কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে
বান্দরবান, রুমা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের সশস্ত্র জীবনের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সদস্য। পরিবারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণের পর ওই সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আত্মসমর্পণকারী ওই সদস্য জানান, তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ কেএনএফের সদস্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সেখান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিবারের সহযোগিতায় ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে গতকাল আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
একই সঙ্গে কেএনএফের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদেরও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান আত্মসমর্পণকারী এই সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালের পর থেকে সংগঠনটির তৎপরতা পার্বত্য এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গল বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে কাজ করছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন মানবিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে




