| ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও অবাঙালি সকল জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সকল সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বাঘাইছড়িতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন ‎

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 

‎আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও কাচালং নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে।
‎
‎বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
‎
‎দিনের শুরুতে সকাল ৮টায় চৌমুহনী বিএনপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ এবং কাচালং নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
‎
‎বিকাল ৪টায় কাচালং ব্রিজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুহনী মুক্তমঞ্চে গিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যায় উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ব্যান্ড দলের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‎
‎আলোচনা সভায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মামুন ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন বাবু।
‎
‎এসময় পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল সবুর।

‎সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমত উল্লাহ খাঁজা এবং জেলা বিএনপির সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারী।
‎
‎আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যুবদলকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে সংগঠনের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
‎
‎বক্তারা আরও বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে দেশকে পুনরায় সচল করতে সময় প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
‎
‎এ সময় যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
‎
‎দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাঘাইছড়িতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সম্পন্ন হয়।

বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদ্‌যাপন

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু/ মেয়ে শিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার দীঘলছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে, কানাডার সহযোগিতায় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অংশীদারত্বে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। এতে Women and Girls Empowerment through Inclusive Education in CHT (WGEIE) এবং Ecosystems Restoration and Resilient Development in the Chittagong Hill Tracts (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিরালা কান্তি চাকমা, বিলাইছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের টেকনিক্যাল অফিসার চন্দন ত্রিপুরা, উপজেলা এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর প্রজ্ঞামিত্র চাকমা (কালো), দীঘলছড়ি আবাসিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক ভিক্টোরিয়া চাকমা এবং এএমসির সহসভাপতি অংশিপ্রু মার্মাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাঙ্গালহালিয়াতে ধানখেতে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজা, ফসলের সমৃদ্ধি কামনায় (‘অবংমা ছোঁয়া’)

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়ায় পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ধানখেতে লক্ষ্মীপূজা (অবংমা ছোঁয়া) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের ধানজমিতে এ পূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজাটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মংথুইপ্রু মারমা একজন মঘা শাস্ত্রীয় জ্যোতিষবিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁর পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজায় ধানখেতের ফসলের সমৃদ্ধি, ভালো ফলন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করা হয়। পূজার অংশ হিসেবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ডদান করা হয়। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ভিক্ষুদের দান প্রদান এবং পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়।

পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষি, প্রকৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ধানচাষ পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবিকা ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ধানখেতে ভালো ফলন, ফসলের সুরক্ষা এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় এ ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

পরিবারটির আয়োজনে প্রতিবছর এ পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করার পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।

মংথুইপ্রু মারমা বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমাদের পরিবারের ধানজমিতে লক্ষ্মীপূজা বা অবংমা ছোঁয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। আমরা ধানখেতের ভালো ফলন, ফসলের সমৃদ্ধি এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পূজার পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘদের পিণ্ডদান করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দান ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে চলে আসা ঐতিহ্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও টিকে থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্য তাঁদের জীবনযাপন, বিশ্বাস ও সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে পালিত বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজস্থলীর হেডম্যান পাড়ায় মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের ধানখেতে আয়োজিত লক্ষ্মীপূজা (অবংমা ছোঁয়া) এবং ভিক্ষুদের পিণ্ডদান সেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্য চর্চারই একটি দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁরা ধর্মীয় রীতিনীতি পালন এবং নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন।

×