| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

৭০ লাখ টাকার হিসাব নেই, সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির কার্যালয়ে তালা

৭০ লাখ টাকার হিসাব নেই, সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির কার্যালয়ে তালা

 

সাত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি সদস্যদের, নিবন্ধন বাতিলের আশঙ্কা

 

উচ্চপ্রু মারমা :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া অটো রিকশা চালক সমবায় সমিতির (সিএনজি সমবায় সমিতি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করা, সদস্যদের সঞ্চয়ের অর্থের সঠিক হিসাব না পাওয়া এবং সমিতি পরিচালনায় নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সাধারণ সদস্যরা। একই সঙ্গে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। এ সময় তাঁরা সমিতির আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, সদস্যদের জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সমিতির সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সমিতির কোনো পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে সদস্যদের ব্যক্তিগত সঞ্চয়, দুর্ঘটনাকালীন সহায়তা তহবিল এবং মৃত্যুকালীন ফান্ডের অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

সদস্যদের দাবি, এসব খাতসহ সমিতির বিভিন্ন তহবিলে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হিসাব চাইতে গেলেও তাঁরা সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি। ফলে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, সমিতির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকায় সদস্যদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বিক্ষুব্ধ সদস্যরা জানান, একটি সমবায় সমিতি গড়ে ওঠে সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সঞ্চয় এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাঙ্গালহালিয়া অটো রিকশা চালক সমবায় সমিতিতে দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করা হয়। এতে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাঁরা কার্যালয়ে তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের ইচ্ছামতো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সদস্যদের জমাকৃত অর্থের সঠিক হিসাব না দেওয়ার পাশাপাশি সমিতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ সদস্যদের অবহিত করা হচ্ছে না। সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় এখন সমিতির অস্তিত্ব নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচালনাগত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সদস্যদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের শ্রম ও সঞ্চয়ের অর্থ জমা দিয়ে যে সমিতিকে তাঁরা নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলেছেন, সেই সমিতির নিবন্ধন বাতিল হলে তাঁদের জমাকৃত অর্থের কী হবে?

সদস্যদের ভাষ্য, সমিতির নিবন্ধন বাতিল হলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাই তৈরি হবে না, বরং এর সঙ্গে জড়িত অসংখ্য অটোরিকশা চালকের সঞ্চয়, আর্থিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই নিবন্ধন বাতিলের আগে সমিতির আর্থিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সদস্যদের অর্থের হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া সদস্যরা বলেন, ‘আমরা কেউ বড় ব্যবসায়ী নই। দিনভর অটোরিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় করি, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে হয়। সেই উপার্জন থেকে কষ্ট করে কিছু টাকা সমিতিতে জমা দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমা টাকার কোনো সঠিক হিসাব পাচ্ছি না। সাত বছর ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের টাকা কোথায় গেল, কোন খাতে ব্যয় হলো, তা জানতে চাই।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘সমিতি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সাধারণ সদস্যদের অর্থ ও শ্রমে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রত্যেক সদস্যের অধিকার রয়েছে হিসাব জানার। আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ চাই না। আমরা শুধু আমাদের কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সদস্যরা জানান, সমিতির আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, সদস্যদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কার্যালয়ের তালা খুলবেন না। তাঁদের দাবি, সমিতির বিগত সাত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করে সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুকালীন তহবিলের অর্থের প্রকৃত অবস্থাও প্রকাশ করতে হবে।

এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া অটো রিকশা চালক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন দে বলেন, ‘আমি শুনেছি সদস্যরা সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছেন। আমি তখন বান্দরবানে ছিলাম। বাঙ্গালহালিয়ায় ফিরে বিষয়টি বিস্তারিত জানাব।’

সমিতির প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।

এদিকে, সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অটোরিকশা চালক ও সমিতির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দীর্ঘদিনের এই আর্থিক বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হলে সমিতির কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ সদস্যদের দাবি, সমিতির ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের খাতা, অডিট রিপোর্ট, সদস্যদের সঞ্চয়ের রেকর্ড এবং দুর্ঘটনা ও মৃত্যুকালীন ফান্ডের আর্থিক।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ পিএম

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে যাজক হচ্ছেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা

৭০ লাখ টাকার হিসাব নেই, সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির কার্যালয়ে তালা

 

বলীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী আয়োজন, অভিষেক ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা

