শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:

মানিকছড়িতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
4 বার পড়া হয়েছে
মানিকছড়িতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলা মারমা জনগোষ্ঠী গরীব মেধাবী স্নাতকে অধ্যয়রত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছেন মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড। মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ডে কমিটি সদস্য ও সমাজের বিত্তবানদের থেকে প্রতি মাসের ১শত টাকা করে উত্তোলনে টাকা দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ২জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালের দোছড়ি পাড়া বিশাখা স্কুলের মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও ১তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক সভাতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ডে কমিটি সাধারণ সম্পাদক চাইহ্লাপ্রু মারমা সঞ্চালনায় কমিটি সভাপতি চাইহ্লাপ্রু মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাটিরাঙ্গা নিবাসী আনাইউ চৌধুরী, আরোও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা, মানিকছড়ি বাজার ব্যবসায়িক ও মারমা উন্নয়ন সংসদ সভাপতি নিংপ্রুঅং মারমা, মানিকছড়ি উপজেলায় বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী, সেচ্ছাসেবী সংস্থা এনজিও গ্রাউস সাবেক কর্মকর্তা সাহ্লাপ্রু মারমা, বাটনাতলী মৌজা প্রধান মংসানু চৌধুরী, মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর উহ্লাসাই মারমা, খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় মারমা উন্নয়ন সংসদ সাংগঠনিক সম্পাদক সাথোয়াই মারমা(আপ্রুসি), মিলকি মারমা, মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড প্রতিষ্ঠাতা অংগ্য মারমা, বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চাইহ্লাপ্রু মারমা, মানিকছড়ি উপজেলা শাখা সভাপতি উষাজাই মারমা, দোছড়ি পাড়া বিশাখা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক চিংহ্লামং মারমাসহ শিক্ষা উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা বক্তারা বলেন, মারমা জাতির অর্থনৈতিক অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অর্থ অভাবে উচ্চ শিক্ষায় গ্রহন করতে পারেন মেধাবী মারমা শিক্ষার্থীরা। আগামীতে মারমা সমাজের মেধাবী গরীব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেয়ার ব্যক্ত করেন।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম
মানিকছড়িতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

দিঘীনালার শুকনোছড়ায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
মানিকছড়িতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত
রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার শুকনোছড়া এলাকায় বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ৫টার সময় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিকাশ চাকমা নিজ বাড়িতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড় শুরু হলে তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়। নিহতের ব্যক্তির নাম বিকাশ চাকমা, পিতার নাম বাদি চন্দ্র চাকমা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা সকলকে বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা স্থানে না থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ভুক্তভূগি পরিবারকে সমবেদনা জানান।

ঈদযাত্রা—আনন্দের পথে যেন না নামে বিষাদের ছায়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
মানিকছড়িতে মারমা মৈত্রী শিক্ষা সহায়ক ফান্ড বার্ষিক সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ :

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর আপনজনের কাছে ফেরার এক অনন্য অনুভূতি। বছরের ব্যস্ততা, কর্মজীবনের ক্লান্তি আর শহরের যান্ত্রিক জীবন পেছনে ফেলে এই একটি সময়েই মানুষ ছুটে যায় নিজের শেকড়ে-গ্রামের বাড়িতে, মা-বাবার কাছে, শৈশবের স্মৃতির কাছে। কেউ রেলপথে, কেউ সড়ক পথে, আবার কেউ নদীপথে-সব পথ যেন মিলিত হয় একটাই গন্তব্যে: প্রিয়জনের কাছে ফেরা। কিন্তু এই আনন্দযাত্রাই কখনো কখনো পরিণত হয় দুঃখ আর শোকে। শুধু একটু অসাবধানতা, একটু তাড়াহুড়া, কিংবা নিয়ম অমান্য করার প্রবণতা-এগুলোই কেড়ে নিতে পারে একটি পরিবারের হাসি, একটি জীবনের মূল্য।

প্রতিবছর ঈদের সময় আমরা দেখি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ, লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাসের ছাদে উঠা কিংবা দরজায় ঝুলে যাত্রা-এসব দৃশ্য যেন এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। অথচ এই “স্বাভাবিক” বিষয়গুলোই সবচেয়ে বড় অস্বাভাবিক বিপদের কারণ। একটু ভাবুন—আপনি যে যাত্রা শুরু করেছেন, সেটি আপনার জন্য শুধু একটি সফর নয়; আপনার পরিবার, আপনার প্রিয়জনদের কাছে এটি আপনার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি। আপনার মা অপেক্ষা করছেন, সন্তানেরা অপেক্ষা করছে, প্রিয় মানুষটি অপেক্ষা করছে। আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি অসতর্ক পদক্ষেপ তাদের জীবনে চিরস্থায়ী শোক বয়ে আনতে পারে।

সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনে ওঠা, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা, নিয়ম মেনে যাত্রা করা—এসব কোনো বড় ত্যাগ নয়, বরং নিজের জীবনকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি বাধ্যবাধকতা। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতায় বিদ্যুতের তার, সেতু কিংবা হঠাৎ ঝাঁকুনিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে লঞ্চ বা নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী হওয়া মানেই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

আমরা অনেকেই ভাবি-“আমার কিছু হবে না”-কিন্তু দুর্ঘটনা কখনো কাউকে বলে আসে না। ঈদের আনন্দ কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদে পৌঁছানোই প্রকৃত আনন্দ। তাই যাত্রাপথে একটু ধৈর্য, একটু সচেতনতা এবং একটু মানবিকতা—এই তিনটি জিনিসই পারে একটি সুন্দর ঈদ নিশ্চিত করতে।

চলুন, আমরা নিজেরা সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি। পরিবারের কথা ভাবি, নিজের জীবনের মূল্য বুঝি। কারণ একটি নিরাপদ যাত্রাই পারে ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে। আপনার ঈদযাত্রা হোক আনন্দময়, নিরাপদ ও স্বস্তির—বিষাদের নয়।

 

লেখক- এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য, (বিটিএসএফ)।

×