মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম:

লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
2 বার পড়া হয়েছে
লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাংগামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার আগামী ২ বছর মেয়াদী দায়িত্বশীল নির্বাচনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মূল ভিত্তি হলো ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলাকে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মেনে শাসননীতি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই’ এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে উপস্থিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী মেয়াদের জন্য পুনরায় হাফেজ আব্দুল মতিন-কে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আলী-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়

সাজেকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সংবর্ধনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অমর আলি, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ সাজেক ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে সাজেকসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধান অতিথি বক্তব্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাজেকসহ পুরো জেলার উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ের মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

বিলাইছড়িতে এমপির প্রতিনিধি হলেন জাফর আহাম্মদ ও ধনমনি চাকমা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ ও সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ধনমনি চাকমা।

জানা গেছে, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের অনুপস্থিতিতে বিলাইছড়ি উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ। একইভাবে ত্রাণ ও সমাজসেবা কমিটিতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ধনমনি চাকমা।

গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মো. জাফর আহাম্মদকে বিলাইছড়ি উপজেলায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রমে তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন মো. জাফর আহাম্মদ।

অন্যদিকে, একই তারিখে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান স্বাক্ষরিত পৃথক আরেকটি চিঠিতে ধনমনি চাকমাকেও বিলাইছড়ি উপজেলায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তিনি সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ের ত্রাণ ও সমাজসেবা কমিটির কার্যক্রমে তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

চিঠি দুটি বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. জাফর আহাম্মদ ও ধনমনি চাকমা বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান মহোদয় আমাদের ওপর যে আস্থা ও দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, এজন্য আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা নির্বাহ উর্পাজন সংস্কার রক্ষার্থে প্রান্তিক পরিবর্তন পিছিয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

 

বিশেষ প্রতিবেদক :

পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১১টি প্রধান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী— চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, লুসাই, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি ও চাক—প্রকৃতি, জুম চাষ ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে বাঁধা এক অনন্য জীবনপ্রবাহের অধিকারী।

​জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি :

জুম চাষ (লেঙবা/ঝুম) : পাহাড়ের ঢালে পাড় কেটে ধান, মারফা, তুলা, তিল ও শাকসবজি ফলানো ঐতিহ্যবাহী ও যৌথ কৃষি ব্যবস্থা।

​মাচাং ঘর : বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাটির ওপর উঁচুতে তৈরি ঘর, যা আর্দ্রতা ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে এবং নিচের অংশে গবাদি পশু বা জুমের সরঞ্জাম থাকে।

​পানি ও ঝিরি নির্ভরতা : পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝিরি-ঝরনা হলো সুপেয় পানি ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রধান উৎস।

​নির্বাচিত জাতিগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার বৈশিষ্ট্য ও রূপরেখা জাতিগোষ্ঠী প্রধান বসতি/অঞ্চল বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও জীবন-জীবিকা তুলে ধরা হলো-

চাকমা : রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি

সমতলের কাছাকাছি বসবাসকারী : স্থায়ী কৃষি ও তাঁতশিল্পে দক্ষ। সাংগ্রাই ও বিজু উৎসবে মুখর।

মারমা : বান্দরবান, খাগড়াছড়ি

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সাংগ্রাই উৎসব ও জলকেলি তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।

ত্রিপুরা : খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি

বৈসুক উৎসব ও গড়াইয়া নৃত্য প্রসিদ্ধ : জুম ও মিশ্র চাষে পারদর্শী।

তঞ্চঙ্গ্যা : রাঙ্গামাটি (কাপ্তাই, রাজস্থলী) ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক (পিনোন-হাদি) ও গহনার বিশেষ কারুকাজ জুম ও মাছ শিকার নির্ভর।

ম্রো : বান্দরবান (রুমা ও থানচি)

প্রকৃতিপূজারি ; বাঁশের তৈরি সুউচ্চ মাচাং ঘর এবং ‘জিয়াং’ বা মুড়ং বাদ্যযন্ত্র ও রিবাং নৃত্য অনন্য।

লুসাই: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান

ঐতিহ্যবাহী সুতি কাপড়ের বুনন ও পাহাড়ি ফলমূল সংগ্রহ; তুলনামূলক বিচ্ছিন্ন ও নিজস্ব কমিউনিটি আইনপ্রিয়।

বম : বান্দরবান

খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বেশি; কোরাস গান, বাঁশশিল্প ও পাহাড়ি জুমচাষে সুসংগঠিত।

পাংখোয়া : রাঙ্গামাটি (বিলাইছড়ি)

ঝরনাপারের অতি দুর্গম এলাকায় বাস; ঝুড়ি ও বাঁশের কারুকাজে সিদ্ধহস্ত।

খিয়াং : বান্দরবান

ছোট পরিসরের জনগোষ্ঠী; মারমা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রভাবযুক্ত মিশ্র জীবনধারা।

খুমি : বান্দরবান (থানচি, রুমা)

অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি চূড়ায় বসবাস; চুল বাঁধার ভিন্ন শৈলী এবং কঠোর জুমনির্ভর আত্মনির্ভরশীলতা।

চাক : বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি)

নিজস্ব ভাষা ও বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির বাহক; সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতিতে জুম ও পাহাড়ি বনজ সম্পদ সংগ্রহজীবী।
বেঁচে থাকার অন্তহীন কাহিনি (সংগ্রাম ও রূপান্তর)
​প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও সহাবস্থান: খরা, জুম ফলন বিপর্যয় বা পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস মোকাবিলা করে তারা প্রতি বছর নতুন করে জুমের বীজ বোনে। এই জীবনপ্রবাহ কেবল অর্থনীতি নয়, এটি এক ধরনের পরিবেশগত দর্শন।

​সংস্কৃতির সংরক্ষণ বনাম আধুনিকায়ন: কাপ্তাই বাঁধের প্লাবনভূমি থেকে শুরু করে আধুনিক বাজার অর্থনীতির ধাক্কা—পাহাড়ের মানুষ আজ একদিকে ঐতিহ্যবাহী জুম ও বনজ অধিকার রক্ষার লড়াই করছে, অন্যদিকে শিক্ষা ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন গন্তব্য খুঁজছে।

​নারীর অবদান: জুমের খেত পরিচর্যা থেকে শুরু করে তাঁতের কাপড় বোনা—পাহাড়ি নারীর শ্রম ও দক্ষড়াই মূলত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে।

​পাহাড়ের প্রতিটি সূর্যোদয় তাদের কাছে এক নতুন সংগ্রাম—যেখানে বাঁশ, জুমের ছাই, ঝিরির পনির ঠান্ডা জল আর মাচাংয়ের রাত মিলে তৈরি হয় এক অদম্য টিকে থাকার মহাকাব্য।

×