মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:

কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
5 বার পড়া হয়েছে
কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

 

বান্দরবান, রুমা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের সশস্ত্র জীবনের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সদস্য। পরিবারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণের পর ওই সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আত্মসমর্পণকারী ওই সদস্য জানান, তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ কেএনএফের সদস্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সেখান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিবারের সহযোগিতায় ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে গতকাল আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

একই সঙ্গে কেএনএফের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদেরও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান আত্মসমর্পণকারী এই সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালের পর থেকে সংগঠনটির তৎপরতা পার্বত্য এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গল বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে কাজ করছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন মানবিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই সীতা পাহার  সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটকদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে গেছে বন বিভাগ। বনাঞ্চলের ভেতরে পর্যটকদের অবাধ যাতায়াত ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সম্প্রতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করেছে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

​বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে কাপ্তাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ট্র্যাকিং বা ঘোরার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশ করছেন একশ্রেণির পর্যটক। এর ফলে প্রায়শই পর্যটকদের পথ হারিয়ে ফেলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

​সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ট্র্যাকিংয়ের সময় সন্ধ্যার মুখে পথ হারিয়ে পড়েন কয়েকজন পর্যটক। পাহাড়ি ট্রেইলে নামার সময় এক পর্যটক গুরুতর আহতও হন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও সংবাদকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে। এ ধরনের ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও বনের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার্থেই এই রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​কাপ্তাই বন রেঞ্জের রামপাহাড় বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিঠু তালুকদার জানান,কাপ্তাই  সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণকালীন ঝুঁকি এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টানানো বিলবোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন বিভাগের আশা, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পর্যটকরাও বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

দুমদুমিয়া নারীদের মানব ঢাল বানিয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী ছিনতাই !

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম
কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় নারীদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কাপ্তাই ওয়াগ্গাছড়া জোন ৪১  (বিজিবি) আওতাধীন দুমদুমিয়া বিজিবি টহল দলের হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিলাইছড়ি উপজেলার দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিজিবি প্রেস নোটের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়,গত ২৭ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধীন দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল দুমদুমিয়া চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মালামালসহ সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের অধিকতর তদন্তের জন্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজস্থলী থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দেড় শতাধিক মানুষের একটি সংঘবদ্ধ দল বিজিবি টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা নারীদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিজিবির হেফাজত থেকে ওই দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় আটক এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস গণমাধ্যমকে জানান, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধ পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান দমনে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবির এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম
কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী অনুষ্টিত হয়েছে। কর্মসূচিতে সাধারণ সম্পাদক পারভিন আক্তার মুক্তার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন আলোর ফুল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শহিদুল ইসলাম (ভুট্টো)। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন আলোর ফুল এর সিনিয়র সহ-সভাপতি অধিরাম চাকমা, আলোর ফুলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিরব হাসান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আসিফ, শ্রমিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব খোকন মিয়া।

কামাল উদ্দিন সাংগঠনিক সম্পাদক বনরুপা ব্যবসায়িক সমিতি তামিন শাহরিয়ার সংগঠক কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, হিল টুরিস্ট গাইডের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম। আলোর ফুলের সদস্য শাহেদ রোমান, সদস্য রাশেদা আক্তার, আলোর ফুল ছাত্র উপ-কমিটির সদস্য কাশপিয়া খুশবু ও সদস্য লিজা আক্তার।

বক্তারা সমাজে মাদক, অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

×