বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
7 বার পড়া হয়েছে
রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

পানির জন্য হাহাকার খিয়াং সম্প্রদায়

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয়পানির দীর্ঘ দিন ধরে সংকট দেখা দিয়েছে পুরো পাহাড় জুড়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ । পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম খিয়াং সম্প্রদায়ের খিয়াং অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারীদের পানির প্রধান উৎস নদী ও ঝিরি-ঝর্ণা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ও ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নামার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানি থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য পানিও মিলছে না। তাছাড়া সেসব দূষিত পানি আছে তা পান করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কষ্টে পানি সংগ্রহ করে এনে খাওয়াসহ রান্নার কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে সেখানকার স্থানীয়দের। ফলে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের কষ্ট বহু গুণ বেড়েছে।

বিশেষ করে রাঙ্গামাটি জেলায় অন্তর্গত রাজস্থলী উপজেলার ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বড় কুইক্যাছড়ি পাড়া, ছোট কুইক্যা, ধনুছড়ি, শীল ছড়ি পাড়ার দুর্গম এলাকাগুলোতে এখন পানির সংকট। পাহাড়ে পানি প্রধান উৎস ঝিরি-ঝর্ণা কিংবা কুয়া। তবে ছড়াগুলো শুকিয়ে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পানি উঠছে না। তাছাড়া প্রকৃতির সবুজ ঘেরা বনাঞ্চল উজাড় করে দেয়ায় ঝিরিগুলোতে পানির দেখা মিলছেনা। যার ফলে সুপেয় পানি থেকে নিত্য ব্যবহার্য পানিও এখন চরম সংকটে। ইতিপূর্বে কয়েকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশিত হলেও মেলেনি কোন সুফল। বরং দিনের পর দিন আরো তীব্র আকার ধারণ করেই চলেছে পানির সংকট।

উপজেলার সদর থেকে ৭/৮ কিলোমিটার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বসবাস করে আসছেন খিয়াং সম্প্রদায়। তাদের মূলত সমস্যা কারণ খাবার পানি। সকাল থেকে কলসিসহ খালি বোতল নিয়ে এসে পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘণ্টা। এমনকি ঝিরি ও ছড়ায় পাথরের ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি আসে তা নারীরা মধ্যরাত থেকে পালা করে ভোর পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে কোনোমতে পরিবারের খাবার পানি সংগ্রহ করে আসছে।

কুইক্যাছড়ি পাড়ার নারীরা একসঙ্গে পাঁচ-ছয় জন দলবেঁধে ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে এসেছেন ভোর বেলায়। ঝিরিটি একটু স্যাঁতস্যাঁতে ও ভেজা। পাথরের মাঝখান দিয়ে খুব অল্প করে পানি বের হয়। পানি জমতে একটু সময় লাগে। দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর কপালে জুটে ময়লা যুক্ত পানি। পর্যায়ক্রমে পানি নিতে আসেন অন্য নারীরাও। সকালে অন্য কাউকে পানি নেওয়ার সুযোগ দিয়ে ঘরে অন্যান্য কাজ সেরে একটু দেরি করে পানি সংগ্রহ করতে যান তারা। সেখান থেকে প্রথমে মাটির কলসি দিয়ে পানি তোলা হয়, তারপর ছেঁকে কলসিতে সংগ্রহ করা হয়। পরপর পানি নেওয়ার পর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবুও এসব ঝিরি-ঝর্ণা ওপর ভরসা করে চলছে পাহাড়ীদের জীবনের সংগ্রাম।

উপজেলার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাহাড়েও বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। অবাধে ধ্বংস করা হচ্ছে বন। এসব কারণে পাহাড়ের পানির প্রাকৃতিক জলাধার ও উৎস মুখ দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠীর জনস্বাস্থ্যের উপর।

