| ৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত

ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ঘোষিত সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের আলীকদমে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে এসেছেন পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফলে উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে, তেমনি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। ‎

ছুটিকে ঘিরে লাংলুক, নাফাখুম, ক্রীসতং, রুংরাং, থাইনকোয়াইন, মিনিয়েংপাড়া, সাইংপ্রুসহ আলীকদমের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। ভ্রমণ সংগঠন বঙ্গট্রিপ, বাংলা ট্রেকারসহ বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপের সদস্যরা ট্রেকিং ও প্রকৃতি ভ্রমণে অংশ নেন। ‎

বঙ্গট্রিপের আয়োজনে হোস্ট মোহাম্মদ আবিরের নেতৃত্বে একটি পর্যটক দল আলীকদমে ট্রেকিংয়ে অংশ নেয়। দলের সদস্য সাজ্জাতুল ইসলাম বলেন, “সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে আলীকদমে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ করেছে।” ‎ ‎

মোহাম্মদ আবির জানান, ট্রেকিং শেষে দলের একাংশ আলীকদম হয়ে এবং অন্য অংশ বান্দরবান হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরবেন। ‎পর্যটকবাহী পিকআপ চালক মো. মোবারক বলেন, বর্ষাকালে পাহাড়ি সড়ক পিচ্ছিল থাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো হয়। পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ‎

‎অর্কিড রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সিয়ালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. লিটন বলেন, সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই পর্যটকের চাপ বেড়েছে। অনেক কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানও সম্প্রসারিত হয়। ‎ ‎

স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘে মোড়া পাহাড় ও ট্রেকিংয়ের আকর্ষণে আলীকদমে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিকল্পিত ও নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বিকশিত হবে। ‎

‎আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ স্থানে না যেতে পর্যটক ও ট্যুর গাইডদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। ‎

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, সরকারি ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আলীকদমে এসেছেন। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইডের মাধ্যমে পাহাড় ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে থানচিতে গণসংহতি আন্দোলনের গণসমাবেশ

ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণসমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে থানচি বাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা শাখার অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক উ থোয়াই ওয়াং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের জাতি বৈচিত্র্য বিষয়ক সম্পাদক উবা থোয়াই মারমা।

উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রোর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন, উপজেলা সমন্বয়কারী মংসাই মারমা। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশন থানচি উপজেলা কমিটির সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা। এছাড়াও সমাবেশে উপজেলা শাখার সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা, রেমাক্রী ইউনিয়ন কমিটির সদস্য থংপং ম্রোসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও চেতনা ধারণ করতে হলে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ গণসমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত

 

বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙামাটি :

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ০৫ আগস্ট বুধবার সকালে ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজস্থলীতে ‘জুলাই জাতীয় গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, রচনা প্রতিযোগীতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

বিদ্যালয়’র সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অরুপ কুমার মুৎসুদ্দীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্রানুচিং মার্মা এবং সুমিত্রা চাকমা।

বক্তারা বলেন, সকলের আগে জনতা, জনতার আগে দেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ এটাই আমাদের মনে রাখতে হবে। শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাইখালীতে দুস্থদের চাল বিতরণ করতে গিয়ে বিপাকে বিএনপি নেতা

ছুটির আমেজে আলীকদমে পর্যটনের জোয়ার,ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাত

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ নিয়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মো. আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হলেও পরিবহন ও লেবার খরচ বাবদ কিছু চাল সমন্বয় করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ​

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কাপ্তাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ও হতদরিদ্র দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইখালী ইউনিয়নে মোট ৮ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়, যার প্রথম ধাপে ৬ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ নিয়ে এলাকার কিছু মহলে কানাঘুষা শুরু হয়। ​

রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ক্যওসিংমং চৌধুরী জানান, পরিষদের বরাদ্দ অনুযায়ী রাইখালী ইউনিয়ন যথাযথ নিয়মেই ৮ মেট্রিক টন চাল পেয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজি মো. আবুল হাসেম গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সহজে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল সংগ্রহ করতে পারেন না। এই বাস্তবটি মাথায় রেখে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরাসরি দুস্থদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। গত ৩০ জুন জীপ গাড়িতে করে ২ টন বা (৪০ বস্তা) চাল বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ১৯১ জন দুস্থ পরিবারকে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ​

বিতরণকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বড়খোলা পাড়া, ডংনালা পাড়া, পূর্ব কোদালা মারমা পাড়া, কারিগর পাড়া, ভালুকিয়াপাড়া, চাকোয়া পাড়া, বড়পাড়া, নাড়াইছড়ি পাড়া, কচুরি পাড়া, গবছড়া পাড়া, তিনছড়ি পাড়া, তিনছড়ি নোয়া পাড়া, তিনছড়ি মধ্যম পাড়া, কালামাইস্যা পাড়া, বটতলি পাড়া, গংগ্রি ছড়া, বালামছড়ি পাড়া, হাফছড়ি এবং জগনাছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাজি মো. আবুল হাসেম আরও বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যখন চালগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখন গাড়ি ভাড়া বা লেবার খরচের জন্য কোনো আলাদা বরাদ্দ বা অর্থ দেওয়া হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় চাল পরিবহনের খরচ মেটানোর জন্যই সামান্য কিছু চাল সমন্বয় করে খরচ মিটানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিজ দলের একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি বা পাড়ায় পাড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে যাতায়াত খরচ বা পরিবহন ব্যয় সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না থাকায় অনেক সময় এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

×