| ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​”ডিজিটাল যুগে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা: তথ্য বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় তথ্য অধিকারের ভূমিকা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের ‘কিন্নরী’ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা শেষে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বরইছড়ি মূল ফটক ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

কানাডা সরকারের অংশীদারিত্বে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত সিভিক এনগেইজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর আওতায় ‘এম্পাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের সহযোগিতায় এবং আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েটস-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলামের প্রধান অতিথি ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফরহাদ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন এবং ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরঞ্জীত তঞ্চঙ্গ্যা।এম্পায়ারমেন্ট প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা যতি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সিসিএম (CCM) সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিশৃঙ্খলা বা অপপ্রচার রোধে তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা বিশেষ জোর দেন।

বিলাইছড়িতে বিএনপির উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের গুপ্ত তৎপরতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিলাইছড়িতে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকিরের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিলাইছড়ি উপজেলার পল্টন ঘাট থেকে শুরু হয়ে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক খাঁ, সহ-সভাপতি ইমাম হাসান শিকদার, সহ-সভাপতি শামশু তঞ্চঙ্গ্যা, যুগ্ম সম্পাদক জয়সিন্ধু চাকমা, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ধনমুনি চাকমা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিমসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তিন শতাধিক পরিবারকে বিনামুল্য দিল দীঘিনালা জোন

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে মুঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা ইউনিয়নের ফ্রেশ বাজার এলাকায় দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল আমিন পিএসসি নির্দেশনায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।

এতে তিন শতাধিক অসহায় পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে অনেক সময় অর্থ ও যাতায়াতের সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বাড়ির কাছাকাছি বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

দীঘিনালা জোনের ক্যাপ্টেন মু: শায়খউদ্দীন সাকলাইন বলেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কুকি-চিনের এক সদস্যের আত্মসমর্পণ ; ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনে

ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের প্রত্যয়ে কাপ্তাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত

 

বান্দরবান, রুমা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের সশস্ত্র জীবনের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সদস্য। পরিবারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের আওতাধীন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণের পর ওই সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আত্মসমর্পণকারী ওই সদস্য জানান, তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ কেএনএফের সদস্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সেখান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিবারের সহযোগিতায় ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের কাছে গতকাল আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

একই সঙ্গে কেএনএফের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদেরও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানান আত্মসমর্পণকারী এই সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালের পর থেকে সংগঠনটির তৎপরতা পার্বত্য এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা ৩৮ ইস্ট বেঙ্গল বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া বম জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে কাজ করছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন মানবিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এমন উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

×