বাঙ্গালহালিয়াতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সরকারী অনুমোদহীন আইসক্রিম উৎপাদন চলছে
বিশেষ প্রতিবেদক:
রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া বাজারের নিকষ্ট রাইস মিলের পাশে ও পুরাতন সিনেমা হলের বান্দরবান সড়ক ব্রিজ সংলগ্ন অবস্থিত একটি কারখানায় সরকারি অনুমোদনহীন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (২৫ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঐ কারখানা দুই টির নেই কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন লাইসেন্স নেই। ২টি আইসক্রিম কারখানায় অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (বিএফএসএ) নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র অনুমতিই গ্রহণ করেনি। এছাড়া কারখানা গুলো তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আইসক্রিম তৈরির কাজে ব্যবহৃত ট্রেজং ধরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, আইসক্রিমে মিশানো হচ্ছে স্যাকারিন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্থানীয় সরকারী প্রশাসন-কে তোয়াক্কা না করে র্দীঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে সরকারী লাইসেন্সবিহীন ভাবে আইসক্রিম উৎপাদন চলছে, যা সরকারী নিয়মের আইনের পরিপন্থী এবং সরকারী রাজস্ব কর আয় হতে বঞ্চিত বলে জানা যায়।
একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, আইসক্রিম উৎপাদনে স্যাকারিনসহ বিভিন্ন কাপড়ের রং পয়জন মিশিয়ে বিভিন্ন কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের মানব দেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আইসক্রিম একটি দুগ্ধজাত খাদ্য হওয়ায় এর মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কারখানা গুলো দীর্ঘদিন ধরে আইসক্রিম তৈরি করছে এর আগে ওখানে জরিমানা করেছে। ওনাদের নামে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উনারা আইসক্রিম তৈরি করছেন যা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এসব আইসক্রিম খেলে ছোট বড় সকলে বড় ধরনের ভয়ংকর রোগ মানবদেহের সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় চানুপ্রু মারমা জানান, পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। এ কারখানার আইসক্রিম রাজস্থলী উপজেলার, নাক্যছড়া, গবাছড়া, খাগড়াছড়ি, কদুমছড়া ১০ মাইল, ইসলামপুর, শফিপুর, রাজস্থলী বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ কারখানায় রং স্যাকারিন সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হয়।
কারখানার মালিক সুনিল বাবু জানান, বর্তমানে তার কাছে সব ধরনের অনুমোদনপত্র নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করবেন। তবে আইসক্রিমে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. নওশাদ খান বলেন, আইসক্রিমে স্যাকারিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন খাবার শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরো বলেন , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আগেও এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যম কে জানান।

ত্রিপুরা শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদে থানচিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।



