| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদীর উজানে তুরুর্গু স্বং এখন যেন মৃত্যুর ফাঁদ। প্রবল স্রোতের ধাক্কায় নদীর পাড় ভাঙছে, তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন। ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথেই বাধ্য হয়ে চলাচল করছেন রেমাক্রী ইউনিয়নে বড়মদুকের হাজারো মানুষ। সাম্প্রতিক সময়েও তীব্র স্রোতে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে দ্রুত পাথরগুলো অপসারণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম নৌপথ। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার-সদাই থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে তাদের সাঙ্গু নদীপথ ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক—নৌকাডুবি ও প্রাণহানির শঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ের পাড়ি দিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ২০২৪ সালে বর্ষামৌসুমে ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর উজানে পাহাড় ধ্বস ও গতিপথে পরিবর্তনের বিভিন্ন স্থানের সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও গভীর খাদ। তুরুর্গু স্বং এলাকায় একটি গিরিখাতের পাহাড় ধ্বসের নদীর তলদেশে বিশাল বড় পাথর স্তূপ জমে নৌযান চলাচল এখন হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথ দিয়েই প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে রেমাক্রী ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করছেন। নদীর ভয়ংকর স্রোত ও ভাঙনের মধ্যেই কোনো ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই নৌকা চলছে। ফলে সামান্য ভুল বা নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারালেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালক মংমংসে মারমা ও ওয়াইন মংসিং মারমাসহ অনেকেই জানান, বর্ষায় ভয়াল স্রোতে জায়গাটি হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। বিশাল পাথরের কারণে শুষ্ক মৌসুমেও নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ভুল বা স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারালেই পাথরে আছড়ে পড়ে মুহূর্তেই নৌকা ডুবে ঘটতে পারে প্রাণহানি।

স্থানীয় বাসিন্দা মংমে মারমা, জিনিঅং মারমা ও চসিংমং মারমাসহ অনেকেই বলছেন, স্রোত কমলেও বিপদ কাটেনি। তুরুর্গু স্বংয়ে বুকজুড়ে বিশাল পাথর—বন্ধ নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক পথ। পাথরের কারণে বদলে গেছে গতিপথ, ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের নৌযাত্রা। পাথরগুলো অপসারণ করা হলেই খুলতে পারে পুরোনো নৌ চলাচলের পথ। দ্রুত সংস্কার কিংবা পাথরগুলো অপসারণে জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পাবর্ত্য মন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তারা।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) জানান, তুরুর্গু স্বংয়ে কয়েকটি বিশাল পাথর পড়ে থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন ঘটে। এতে নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি পার্বত্য মন্ত্রীর কাছে জানিয়ে সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে। পাথরগুলো সরানো বা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা গেলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে এনে পুনরায় নির্বিঘ্নে নৌযান চলাচল সম্ভব হবে।

বান্দরবান জোনের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, ২০২৪ সালে বড়মদুক এলাকায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেখানে এখন নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আমাদের টহল দলের নৌকাও এখানে ডুবে যায়। খরস্রোতে তলিয়ে যাওয়া অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধারে সময় লেগেছে পুরো চার দিন। তিনি আরো বলেন, ১৭ ইসিবিসহ যৌথভাবে বড় পাথরগুলো অপসারণ করে নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী জানুয়ারিতে পানি কমলে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগঝুঁকি কমবে এবং নৌ চলাচলও স্বাভাবিক হবে।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×