কুইক্যাছড়ি পাড়ার গীর্জার পুরোহিত চিংচাউ বলছেন, তীব্র পানি সংকট যেন দিনের পর দিন বাড়ছে। প্রকৃতির ধ্বংসের কারণের পাহাড়ের বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। বন উজাড়, পাহাড় কর্তন, পাথর উত্তোলনের কারণে পাহাড় এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। তাছাড়া এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। আসলে দেখার কেউ নেই। আমরা ধর্মীয় অনুষ্টানে পানি কিনে অনুষ্টান করতে হচ্ছে।

ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চিংলাউ খিয়াং বলেন, বন উজাড় করার ফলে পানি এখন নাই বললেই চলে। গোসল দূরের কথা খাওয়ার পানি পর্যন্ত সংকট। সন্ধায় হলে পানির জন্য লাইন পড়ে যায়। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে নলকূপ দিলেও সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে এলাকাবাসীরা জানান ।

গতকয়েক দিন আগে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি খিয়াং পাড়ায় ক্রীড়ামোদীদের খেলার উপকরণ দিতে গিয়ে পানি সংকটের দৃশ্যটি গোচরে আসে। তিনি আরও বলেন, রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য তিনি পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল সাহেবের সাথে আলাপ করে প্রকল্প নেওয়ার উদ্যােগ হাতে নেয়া হবে বলে জানান। যদি প্রকল্পের অনুমোদন হয় তাহলে পানি সংকট নিরসনের জন্য বাস্তবায়িত জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।

ছবি – রাজস্থলী উপজেলার বড় কুইক্যাছড়ি পাড়ার নারীরা ছড়ার কুয়া হতে পানি সংগ্রহ করছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ; সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ কামাল পাশা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

স্টাফ রিপোর্টার :

রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সহকারী (ক্লার্ক) সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন (২০২৬-২০২৭) উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও একমাত্র কোষাধ্যক্ষ পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ভোটে রনজিৎ দাশকে পরাজিত করে কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন অমল দত্ত।​ এর আগে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, অধিকাংশ পদে একক প্রার্থী থাকায় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। নবনির্বাচিত কমিটির শীর্ষ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন— সভাপতি পদে সুধীর কান্তি মজুমদার, সহ-সভাপতি পদে মোঃ কামাল পাশা ও মোঃ রহমত আলী, সাধারণ সম্পাদক পদে উজ্জল কান্তি দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ হাবিবুর রহমান (রনি)। ​

এছাড়াও অন্যান্য পদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ নুর আলম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোঃ ইউসুফ হোসেন, মোঃ রাজীব সহ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।​ এবারের নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার দে।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন রনজিৎ দাশ মানিক এবং জ্যোতি কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। ​এদিকে নির্বাচন শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ভোটার ও সাধারণ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তারা সমিতির সার্বিক উন্নয়ন, সদস্যদের কল্যাণ সাধন এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় আগামী মেয়াদে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে বাঘাইছড়ির পাহাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম
রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

‎আনোয়ার হোসেন, ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের আওতাধীন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‎

‎বুধবার (১৭ জুন) সকালে ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজক সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে সাজেক ও রুপকারী ইউনিয়নেও এ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হবে। ‎২৪ পদাতিক ডিভিশন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে বছরব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় তিন লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। ‎‎বৃক্ষরোপণ অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

‎এ সময় বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ ভূমিধস প্রতিরোধ, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‎তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। ‎কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়— “একটি গাছ একটি প্রাণ, সবুজ হোক বাংলাদেশের প্রতিটি স্থান।” ‎

‎সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ‎

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবীরের মৃত্যুদণ্ড বাকলিয়ার শিশু ধর্ষন মামলার রায় ঘোষনা আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম
রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন)২৬খ্রি: চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত শনিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ফেলে দেয়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, শিশুটির জুতা এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। ডিএনএ পরীক্ষাতেও আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন)২৬ খ্রিঃ চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা আদালতে দাবি করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি গুদামঘরে চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে শিশুর পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে।
তদন্ত শেষে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে অভিযুক্তকে নিরাপত্তার মধ্যে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

আলোচিত দুই ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম ও রায়কে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

×