মথি ত্রিপুরা, রুমা, (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর শুক্রবার বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে যাজক পদে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি তাঁর অভিষেক সম্পন্ন করবেন।

এই অভিষেককে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নিজ জাতিগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে যাজক হিসেবে পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাওয়ায় ঘটনাটিকে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিষেক উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বরণ অনুষ্ঠান, পবিত্র আরাধনা, মঙ্গলানুষ্ঠান, যাজকীয় অভিষেক, ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ, সংবর্ধনা ও প্রীতিভোজ।

আয়োজকদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। বিকেল ৫টায় পবিত্র আরাধনা এবং সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গলানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায় মূল যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অভিষেক শেষে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা এবং দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের আয়োজন রয়েছে। পরদিন ৭ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টায় ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা ও দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা প্রয়াত ধর্মচরণ ত্রিপুরা ও সাইজমা ত্রিপুরার নবম সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত নিবেদিতা কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লী, বলীপাড়ার রীসংসং পাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে, বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিষেক অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজক, ধর্মপল্লীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুষ্ঠানে আগত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, অতিথি, আত্মীয়স্বজন ও খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের বরণ এবং সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় সাজানো হচ্ছে পুরো আয়োজনস্থল।

সম্প্রদায়ের সদস্যরা মনে করছেন, এই যাজকীয় অভিষেক শুধু ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অগ্রযাত্রা ও আধ্যাত্মিক বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস, মানবসেবা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।

অভিষেক উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা খ্রিষ্টান স্টুডেন্টসসহ বিভিন্ন সংগঠন ও পর্যায় থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সুস্বাস্থ্য, আধ্যাত্মিক শক্তি এবং সফল যাজকীয় জীবনের জন্য প্রার্থনা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে এখন বলীপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ। সবার অপেক্ষা ৬ নভেম্বরের সেই বিশেষ দিনের, যেদিন নতুন যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হবেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ এএম

লংগদু গাথাছড়া বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব শাজাহান চৌধুরী “শিক্ষার মানোন্নয়নে দিলেন দিকনির্দেশনা”

৭০ লাখ টাকার হিসাব নেই, সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির কার্যালয়ে তালা

 

আবু বককর, লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গাথাছড়া বায়তুশ শরফ আলিম মাদ্রাসা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাজাহান চৌধুরী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি মাদ্রাসার ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাদ্রাসার সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায় গড়ে তোলা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য মাও : মোস্তাফিজুর রহমান, রাঙামাটি জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম, লংগদু উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর মাওলানা মো. এ এল এম সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি তাজমাহমুদ, সহকারী সেক্রেটারি শিহাব উদ্দিন, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি এখলাস মিয়া খান, বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের সুপার হাফেজ আলহাজ্ব মাওলানা ফোরকান আহমদসহ মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।


পরিদর্শনকালে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। তাঁর এ পরিদর্শন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

খাগড়াছড়িতে ৩২তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত: ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত আর্য বন বিহার

৭০ লাখ টাকার হিসাব নেই, সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; বাঙ্গালহালিয়া সিএনজি সমিতির কার্যালয়ে তালা

 

​ছন্দ সেন চাকম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

​খাগড়াছড়ির আর্য বন বিহারে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ৩২তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। বস্তু দানের এই শ্রেষ্ঠ দানে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পুণ্যার্থী ও উপাসক-উপাসিকা অংশ নেন।

​উৎসবের শুরুতে ফিতা কেটে বেইন ঘরের উদ্বোধন করেন রাজ বন বিহারের বন ভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান ও আবাসিক প্রধান শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞা লংকার মহাস্থবির মহোদয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আর্য বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ ভদ্দজি মহাস্থবিরসহ বিভিন্ন বিহার থেকে আগত বিহার অধ্যক্ষ মহোদয়গণ।

‘চিরং তিত্থাতু বুদ্ধ সাসানম’ এই শাশ্বত বাণীর আলোকে ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সদ্ধর্ম আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, রাজ বন বিহারে প্যাগোডার জন্য অর্থ দান এবং হাজার প্রদীপ দানসহ নানা প্রকার দানের মাধ্যমে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ২৯৮ নম্বর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ওয়াদুদ ভূইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভিক্ষু সংঘের মধ্যে শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবিরসহ আরও অনেক বিহার অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে আর্য বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ ভদ্দজি মহাস্থবির মহোদয়কে কঠিন চীবরটি দান করা হয়।

হাজারো পুণ্যার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।

×