ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত
সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ঘোষিত সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের আলীকদমে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে এসেছেন পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফলে উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে, তেমনি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।
ছুটিকে ঘিরে লাংলুক, নাফাখুম, ক্রীসতং, রুংরাং, থাইনকোয়াইন, মিনিয়েংপাড়া, সাইংপ্রুসহ আলীকদমের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। ভ্রমণ সংগঠন বঙ্গট্রিপ, বাংলা ট্রেকারসহ বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপের সদস্যরা ট্রেকিং ও প্রকৃতি ভ্রমণে অংশ নেন।
বঙ্গট্রিপের আয়োজনে হোস্ট মোহাম্মদ আবিরের নেতৃত্বে একটি পর্যটক দল আলীকদমে ট্রেকিংয়ে অংশ নেয়। দলের সদস্য সাজ্জাতুল ইসলাম বলেন, “সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে আলীকদমে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ করেছে।”
মোহাম্মদ আবির জানান, ট্রেকিং শেষে দলের একাংশ আলীকদম হয়ে এবং অন্য অংশ বান্দরবান হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরবেন। পর্যটকবাহী পিকআপ চালক মো. মোবারক বলেন, বর্ষাকালে পাহাড়ি সড়ক পিচ্ছিল থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো হয়। পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
অর্কিড রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সিয়ালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. লিটন বলেন, সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই পর্যটকের চাপ বেড়েছে। অনেক কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানও সম্প্রসারিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘে মোড়া পাহাড় ও ট্রেকিংয়ের আকর্ষণে আলীকদমে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিকল্পিত ও নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বিকশিত হবে।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ স্থানে না যেতে পর্যটক ও ট্যুর গাইডদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, সরকারি ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আলীকদমে এসেছেন। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইডের মাধ্যমে পাহাড় ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

| ৬ আগস্ট ২০২৬














