| ৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসচাপা: পা বিচ্ছিন্ন হয়ে কাপ্তাইয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসচাপা: পা বিচ্ছিন্ন হয়ে কাপ্তাইয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাটাখালী তক্তারপুল এলাকায় দ্রুতগামী লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো. রাসেল (২৩) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় বাসের তীব্র ধাক্কায় তার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

​বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. রাসেল রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ২ নম্বর রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুছড়ি পাড়ার বর্তমান ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাছেরের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্রগ্রাম শহর থেকে পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কাজে দেখা করতে নিজ মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে তার সেই কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ আর হলো না। পথিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কাটাখালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের ওই বাসটি তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।​ একমাত্র তরতাজা যুবকের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো রাইখালী ইউনিয়নজুড়ে তথা শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে মাতম।​

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

থানচিতে লাইন আছে, বিদ্যুৎ নেই— অন্ধকারে তিন্দুবাসী

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসচাপা: পা বিচ্ছিন্ন হয়ে কাপ্তাইয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি, সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমার মিটার স্থাপন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক পরিবারের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা আরো জানান, বিদ্যুতের সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সরকারি বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় তিন্দু ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, লাইন টানা, ট্রান্সফরমার মিটার বসানো পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, টানানো হয়েছে সঞ্চালন লাইন, বসানো হয়েছে ট্রান্সফরমার মিটার। কিন্তু সব প্রস্তুতি থাকার পরও কোনো ঘরেই জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো।

স্থানীয় বাসিন্দা লেপাম খুমী, উথোয়াই ওয়াং মারমাসহ অনেকেই জানান, বিদ্যুৎ লাইনের কারেন্ট সংযোগ না করায় দীর্ঘদিন ধরে তারা এখনো অন্ধকারেই বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়নের দৃশ্যমান অবকাঠামো থাকলেও বাস্তব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটকদের জন্যও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে বংড পাথর শিক্ষা আলো অনাথ আশ্রমের পরিচালক চিংথুইপ্রু মারমা বলেন, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুতের অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত, নেই শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে এখনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বৌদ্ধ বিহার, বিজিবি ক্যাম্প ও শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিন্দু গ্রুপিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উচচিং মারমা এবং তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পুচিংমং মারমা বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন স্থাপন হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় বর্ষাকাল ও তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা অভাবে আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অংক্যসিং মারমা জানান, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখান থেকে ইউনিয়নবাসীকে অনলাইন ও অফলাইন সরকারি সেবা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে জনগণ নিজ এলাকাতেই সহজে এসব সেবা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মকর্তা সবুজ ঘোষ জানান, তিন্দু লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেলেই এ এলাকাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে।

মানিকছড়িতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসচাপা: পা বিচ্ছিন্ন হয়ে কাপ্তাইয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জুনিয়র হাই স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত পরীক্ষায় সাফল্য সাথে অর্জনকারী ৩৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে ১৮ জন মধ্যে সাধারণ গ্রেডে ১৩ জন এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে ২ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবর্ধনার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিতছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ, বৃত্তিপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ।

এসময় ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া বলেন, আজকের এই কোমলমতি শিশুরা আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গড়ার কারিগর। তাদের এই মেধা ও সাফল্যকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সৎ, আদর্শবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন
করতে হবে।

রোয়াংছড়িতে বিজিবির ৩১২ বন্যা দূর্গতকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ।

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসচাপা: পা বিচ্ছিন্ন হয়ে কাপ্তাইয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

 

উথোয়াইচিং মারমা (রনি); বান্দরবান:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বান্দরবান বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রোয়াংছড়ি উপজেলার কাইন্তারমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি-এর নেতৃত্বে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পে মেডিকেল অফিসার মেজর তিমির রঞ্জন মহান্ত (এএমসি), বান্দরবান সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. জয়দত্ত বড়ুয়া এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট (নাক, কান ও গলা) ডা. দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১২৫টি অসহায় পরিবারের মোট ৩১২ জনকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওষুধও বিতরণ করা হয়।

বিজিবির বান্দরবান সদর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া বন্যার পর বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে৷ এরই প্রেক্ষিতে চিকিৎসা সেবা এরই একটা অংশ৷ তাই রোয়াংছড়ি উপজেলার কাইন্তারমুখ এলাকায় এই চিকিৎসা সেবার আয়োজনটা করেছি।

তিনি আরো জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাহিনীটির নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, ভূমিধসসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

×