আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দেখা দিয়েছে। উপজেলার চার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি সহ সবজি ক্ষেত পানিতে নষ্ট হয় গেছে। নিজেদের আয় ও পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
অনেকের মাঠের ফসল ও সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেক জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সমস্ত সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চার ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায় মোট ৫৫৮ হেক্টর কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকার ফসলী মাঠ ডুবে গেছে। এতে ধান, বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ফল, ঢেরস, মরিচ, পেঁপে বাগান সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে লক্ষ লক্ষ অর্থ ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওসমান গনি জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাদের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ধার দেনা ও ঋণ করে চাষ করেছি। এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করব। সরকারী সহায়তা ছাড়া আবার নতুন করে শুরু করার সামর্থ্য নেই।
বাংলাদেশ কৃষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমতলীর বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, আমার সমিতিতে ১০০ কৃষক রয়েছে। যারা কৃষির উপর জীবিকা নির্বাহ করে চলে ।আমি নিজে ৫ কানি মানুষের কাছ থেকে দেনা নিয়ে চাষাবাদ করেছি। কিন্তুু এই বন্যায় আমার সবকিছু হারিয়ে গেছে। শুধু আমি না আমার মত আরো ১০০ কৃষকের স্বপ্ন জলাঞ্জলি হয়ে গেছে। আমরা সরকারী সহযোগিতা না পেলে আমাদের মরা না হলে গ্রাম ছেড়ে পালাতে হবে।
এদিকে চার ইউনিয়নের মধ্যে কোন ইউনিয়নে কত হেক্টর জমির ফসল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কৃষি অধিদপ্তর তালিকা করছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা বলেন, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় আলীকদমের কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মাঠে থাকা গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে, বীজতলা, আউশ ও আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমার পর আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জরিপ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সবজি বীজসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে কৃষকদের আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ পাওয়া গেলে কৃষক কিছুটা ক্ষতি কাটাতে পারবে।
অন্যদিকে আলীকদমে বন্যার পর সবজির দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকার উপরে। যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সহ সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।
আলীকদম বাজারে সবজি বিক্রেতা শফিক জানান, চাহিদা অনুযায়ী সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। আমার চকরিয়া সহ চট্রগ্রাম থেকে যে সবজি গুলো বিক্রির জন্য এসেছি। তা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাছাড়া পরিবহন খরচ সহ সবকিছু মিলিয়ে তুলনামূলক বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের ।