| ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

রামগড়ে জুলাই দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রামগড়ে জুলাই দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড়, প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে জুলাই দিবস উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ এবং তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় রামগড় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিসেস দ্বীল আল জান্নাত, রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজির আলমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদান এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, জাতির গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হলে এসব দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

কাপ্তাইয়ে দুই দিনব্যাপী ‘পোর্ট্রেট ৩য় জাতীয় আলোকচিত্র ক্যাম্প ২০২৬’ সম্পন্ন

রামগড়ে জুলাই দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​আলোকচিত্র শিল্প ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ে দুইদিন ব্যাপী ‘পোর্ট্রেট ৩য় জাতীয় আলোকচিত্র ক্যাম্প ২০২৬’ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পোর্ট্রেট ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড কালচারের আয়োজনে এবং এমএনএস ইন্সপেকশন কোম্পানীর সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আলোকচিত্রীদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে উঠেছিল কাপ্তাইয়ে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১ টায় কাপ্তাইয়ের হর্টিকালচারাল সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধন হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং ডেইলি দি পিপলস ভিউ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর। জাতীয় আলোকচিত্র ক্যাম্পের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ আলম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পোর্ট্রেট সম্পাদক রুপন চক্রবর্তী। ​অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোকচিত্র শিল্পের দিকপালরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়টার্সের সাবেক আলোকচিত্র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবিএম রফিকুর রহমান, এন টিভির পরিচালক ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দীন আহমেদ, এমএনএস ইন্সপেকশন কোম্পানীর চেয়ারম্যান লায়ন পিযূষ তালুকদার, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি একেএম মহসীন বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাসব শীল এবং বুলবুল আহমেদ ও এন টিভি রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ফজলে এলাহি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি সহ স্থানীয় সাংবাবিদকদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক “সময় টিভির” কাপ্তাই প্রতিনিধি মাহফুজ আলম, সিনিয়র সাংবাদিক “দৈনিক সমকাল” এর কাপ্তাই প্রতিনিধি মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু এবং “৭১ টিভির” কাপ্তাই প্রতিনিধি রিপন মারমাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

দুইদিন ব্যাপী কর্মশালা ও নানামাত্রিক সেশন শেষে ১৮ জুলাই বিকেলে ফ্লোটিং প্যারাডাইসে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক রিপন মারমা শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রধান করেন। সমাপনী পর্বে অংশ গ্রহণকারী আলোকচিত্রীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এছাড়া অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজনের শেষ দিনে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। ঢাকা, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলোকচিত্র সাংবাদিকরা এই ক্যাম্পে অংশ নেয়। স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাপ্তাই থেকে সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম লাভলু, অর্নব মল্লিক ও মাসুম বাবুল এই আয়োজনে অংশ নেয়।

আয়োজক পোট্রের্ট সম্পাদক রুপন চক্রবর্তী বলেন, “কাপ্তাইয়ের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আলোকচিত্রের ফ্রেমে তুলে আনা এবং নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের মানোন্নয়নই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এমএনএস ইন্সপেকশন কোম্পানীর সহযোগিতায় আয়োজিত এই ক্যাম্প আলোকচিত্রীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।” ​ বক্তারা বলেন, আলোকচিত্র শিল্পের প্রসার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। এই জাতীয় ক্যাম্প ভবিষ্যতে আলোকচিত্র সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

ছবির ক্যাপসন-

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান রানা, মহাসচিব সোলায়মান

রামগড়ে জুলাই দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় (খাগড়াছড়ি):

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংগঠনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পিসিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ রানাকে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মানকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুইয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবু তাহের, সাবেক কেন্দ্রীয় মহাসচিব আলমগীর কবির সহ স্থায়ী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনা করেন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। দেশি বিদশি এজেন্টরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিরতা তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে অধিকার বঞ্চিত করে তিলে তিলে অস্থিত্ব ধ্বংস করা হচ্ছে। এ সকল ষড়যন্ত্র ও বৈষম্য রুখে দিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হলো : পানি নিষ্কাশন শুরু

রামগড়ে জুলাই দিবস স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অবশেষে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই জলকপাটগুলো খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করে।​ বর্তমানে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে মোট ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। জলকপাট খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন এবং কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান বলেন, ‘হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’তিনি স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এবং বিপৎসীমা ১০৮ ফুট। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা বিবেচনায় নিয়েই কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।​এদিকে, হ্রদে পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

×