| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ১৯৬৩ সালে স্থাপিত জাতীয় গ্রিডের ১৩২ কেভি (১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্ট) উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকা সংলগ্ন এই লাইনের ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারের তার হেলে পড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে ঝুলে রয়েছে। এর নিচে ও আশপাশে চরম আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন অর্ধশত পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সঞ্চালন লাইনটি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে চালুর হতে পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। কালের বিবর্তনে পিলারের বেহাল দশা এবং তারের ভার বৃদ্ধি তথা বয়সের ভারে হাই ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার গুলো নিচের দিকে নেমে এসেছে। অথচ এই উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলোর ঠিক নিচ দিয়েই প্রতিদিন বহু সাধারণ মানুষ চলাচল করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ের কৃষিকাজে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন জানান, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডালপালা বা পাতা এই তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে শর্টসার্কিট হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল নামের এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাই ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের তারগুলো দ্রুত আরও উঁচুতে তুলে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। ​

সরেজমিনে শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে তারগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌখিকভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জিএমডি রাঙামাটি, পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথের সাথে রবিবার আলাপকালে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ওইসব এলাকায় কোন বসতি ছিলনা, তাই টাওয়ার গুলোও অনেকটা দূরত্বে স্থাপিত হয়। ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের পুরাতন এই লাইনটি দূরত্বের কারণে কিছুটা নেমে গেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছুদিন আগে আমরা ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করে এসেছি। এবং এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। কাজটি করতে একটু সময় লাগবে। কারণ, এসব কাজ করার পূর্বে কিছু টেকনিক্যাল কাজ যাচাই বাছাই করে আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান করা হবে। টেন্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে। সঞ্চালন লাইনটি  সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত গিয়েছে। ইতিমধ্যে হাটহাজারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে সঞ্চালন লাইনটিও আর্ন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জাতীয় পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি এলাকার ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা।

সাজেকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সংবর্ধনা

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অমর আলি, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ সাজেক ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে সাজেকসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধান অতিথি বক্তব্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাজেকসহ পুরো জেলার উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ের মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাংগামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার আগামী ২ বছর মেয়াদী দায়িত্বশীল নির্বাচনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মূল ভিত্তি হলো ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলাকে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মেনে শাসননীতি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই’ এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে উপস্থিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী মেয়াদের জন্য পুনরায় হাফেজ আব্দুল মতিন-কে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আলী-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়

বিলাইছড়িতে এমপির প্রতিনিধি হলেন জাফর আহাম্মদ ও ধনমনি চাকমা

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ ও সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ধনমনি চাকমা।

জানা গেছে, রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের অনুপস্থিতিতে বিলাইছড়ি উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ। একইভাবে ত্রাণ ও সমাজসেবা কমিটিতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ধনমনি চাকমা।

গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মো. জাফর আহাম্মদকে বিলাইছড়ি উপজেলায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রমে তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন মো. জাফর আহাম্মদ।

অন্যদিকে, একই তারিখে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান স্বাক্ষরিত পৃথক আরেকটি চিঠিতে ধনমনি চাকমাকেও বিলাইছড়ি উপজেলায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তিনি সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ের ত্রাণ ও সমাজসেবা কমিটির কার্যক্রমে তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

চিঠি দুটি বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. জাফর আহাম্মদ ও ধনমনি চাকমা বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান মহোদয় আমাদের ওপর যে আস্থা ও দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, এজন্য আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”

×