| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তনের আশা

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তনের আশা

 

বিশেষ প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

পাহাড়ি ঝুম চাষ বা শিফটিং এগ্রিকালচার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যবাহী এবং প্রধান কৃষি পদ্ধতি। এটি কেবল তাদের জীবিকার উপায় নয়, পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জুম চাষের পুরো প্রক্রিয়াটি ঋতুচক্রের সাথে আবর্তিত হয়। নীচে এর মূল পদক্ষেপ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হল :

🌾 জাম চাষের প্রধান ধাপ-

পাহাড় নির্বাচন এবং বন কাটা (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি): সাধারণত বছরের শুরুতে জুম চাষের উপযোগী পাহাড় নির্বাচন করা হয়। তারপর পাহাড়ি ঢালের গাছপালা ও ঝোপ কেটে রোদে শুকানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়।

পোড়ানো এবং জমি তৈরি (মার্চ-এপ্রিল) : শুকনো গাছপালা এবং লতাগুলিকে আগুন দেওয়া হয়। এই আগুনের ছাই মাটির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টির আগে জুম জমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়।

বীজ বপন (এপ্রিল – মে) : এটি জাম চাষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। পাহাড়ি মহিলারা তাদের পিঠে ‘তুরুং’ (বাঁশের ঝুড়ি) বেঁধে একটি দা দিয়ে মাটিতে ছোট গর্ত করে এবং ধান, তুলা, মারফা (পাহাড়ি শসা), তিল, ভুট্টা, মরিচ এবং বিভিন্ন শাকসবজির বীজ বপন করে।

পরিচর্যা ও ফসল কাটা (জুলাই-নভেম্বর) : বর্ষাকালে ফসল কাটা হয়। মারফা, ভুট্টা ও সবজি সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসের দিকে পাকে। আর প্রধান ফসল—পাহাড়ি ধান—সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পাকা শুরু হয়। ফসল কাটার পর পাহাড়ে শুরু হয় নবান্ন উৎসব।

ঐতিহ্যবাহী ‘জুম ঘর’ (মাচাং ঘর) : জুম চাষের সময় পাহাড়ের চূড়ায় বাঁশ ও খড়ের ওপর তৈরি করা হয় এক ধরনের অস্থায়ী মাচাং ঘর, যার নাম ‘জুম বাড়ি’।

এটি বন্য প্রাণী থেকে ফসল রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
গরম বিকেলের রোদ বা বৃষ্টিতে জুমিয়ারা এখানে বিশ্রাম নেয় এবং দুপুরের খাবার খায়।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তন অতীতের তুলনায় আজ জাম চাষে বেশ কিছু পরিবর্তন ও

চ্যালেঞ্জ রয়েছে : জমির স্বল্পতা এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস: আগে একটি পাহাড়ে জাম চাষের পরে এটি 10-এর জন্য পতিত ছিল।১৫ বছর যাতে প্রকৃতি তার নিজের উর্বরতা ফিরে পায়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পাহাড় ধসে যাওয়ায় এখন ৩-৪ বছরের মধ্যে একই পাহাড়ে আবার চাষ করতে হচ্ছে। ফলস্বরূপ, মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং ফলন আগের মতো নেই।

পরিবেশগত প্রভাব : ঘন ঘন জুম চাষের ফলে পাহাড়ের চূড়ার উর্বর মাটির ক্ষয় হয়, যা ঝিরি বা রিমের উর্বরতা হ্রাস করে।

জুমেইরা মিশ্র চাষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে: অনেক পাহাড়ি কৃষক এখন ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ থেকে স্থায়ী ফলের বাগানে (যেমন আম, লিচু, আনারস, কাজু, কফি) এবং আদা-হলুদ-এ চলে যাচ্ছে।

একটি সুন্দর ঐতিহ্য : জুম চাষ মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাইং’ বা ত্রিপুরা ও চাকমাদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের গান এবং সংস্কৃতির সাথে জড়িত। পাহাড়ের গায়ে সোনালী ঝুমঝুম যখন বাতাসে দোল খায়, তখন পাহাড়ের রূপ সত্যিই দেখার মতো।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তনের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তনের আশা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি সংগ্রামী জীবন বাস্তব বৈচিত্র্যের রূপ পরিবর্তনের আশা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×