| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি এলাকায় সরকারি লিজকৃত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে মালিক সেজে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ‘স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

দুদকের রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিলছড়ি গ্রামে অবস্থিত স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে সরকারি জমি লিজ নেওয়ার কোনো বৈধ রেকর্ডপত্র নেই। অথচ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খান প্রকৃত তথ্য গোপন করে ও নথিপত্র জালিয়াতি করে নিজেকে ভূমির মালিক দাবি করেন।

​২০১৫ সালে আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য ওই এলাকা থেকে ২২ দশমিক ১৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসন ৮ দশমিক ০৯ একর জমির জন্য ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৮ সালের ২ জুলাই হাসান মাহমুদ খান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানাটি গঠিত হলেও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন মালিকরা দেশত্যাগ করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে মরহুমা আছিয়া খানম নিজেকে কারখানার মালিক দাবি করে কারখানার জমি ‘শেল অয়েল কোম্পানি’কে সাব-লিজ দিয়ে অবৈধ অর্থ আয় শুরু করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯১ সালে আছিয়া খানমের মৃত্যুর পর তার পুত্র হাসান মাহমুদ খান কারখানার সব যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও মালামাল বিক্রি করে দেন এবং কারখানাকে অস্তিত্বহীন করে তোলেন। তবুও তিনি নিজেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করেন।

শিলছড়ির বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিনু মারমা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাফর আহমদ স্বপন জানান, ওই এলাকায় ১১৪টি ভূমিহীন পরিবার ৪০ থেকে ৬০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের বসতভিটা, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও খেলার মাঠসহ নাগরিক সুবিধা রয়েছে। হাসান মাহমুদ খান ভুয়া মালিকানা দাবি করে এসব পরিবারের ওপর উচ্ছেদ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।​ভুক্তভোগী ১১৪টি পরিবার তাদের বসতভিটা রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেছেন এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সিভিল স্যুট (নং-৮৮/১৯) চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আদালত হাসান মাহমুদ খানের মামলা খারিজের আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে তিনি সিভিল আপিল (নং-২০/২০২৫) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।ভুক্তভোগীদের আইনজীবিদের তথ্যমতে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালিয়েও স্টারলিং প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ দাখিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে কারখানাটির কোনো অস্তিত্বই নেই, সেখানে মালিক সেজে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রের সাথে চরম প্রতারণা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।দুদকের মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২০১, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ খানকে কোনো প্রকার সরকারি অর্থ যেন প্রদান করা না হয়। রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিলছড়িবাসী।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

কাপ্তাইয়ে সরকারি জমি জালিয়াতি ; মালিক সেজে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×