবিলম্বে উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ মোখলেছুর রহমানকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবী জানান।

×