থানচিতে লাইন আছে, বিদ্যুৎ নেই— অন্ধকারে তিন্দুবাসী
চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি, সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমার মিটার স্থাপন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক পরিবারের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা আরো জানান, বিদ্যুতের সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সরকারি বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় তিন্দু ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, লাইন টানা, ট্রান্সফরমার মিটার বসানো পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, টানানো হয়েছে সঞ্চালন লাইন, বসানো হয়েছে ট্রান্সফরমার মিটার। কিন্তু সব প্রস্তুতি থাকার পরও কোনো ঘরেই জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো।
স্থানীয় বাসিন্দা লেপাম খুমী, উথোয়াই ওয়াং মারমাসহ অনেকেই জানান, বিদ্যুৎ লাইনের কারেন্ট সংযোগ না করায় দীর্ঘদিন ধরে তারা এখনো অন্ধকারেই বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়নের দৃশ্যমান অবকাঠামো থাকলেও বাস্তব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটকদের জন্যও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে বংড পাথর শিক্ষা আলো অনাথ আশ্রমের পরিচালক চিংথুইপ্রু মারমা বলেন, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুতের অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত, নেই শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে এখনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বৌদ্ধ বিহার, বিজিবি ক্যাম্প ও শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিন্দু গ্রুপিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উচচিং মারমা এবং তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পুচিংমং মারমা বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন স্থাপন হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় বর্ষাকাল ও তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা অভাবে আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অংক্যসিং মারমা জানান, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখান থেকে ইউনিয়নবাসীকে অনলাইন ও অফলাইন সরকারি সেবা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে জনগণ নিজ এলাকাতেই সহজে এসব সেবা পাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মকর্তা সবুজ ঘোষ জানান, তিন্দু লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেলেই এ এলাকাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে।

থানচিতে লাইন আছে, বিদ্যুৎ নেই— অন্ধকারে তিন্দুবাসী


