| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

অনাথ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আশ্রয়দান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক সেবায় এক অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে ‘পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন’। আর্তমানবতার সেবায় ব্রত এই প্রতিষ্ঠানটি এবার কাপ্তাইয়ের ১০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

​শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ভাইবোনছড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সংসার চালানো যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই তাদের সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের পরিচালনা পর্ষদের নজরে আসে। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এই ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

দেশি ও বিদেশি দাতা সংস্থার অনুদান সংগ্রহ করে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অধ্যক্ষ ও সভাপতি ভদন্ত দেব তিষ্য ভিক্ষুর নেতৃত্বে এই মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ লিটার সরিষার তেল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম লবণ, বড় এক প্যাকেট নুডলস এবং একটি করে সাবান প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু সুজয় বিকাশ চাকমা, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অর্থ সম্পাদক বুদ্ধ ধন চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুখ ময় তঞ্চঙ্গ্যা, অত্র এলাকার গ্রাম প্রধান (কার্বারী) গান্ধি লাল চাকমা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন পালবার লিং সেন্টারের একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক।

ত্রাণ বিতরণ শেষে আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও মানবিক এ ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×