পানছড়িতে মণিপুর বনবিহারে ১ ও ২ নভেম্বর ২দিন ব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব অনুষ্ঠিত
ছন্দ সেন চাকমা :
পানছড়ির মণিপুর বনবিহারে গত ১ ও ২ নভেম্বর, রবি এবং সোমবার অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বনবিহারে ২৫৭০ বুদ্ধাব্দের এই উৎসবে এলাকার বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা ও পুণ্যার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
উৎসবে দ্বিতীয় পর্বে (বেলা ১:০০ টা থেকে ৪:৩০ টা পর্যন্ত) বিভিন্ন ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানটির শুরুতে শোভাযাত্রাসহ শুভ কঠিন চীবর আনয়ন ও যথাস্থানে রাখা হয়, যেখানে দায়িত্ব পালন করেন বাবু মঙ্গল জ্যোতি চাকমা ও বাবু পলভ্যা চাকমা। এরপর ভিক্ষু সংঘ ও শ্রামন সংঘকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে অনুষ্ঠান মঞ্চে বরণ করে নেওয়া হয়। মিস সুপিতি চাকমার ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে।

পরবর্তীতে ত্রিংশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ পর্ব পরিচালিত হয়। প্রার্থনা লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিস জ্যোতিকা চাকমা ও মিস প্রমি চাকমা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া শ্রদ্ধাদান উত্তোলন (প্যাগোডা ও বিহার উন্নয়ন) কার্যক্রমে ৩০ জন উপাসক যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পুণ্যময় কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান, অট্ঠপরিষ্কার দান, বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দান, সীবলী ভান্তের প্রতিবিম্ব দান, উপগুপ্ত ভান্তের প্রতিবিম্ব দান, সংঘ দান এবং হাজার প্রদীপ দানসহ নানাবিধ দান অনুষ্ঠিত হয়। পানি ঢালা পর্বে মণিপুর বনবিহারের সভাপতি বাবু বকুল চন্দ্র চাকমা ও অন্যান্য উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে অমৃতময় ধর্মোপদেশ প্রদান করেন রাজ বন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বন ভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞা লংকার মহাস্থবির মহোদয় শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির, শ্রীমৎ ব্রম্মদত্ত মহাস্থবির শ্রীমৎ আর্য্যশ্রী মহাস্থবির, শ্রমৎ আদিকল্যান মহাস্থবির।

বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় পুণ্যীয় ভিক্ষু সংঘের সমীপে আশীর্বাদ প্রার্থনাপত্র পাঠ করেন পূজগাং মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের মিস তেজর্ষি চাকমা। পরিশেষে বিশ্বশান্তি কামনার মধ্য দিয়ে এবং তিনবার “সাধু, সাধু, সাধু” ধ্বনিতে এই ধর্মীয় উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।

| ৪ নভেম্বর ২০২৬













